নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক সহিংসতা ও সাংবাদিকদের ওপর হামলা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশে রাজনৈতিক সহিংসতা ও সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ফেব্রুয়ারির প্রথম ১০ দিনেই অন্তত ৪৭ জন সাংবাদিক সহিংসতার শিকার হয়েছেন। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আসক এই উদ্বেগজনক তথ্য প্রকাশ করে।
রাজনৈতিক সহিংসতার পরিসংখ্যান
আসকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ১ থেকে ১০ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সারা দেশে ৫৮টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় অন্তত ২ জন নিহত এবং ৪৮৯ জন আহত হয়েছেন। সংস্থাটি জানায়, জানুয়ারির শেষ ১০ দিনে ৪৯টি সহিংসতায় ৪ জন নিহত ও ৪১৪ জন আহত হয়েছিলেন। সেই তুলনায় ফেব্রুয়ারিতে সহিংসতার মাত্রা আরও তীব্র হয়েছে।
এছাড়া জানুয়ারির ১ থেকে ১০ তারিখের মধ্যে রাজনৈতিক সহিংসতার আটটি ঘটনায় পাঁচজন নিহত ও ২৬ জন আহত হন। ১১ থেকে ২০ জানুয়ারির মধ্যে ১৮টি ঘটনায় দুইজন নিহত ও ১৭৬ জন আহত হন।
সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা
নির্বাচনকালীন সংবাদ সংগ্রহের কাজে নিয়োজিত সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে বলে জানিয়েছে আসক। তাদের বিশ্লেষণে দেখা যায় ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ১১ জন সাংবাদিক হামলার শিকার হন। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে সংখ্যাটি বেড়ে দাঁড়ায় ১৬ জনে। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির প্রথম ১০ দিনেই অন্তত ৪৭ জন সাংবাদিক হামলার শিকার হয়েছেন।
আসক বিশেষ উদ্বেগের সঙ্গে উল্লেখ করে যে, গত ৭ ফেব্রুয়ারি অনলাইন সংবাদমাধ্যম ‘বাংলাদেশ টাইমস’-এর ২১ জন সাংবাদিককে তাদের কর্মস্থল থেকে একটি সেনা ক্যাম্পে নিয়ে প্রায় দুই ঘণ্টা আটকে রাখা হয়, যা মুক্ত সংবাদপত্রের অন্তরায়।
নির্বাচনী পরিবেশ ও আহ্বান
সংস্থাটির বিশ্লেষণে দেখা গেছে, নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, রাজনীতি তত বেশি সংঘাতময় হয়ে উঠছে। সহিংসতার এই ঊর্ধ্বমুখী ধারা এবং সাংবাদিকদের ভয়ভীতি প্রদর্শন একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের অন্তরায়।
আসক সংবিধান অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে আইনের শাসন বজায় রাখা এবং প্রতিটি নাগরিকের জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতার অধিকার নিশ্চিতের আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে আসন্ন নির্বাচনে ভোটাররা যাতে অবাধ ও নিরাপদে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সেই পরিবেশ নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছে সংস্থাটি।
