ফিলিপাইনে সমকামী দম্পতির সম্পত্তির মালিকানা স্বীকৃতি: সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক রায়
ফিলিপাইনের সুপ্রিম কোর্ট একটি যুগান্তকারী রায়ে এক সমকামী দম্পতিকে সম্পত্তির মালিকানার আইনি স্বীকৃতি প্রদান করেছে। এই সিদ্ধান্তটি দেশটির প্রথাগত ক্যাথলিক সমাজে এলজিবিটিকিউ অধিকার রক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে। ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি এ খবরটি প্রথমবারের মতো প্রকাশ করেছে, যা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
রায়ের মূল বক্তব্য ও প্রেক্ষাপট
সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছে যে, যদি কোনো সম্পত্তি অর্জনে উভয় পক্ষ অর্থ বা শ্রমের মাধ্যমে অবদান রাখে, তবে তারা সেই সম্পত্তির মালিকানা ভাগাভাগি করার অধিকার রাখে। এই রায়টি মঙ্গলবার ঘোষণা করা হয়, যা ফিলিপাইনের আইনি ব্যবস্থায় একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। দেশটি একটি ঐতিহ্যবাহী ক্যাথলিক রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিত, যেখানে সমকামী বিবাহ আইনগতভাবে অনুমোদিত নয় এবং তালাকও বৈধতা পায়নি। ফলে এলজিবিটিকিউ পরিচয়ধারী যুগলরা দীর্ঘদিন ধরে সম্পত্তি, আর্থিক সুরক্ষা ও চিকিৎসাসেবা সংক্রান্ত আইনি অধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল।
মামলার বিস্তারিত বিবরণ
এই রায়টি ম্যানিলার শহরতলী এলাকায় বসবাসকারী এক সমকামী প্রাক্তন নারী দম্পতির মধ্যে উদ্ভূত বিবাদের প্রেক্ষিতে প্রদান করা হয়েছে। দম্পতির একজন তাদের যৌথ বাসস্থান বিক্রির জন্য প্রাথমিকভাবে সম্মতি দিলেও পরে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেন, যা অপর পক্ষকে নিম্ন আদালতে সম্পত্তি ভাগাভাগির আবেদন করতে বাধ্য করে। আদালত প্রথমে এই আবেদনটি নাকচ করে দেয় এবং কোর্ট অফ আপিলেও এই সিদ্ধান্ত বহাল থাকে।
তবে ৫ ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্ট নিম্ন আদালতের রায় বাতিল করে নতুন নির্দেশনা জারি করে। আদালত প্রমাণ পেয়েছে যে, দম্পতির একজন তার অংশের ৫০% ক্রয় ও সংস্কার খরচ বহন করেছিলেন, যা অপর পক্ষ স্বীকার করেছেন। যেহেতু তারা বিবাহিত বা রক্ত সম্পর্কযুক্ত ছিলেন না, তাই সম্পত্তি শুধুমাত্র এক পক্ষের নামে নথিভুক্ত করা হয়েছিল।
আইনি ভিত্তি ও ভবিষ্যৎ প্রভাব
সুপ্রিম কোর্ট ফ্যামিলি কোডের ১৪৮ ধারা উদ্ধৃত করে জানিয়েছে যে, যারা বৈধভাবে বিবাহ করতে অক্ষম, তাদের সম্পত্তি সম্পর্কের ওপর ভিত্তি করেই নির্ধারিত হবে এবং লিঙ্গের ভিত্তিতে কোনো বৈষম্য করা যাবে না। কোর্টের মতে, এই ধারা সমকামী জুটির ক্ষেত্রেও সমানভাবে প্রযোজ্য। আদালত সরকার ও আইনপ্রণেতাদেরকে সমকামী জুটির অধিকার নিশ্চিত করার জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নিতে অনুরোধ করেছে, যা ভবিষ্যতে আরও ব্যাপক আইনি সংস্কারের দিকে ইঙ্গিত করে।
এই রায়টি ফিলিপাইনের সমাজে এলজিবিটিকিউ সম্প্রদায়ের জন্য আশার আলো হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা তাদের আইনি সুরক্ষা ও সামাজিক স্বীকৃতির পথ প্রশস্ত করতে পারে। এটি বিশ্বব্যাপী মানবাধিকার ও সমতা আন্দোলনেও একটি উল্লেখযোগ্য সংযোজন বলে বিবেচিত হচ্ছে।
