২০২৬ বিশ্বকাপ গ্রুপ ডি: এক নজরে
৪৮ দলের বিশ্বকাপের ১২ গ্রুপের মধ্যে গ্রুপ ডি একটু ব্যতিক্রম। কারণ এই গ্রুপের প্রতিটি দলই শক্তিশালী। স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র ঘরের মাঠের সুবিধা পাবে। ২৪ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরেছে তুরস্ক, তাদের সোনালি প্রজন্ম নিয়ে। ফিজিক্যাল ফুটবলের জন্য পরিচিত প্যারাগুয়ে এবং এশিয়ার পরাশক্তি অস্ট্রেলিয়াও রয়েছে এই গ্রুপে।
যুক্তরাষ্ট্র: ঘরের মাঠের ফেভারিট
যুক্তরাষ্ট্র ১৯৯৪ সালে নিজেদের মাটিতে বিশ্বকাপ আয়োজন করেছিল। সেবার তারা শেষ ষোলোতে পৌঁছেছিল। এরপর থেকে দেশটির ফুটবল অনেক এগিয়েছে। এখন তাদের খেলোয়াড়রা ইউরোপের সেরা ক্লাবে খেলেন। ক্রিস্টিয়ান পুলিসিচ এসি মিলানে, মালিক টিলম্যান বায়ার লেভারকুসেনে এবং ফোলারিন বালোগান মোনাকোতে। বর্তমান প্রজন্মকে যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবলের সেরা প্রজন্ম বলা যায়।
দলের কোচ মরিসিও পচেত্তিনো একজন অভিজ্ঞ কোচ। তিনি টটেনহ্যাম, প্যারিস সেন্ট-জার্মেই ও চেলসিতে কাজ করেছেন। তবে জাতীয় দল কোচিং তার জন্য নতুন অভিজ্ঞতা। তার সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো সঠিক গঠন খুঁজে পাওয়া। শেষ ৪ ম্যাচে তিনি ৩টি ভিন্ন ভিন্ন ছকে দলকে খেলিয়েছেন। এই ঘন ঘন পরিবর্তন ইঙ্গিত দেয় যে কোচ নিজেই নিশ্চিত নন কোন গঠন সেরা। এছাড়া বেলজিয়ামের কাছে ৫-২ এবং পর্তুগালের কাছে ২-০ গোলে হেরেছে দলটি। ফলে প্রস্তুতি নড়বড়ে বলে মনে হচ্ছে।
আক্রমণভাগ
মোনাকোর স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগান শেষ মৌসুমের দ্বিতীয়ার্ধে ফরাসি লিগে দুর্দান্ত ফর্মে ছিলেন। তিনি গোল করতে পারেন, বল ধরে রাখতে পারেন এবং দলের সাথে সংযোগ তৈরি করতে পারেন। যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্রাইকার পজিশনে দীর্ঘদিনের শূন্যতা পূরণ করছেন বালোগান। তার সবচেয়ে বড় শক্তি হলো ছুটে এসে সঠিক জায়গায় থাকা। ডিফেন্ডাররা তাকে মার্ক করলেও তিনি সুযোগ তৈরি করতে পারেন। মালিক টিলম্যান বুন্দেসলিগার সেরা দলগুলোর একটিতে খেলেন। তিনি বল বহন করে সামনে এগিয়ে যান এবং প্রতিপক্ষের রক্ষণে ফাঁকা জায়গা তৈরি করেন। তার উপস্থিতি পুলিসিচের উপর চাপ কমায়। দুজন একসাথে থাকলে প্রতিপক্ষকে দুটি হুমকি সামলাতে হয়।
মিডফিল্ড
ওয়েস্টন ম্যাককেনি দলের মাঝমাঠের মেরুদণ্ড। তিনি রক্ষণাত্মক কাজ করতে পারেন, আবার প্রয়োজনে সামনেও যেতে পারেন। টাইলার অ্যাডামস রক্ষণাত্মক মিডফিল্ডে বড় ভরসা। তার কাজ ম্যাককেনিকে আক্রমণে যাওয়ার স্বাধীনতা দেওয়া। তাদের সামনে থাকবেন অধিনায়ক ও অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার ক্রিস্টিয়ান পুলিসিচ। এসি মিলানে থাকা পুলিসিচ শেষ মৌসুম ভালো কাটাতে পারেননি। জাতীয় দলের হয়ে ৮ ম্যাচে গোল নেই, ক্লাবের হয়েও চলতি বছর গোল পাননি। তিনি একেবারেই ছন্দে নেই। বিশ্বকাপের আগে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন তিনি ফর্মে ফিরবেন কিনা। যদি ফিরতে পারেন, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের অনেক সমস্যার সমাধান মিলে যাবে।
রক্ষণভাগ
গোলরক্ষক ম্যাট ফ্রিজ এই বিশ্বকাপ সাইকেলে নিয়মিত গোলকিপার হয়েছেন। তিনি ম্যাট টার্নারকে পেছনে ফেলে প্রথম পছন্দ হয়েছেন। শট থামানোর দক্ষতায় তিনি নির্ভরযোগ্য। কিন্তু বিশ্বকাপের মতো বড় টুর্নামেন্টে টানা চাপ সামলাতে পারবেন কিনা সেটাই প্রশ্ন। ক্রিস রিচার্ডস ক্রিস্টাল প্যালেসে প্রিমিয়ার লিগে দারুণ সিজন কাটিয়েছেন। তিনি রক্ষণের নেতৃত্ব দেবেন। বেলজিয়াম ম্যাচে তিনি চোটে ছিলেন, তবে ফিটনেস ফিরবে বলে আশা করা হচ্ছে। ৩৭ বছর বয়সী টিম রিমের অভিজ্ঞতা আছে, কিন্তু গতি কমে গেছে। অ্যান্টনি রবিনসন লেফট ফ্ল্যাঙ্কে সেরা অপশন। তিনি আক্রমণে ওঠেন এবং রক্ষণেও ফিরে আসেন দ্রুত। টিমোথি উইয়াহ ও রবিনসনের উপস্থিতি দুই ফ্ল্যাঙ্কে দলকে জায়গা তৈরি করে দেয়।
সম্ভাব্য একাদশ
- গোলকিপার: ফ্রিজ
- রক্ষণ: রিচার্ডস, ট্রাস্টি, ম্যাকেঞ্জি
- মিডফিল্ড: উইয়াহ, ম্যাককেনি, অ্যাডামস, রবিনসন
- আক্রমণ: টিলম্যান, বালোগান, পুলিসিচ
চ্যালেঞ্জ
পুলিসিচ দীর্ঘদিন ধরে ফর্মে নেই, এটি কোচ পচেত্তিনোর বড় চ্যালেঞ্জ। রক্ষণে দীর্ঘ চাপ সামলানোর ক্ষমতা নেই, যা প্যারাগুয়ের মতো দলের বিপক্ষে বিপদ ডেকে আনতে পারে। শেষ ৪ ম্যাচে ৩ ফরমেশন ব্যবহার করেছে দলটি; প্ল্যান এ এখনও ঠিক হয়নি।
প্যারাগুয়ে: শক্ত রক্ষণ ও কাউন্টার অ্যাটাক
প্যারাগুয়ে ২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় কোয়ার্টার ফাইনালে গিয়েছিল, যা তাদের সেরা বিশ্বকাপ সাফল্য। এরপর ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২২ সালে বাছাইপর্ব থেকেই বাদ পড়েছিল। এবার ১৬ বছর পর তারা ফিরছে। ২০২৪ কোপা আমেরিকায় তারা তিন ম্যাচেই হেরেছিল। তখন আর্জেন্টিনার কোচ আলফারোকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। আলফারো মাত্র কয়েক মাসে পুরো দল বদলে দেন। তার অধীনে দল ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা ও উরুগুয়েকে হারিয়েছে, টানা ৮ ম্যাচ অপরাজিত থেকেছে। দলটি রক্ষণকে প্রাধান্য দেয়। বাছাইপর্বে ১৮ ম্যাচে মাত্র ১৪ গোল করেছে, যা সরাসরি বিশ্বকাপ নিশ্চিত করা দলগুলোর মধ্যে সর্বনিম্ন। হজম করেছে মাত্র ১০ গোল।
আক্রমণভাগ
মিগেল আলমিরন প্যারাগুয়ের আক্রমণের নিউক্লিয়াস। তিনি গতিশীল, টেকনিক্যাল এবং অক্লান্ত পরিশ্রমী। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে নিজেকে প্রমাণ করেছেন। তার সবচেয়ে বড় শক্তি কাউন্টার অ্যাটাকে গতি। বল পেয়ে তিনি চোখের পলকে প্রতিপক্ষের রক্ষণে ঢুকে যান। তার সঙ্গে হুলিও এনসিসো আছেন, যিনি স্ট্রাসবুর্গের হয়ে ফরাসি লিগে খেলেন। মাত্র ২০-২১ বছর বয়সী এই খেলোয়াড় দলের গোপন অস্ত্র হতে পারেন। দূরপাল্লার শট তার বড় শক্তি। আন্তোনিও সানাব্রিয়া ফিজিক্যাল স্ট্রাইকার, যা কোচ আলফারোর পছন্দ। তিনি বল হোল্ড করে রাখতে পারেন, ডিফেন্ডারদের টেনে আনেন এবং অন্যদের জন্য জায়গা তৈরি করেন। আলমিরন ও এনসিসো তার কারণে বেশি সুযোগ পেতে পারেন।
মিডফিল্ড
দিয়েগো গোমেজ বক্স-টু-বক্স মিডফিল্ডার। বল কেড়ে নিয়ে আক্রমণেও সরবরাহ করেন। তিনি আলমিরন ও এনসিসোর সংযোগ তৈরি করেন। আন্দ্রেস কুবাস ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডের প্রাণ। রক্ষণের সামনে দাঁড়িয়ে প্রথম বাধা তৈরি করেন।
রক্ষণভাগ
গুস্তাভো গোমেজ রক্ষণের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় ও দলের নেতা। এরিয়াল ডুয়েলে অসাধারণ। কর্নার ও ফ্রি কিকে বিপক্ষের স্ট্রাইকারদের আটকে রাখতে পারেন। তার উপস্থিতিতে পুরো রক্ষণ আত্মবিশ্বাসী থাকে। তার সঙ্গে ওমার আলদেরেতে আরও কৌশলী ভূমিকা নেন। দুজনের জুটি দক্ষিণ আমেরিকার বাছাইপর্বে প্রমাণিত।
সম্ভাব্য একাদশ
- গোলকিপার: ফার্নান্দেজ
- রক্ষণ: কাসেরেস, আলদেরেতে, জি. গোমেজ, আলোনসো
- মিডফিল্ড: বোবাদিলা, কুবাস
- আক্রমণ: এনসিসো, ডি. গোমেজ, আলমিরন
- স্ট্রাইকার: সানাব্রিয়া
চ্যালেঞ্জ
মিগেল আলমিরনের বয়স ৩২। গ্রুপ পর্বের ৩ ম্যাচে ৯০ মিনিট করে খেলালে তার ফিটনেস বড় ইস্যু হতে পারে। স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে ম্যাচে দর্শকদের চাপ সামলাতে হবে।
অস্ট্রেলিয়া: ট্যাকটিক্যালি পরিপক্ব
অস্ট্রেলিয়া টানা ষষ্ঠবারের মতো বিশ্বকাপে খেলছে। ২০০৬ সালে প্রথমবার শেষ ষোলোয় গিয়েছিল। ২০২২ সালে আবার সেই সাফল্য পেয়েছিল, এমনকি আর্জেন্টিনার সাথে চোখে চোখ রেখে লড়েছিল কোয়ার্টার ফাইনালে যাওয়ার লড়াইয়ে। এই প্রজন্মের অস্ট্রেলিয়া অনেক বেশি ট্যাকটিক্যালি পরিপক্ব। কোচ টনি পপোভিচ ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে দায়িত্ব নেন। গ্রাহাম আর্নল্ডের সময় বাছাইপর্বে কিছু সমস্যা হচ্ছিল। পপোভিচ এসে পুরো দলকে স্পষ্ট পরিচয় দিয়েছেন। তার ৩-৪-২-১ গঠনে উইং-ব্যাকরা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তারা আক্রমণেও যান, রক্ষণেও আসেন।
আক্রমণভাগ
নেস্টরি ইরানকুন্ডা অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে বিপজ্জনক খেলোয়াড়। তিনি এখনো টিনেজার, কিন্তু তার মতো প্রতিভা দীর্ঘদিন দেখেনি অস্ট্রেলিয়া। গতি তার বড় শক্তি। তার সঙ্গে মোহামেদ তুরে, যিনি গতি ও মুভমেন্টের জন্য পরিচিত। ইরানকুন্ডার সাথে তার ব্যক্তিগত সম্পর্কও ভালো, যা মাঠে দেখা যায়। উইঙ্গার মার্টিন বয়েল ডিরেক্ট আক্রমণে দক্ষ। দ্রুত ড্রিবলিং করে প্রতিপক্ষের রক্ষণে ঢুকে যান। সেট পিসও নিতে পারেন। জর্ডান বস প্রথাগতভাবে ফরোয়ার্ড নন, কিন্তু লেফট উইংয়ে খেলেন। মার্চ ২০২৬ উইন্ডোতে সবচেয়ে বেশি চমকে দিয়েছেন বস। ক্যামেরুনের বিপক্ষে জয়সূচক গোল করেছেন। ইরানকুন্ডার সাথে অসাধারণ বোঝাপড়া আছে তার। উইং-ব্যাক হলেও স্ট্রাইকারের মতো গোলের সামনে থাকেন। তার সঙ্গে ইরানকুন্ডার বাঁ দিকের জুটি গত ২০ বছরে অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে বিপজ্জনক উইং কম্বিনেশন।
রক্ষণভাগ
ম্যাথু রায়ানের ১০৩টি আন্তর্জাতিক ম্যাচের অভিজ্ঞতা আছে। তিনি তিনটি বিশ্বকাপ খেলেছেন। বড় ম্যাচে শান্ত থাকার ক্ষমতা আছে। ক্যামেরুন ম্যাচে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সেভ করেছেন। সেন্টারব্যাক হ্যারি সাউটার ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে অসাধারণ খেলেছিলেন। এরপর অ্যাকিলিস চোট পেয়েছিলেন। এখন ফিট হয়ে ফিরছেন। তার ফিরে আসা রক্ষণকে শক্তিশালী করবে। এরিয়াল বলে তিনি অপ্রতিরোধ্য। আরেক সেন্টারব্যাক আলেসান্দ্রো সার্কাটি পার্মার হয়ে সিরি আতে দুর্দান্ত পারফর্ম করছেন। অধিনায়ক হিসেবে তিনি রক্ষণকে নির্দেশনা দেন। বলে পায়েও কাজ করতে পারেন। ক্যামেরন বার্গেস ধারাবাহিক ও নির্ভরযোগ্য। অতিরিক্ত কিছু করেন না, কিন্তু ভুলও করেন না।
সম্ভাব্য একাদশ
- গোলকিপার: রায়ান
- রক্ষণ: সার্কাটি, সাউটার, বার্গেস
- মিডফিল্ড: ইতালিয়ানো, মেটকাফ, আরভিন, বস
- আক্রমণ: বয়েল, তুরে, ইরানকুন্ডা
চ্যালেঞ্জ
মোহামেদ তুরে বিশ্বকাপের আগে মার্চ উইন্ডোতে গ্রোয়েন চোটের কারণে খেলতে পারেননি। তার ফিটনেস ফেরা গুরুত্বপূর্ণ। ইরানকুন্ডার বয়স কম, পুরো দেশের প্রত্যাশা তার কাঁধে। বিশ্বকাপের চাপে তাকে জ্বলে উঠতে হবে।
তুরস্ক: সোনালি প্রজন্মের প্রত্যাবর্তন
তুরস্কের বিশ্বকাপের সেরা স্মৃতি ২০০২ সালে, যখন তারা তৃতীয় হয়েছিল। এরপর ২৪ বছর ধরে বিশ্বকাপ মঞ্চে খেলতে পারেনি দলটি। সে খরা কাটিয়ে তুরস্ক ফিরেছে কোচ ভিনসেঞ্জো মন্তেলার হাত ধরে। মন্তেলা ইতালিয়ান কোচ। ইউরো ২০২৪-এর আগে তিনি দায়িত্ব নেন। তার ৪-২-৩-১ গঠন দলের খেলোয়াড়দের সাথে মানানসই।
আক্রমণভাগ
মাত্র ২১ বছর বয়সী আর্দা গুলের তার বয়সের চেয়ে বেশি পরিণত। রিয়াল মাদ্রিদের এই মিডফিল্ডার চাপ সামলাতে জানেন। তার বিশেষত্ব অপ্রত্যাশিত জায়গা থেকে পাস বের করা ও দারুণ ড্রিবল। কোচ মন্তেলা তাকে স্বাধীনতা দেন। গুলের গোটা গ্রুপেরই সবচেয়ে ট্যালেন্টেড খেলোয়াড়। তার সঙ্গে কেনান ইলদিজ আছেন। গুলের ও ইলদিজ একসাথে থাকলে প্রতিপক্ষের রক্ষণকে দুই দিকে ভাবতে হয়। কেরেম আকতুরকোগলু বিশ্বকাপ নিশ্চিত করা গোলটি করেছিলেন কসোভোর বিপক্ষে। তিনি প্রেসিংয়ের জন্য বেশি পরিচিত। সামনে থেকে অক্লান্ত পরিশ্রম করেন, যা গুলের ও ইলদিজকে সুযোগ দেয়।
মাঝমাঠ
হাকান চালহানোগলু তুরস্কের মিডফিল্ডের মস্তিষ্ক। তিনি পুরো দলের ছন্দ নিয়ন্ত্রণ করেন, ফ্রি কিক ও কর্নারে দুর্দান্ত, পেনাল্টিতেও নির্ভরযোগ্য।
রক্ষণভাগ
উগুরকান চাকির কসোভো ম্যাচে ম্যান অফ দ্য ম্যাচ হয়েছেন। ৮৭তম মিনিটে ফিসনিক আসলানির কার্লিং শট থামিয়েছেন। সেই সেভ না হলে তুরস্ক বিশ্বকাপে আসতে পারত না। তিনি বড় মুহূর্তে সেরা ছন্দে থাকেন। তার সামনে সেন্টারব্যাক মেরিহ দেমিরাল ও আব্দুলকেরিম বার্দাকচি। দুজনই শক্তিশালী ডিফেন্ডার। কাদিওগলু তুরস্কের সবচেয়ে গতিশীল ডিফেন্ডার। তিনি আক্রমণে যান এবং দ্রুত ফিরে আসেন।
সম্ভাব্য একাদশ
- গোলকিপার: চাকির
- রক্ষণ: চেলিক, দেমিরাল, বার্দাকচি, কাদিওগলু
- মিডফিল্ড: চালহানোগলু, ইউকসেক
- আক্রমণ: ইলমাজ, গুলের, ইলদিজ
- স্ট্রাইকার: আকতুরকোগলু
চ্যালেঞ্জ
হাকান চালহানোগলু সামনে গেলে পেছনে ফাঁকা পড়ার ঝুঁকি আছে, এটি তুরস্কের প্রধান দুর্বলতা। দুই সেন্টারব্যাক জুটি বিশ্বকাপ স্তরে এখনো পরীক্ষিত নন। ২৪ বছর পর বিশ্বকাপে খেলার আবেগ বেশি হলে ভুল হতে পারে। অভিজ্ঞ কোচ মন্তেলা ভারসাম্য রক্ষার চেষ্টা করবেন।
কে যাবে পরের রাউন্ডে?
যুক্তরাষ্ট্র ফেভারিট, কিন্তু এই তকমা নিশ্চিত নয়। ঘরের মাঠ ও পরিচিত পরিবেশ তাদের পক্ষে। তবে পুলিসিচ গোল পাচ্ছেন না, ফরমেশন ও প্ল্যান এ এখনও ঠিক হয়নি। তবুও তারা সম্ভবত গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হবে, যদিও তুরস্কের বিপক্ষে ম্যাচ কঠিন হবে। তুরস্ক সবচেয়ে বড় চমক দিতে পারে। গুলের, ইলদিজ ও চালহানোগলুর প্রতিভা ও মানসিক দৃঢ়তা তাদের শক্তি, তবে অপরীক্ষিত রক্ষণ ও মাঝমাঠে ফাঁকা দুর্বলতা সত্ত্বেও তারা সম্ভবত দ্বিতীয় হয়ে পরের রাউন্ডে যাবে। প্যারাগুয়ে সংগঠিত রক্ষণ, আলফারোর কৌশল ও আলমিরনের পাল্টা আক্রমণের শক্তি নিয়ে মাঠে নামবে। তবে গোলমুখে ধারহীনতা ও আলমিরন-নির্ভরতা তাদের তৃতীয় স্থানে আটকে রাখতে পারে। তবে অস্ট্রেলিয়াকে হারালে সমীকরণ বদলে যেতে পারে। অস্ট্রেলিয়া ইরানকুন্ডা-বস উইং জুটি ও পপোভিচের স্পষ্ট কৌশল নিয়েও চতুর্থ হওয়ার পথেই আছে। তাদের প্রতিপক্ষ তিনটিই শক্তিসামর্থ্যে এগিয়ে। তবে সামর্থ্যের চেয়ে ভালো খেলার নজির অস্ট্রেলিয়ার আছে। ২০২২ বিশ্বকাপজয়ী আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ম্যাচই প্রমাণ। বিশ্বকাপ শুরুর আগে সম্ভাব্য পজিশন চারে থাকলেও তাদের হিসেবের বাইরে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ হবে না।
এই গ্রুপের চারটি দলই শক্তিসামর্থ্যে কাছাকাছি। ফলে গ্রুপ ডি-র প্রতিটি ম্যাচই রোমাঞ্চের আভাস দিচ্ছে।



