এপ্রিল মাসে রাজনৈতিক সহিংসতা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে মৃত্যুর মতো ঘটনা কিছুটা কমলেও নারী ও শিশু নির্যাতন আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। পাশাপাশি সাংবাদিকদের ওপর হামলা এবং মব সন্ত্রাস বা গণপিটুনির ঘটনাও বেড়েছে। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন (এমএসএফ)। দেশের সামগ্রিক মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।
সংস্থাটির প্রতিবেদনে বলা হয়, এপ্রিলে মব সন্ত্রাস বা গণপিটুনির ঘটনা ঘটেছে ৪৯টি, যা গত মাসের তুলনায় ১৩টি বেশি। এসব ঘটনায় ২১ জন নিহত ও ৪৯ জন আহত হয়েছেন। গত মাসে নিহত হয়েছেন ১৯ জন ও আহত হয়েছেন ৩১ জন। প্রতিবেদনে গত ১২ এপ্রিল মাগুরার মহম্মদপুরে ডিবি পরিচয়ধারীদের নির্যাতনে আকুব্বর নামক এক যুবকের মৃত্যুর ঘটনাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে মৃত্যুর উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া পিরোজপুরে চুরির সন্দেহে ডিবির ওসির কক্ষে এক তত্ত্বাবধায়ককে বৈদ্যুতিক শক ও মোমবাতি দিয়ে অমানবিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে।
এপ্রিলে রাজনৈতিক সহিংসতার ৪৮টি ঘটনায় ৩ জন নিহত এবং ৩০৩ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে সবাই বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলের শিকার। সংস্থাটি জানায়, নারীদের জন্য এপ্রিল মাস ছিল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এ মাসে মোট ৩১২টি নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে, যা আগের মাসের চেয়ে ২৩টি বেশি। এর মধ্যে ধর্ষণের ঘটনা ৫৪টি, যার বড় একটি অংশ শিশু ও কিশোরী। এছাড়া ৮৯ জন নারী ও শিশু হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন, যা গত মাসের তুলনায় ১৬টি বেশি।
সংস্থাটির প্রতিবেদনে বলা হয়, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এ মাসে গুরুতর চাপের মুখে ছিল। ৪৬ জন সাংবাদিক দায়িত্ব পালনকালে হামলা, মামলা ও হুমকির শিকার হয়েছেন। ডিজিটাল বা সাইবার নিরাপত্তা আইনের অপব্যবহারের প্রবণতাও লক্ষ্য করা গেছে। এপ্রিলে এ সংক্রান্ত ৪টি মামলায় ৮ জন নামধারী ও ৯ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।
সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে লালমনিরহাটে ১ জন নিহত ও ১ জন আহত হয়েছেন উল্লেখ করে সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণে গণপিটুনির ঘটনা বেড়েই চলেছে। এছাড়া দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অজ্ঞাতনামা ৫৬ মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।



