লন্ডন বৈঠকেই নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ হয়েছিল: মির্জা ফখরুল
লন্ডন বৈঠকেই নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ: মির্জা ফখরুল

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, লন্ডনে অনুষ্ঠিত বৈঠক নিয়েই বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হচ্ছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক ও গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ওই বৈঠকেই নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ হয়েছিল এবং সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ফেব্রুয়ারির মধ্যে নির্বাচন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।

সংসদে বক্তব্য

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ২৫তম দিনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন। অধিবেশনের সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।

জামায়াতের সমালোচনা

জামায়াতে ইসলামীর প্রতি ইঙ্গিত করে মির্জা ফখরুল বলেন, “আমাদের দুর্ভাগ্য যে ৫ আগস্টের পর তারা (জামায়াত) বলছেন যে, আমাদের চেহারা বদলে গেছে। আমাদের চেহারা বদলায়নি, তারা হঠাৎ করেই বদলে গেলো। হঠাৎ করে মনে হলো যে, তারা ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য একটা ইঙ্গিত পেয়ে গেছেন এবং সবকিছু তৈরি হয়ে গেছে। তখন তারা যেসব উক্তি ও বক্তব্য দিয়েছেন, তা গণতন্ত্রকে সাহায্য করেনি। আজ যে দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছে, তার একটা কারণ ছিল। আপনারা নির্বাচনকে অস্বীকার করছেন, বলছেন ইঞ্জিনিয়ারিং করা হয়েছে। এটা কেউ মেনে নেবে না, দেশের মানুষও মেনে নেবে না।”

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সংবিধানের প্রতি অঙ্গীকার

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, “অভিযোগ উঠেছে আমাদের বিরুদ্ধে, বিশেষ করে সম্মানিত এক সদস্য বলেছেন যে, আমি সংবিধানকে ধরে রাখার জন্য চেষ্টা করেছি এবং বডি ল্যাঙ্গুয়েজ দিয়ে সেটা প্রমাণ করার চেষ্টা করেছি। হ্যাঁ, করেছি। কারণ এই সংবিধান আমাদের অস্তিত্বের সঙ্গে জড়িত, আবেগের সঙ্গে জড়িত। এই সংবিধান ১৯৭১ সালে লাখ লাখ শহীদের রক্তের সঙ্গে জড়িত। এই সংবিধানের অনেকগুলো আর্টিকেল ও অধ্যায় বারবার পরিবর্তন করা হয়েছে, একে কাঁটাছেড়া পাতায় পরিণত করা হয়েছে। এই সংবিধানের জন্য যুদ্ধ করেছি, লড়াই করেছি— এটা স্বাধীন বাংলাদেশের সংবিধান।”

রাষ্ট্রপতি প্রসঙ্গ

রাষ্ট্রপতির বিষয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, “সালাহ উদ্দিন সাহেব অত্যন্ত সত্য কথা বলেছেন। আজকে রাষ্ট্রপতি যেই হোন না কেন, তিনি একটি ইনস্টিটিউশন, কোনও ব্যক্তি নন। একটা প্রতিষ্ঠান, সেই প্রতিষ্ঠানকেই আমরা রক্ষা করেছি আমাদের প্রয়োজনে। কারণ ৫ আগস্টের পরে যদি এই রাষ্ট্রপতি না থাকতেন, তাহলে রাষ্ট্রে অরাজকতা ও নৈরাজ্য সৃষ্টি হতো।”

জুলাই আন্দোলন ও সংস্কার

জুলাই আন্দোলনের উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, “জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের ইতিহাস আমাদের বুকেই ধারণ করি, এই দেশের সব মানুষই ধারণ করে। যখন এই বিষয়গুলো নিয়ে কটাক্ষ করা হয়, তখন আমরাও কষ্ট পাই। লাখো মানুষ যারা সংগ্রাম করেছে, তারাও একইভাবে কষ্ট পায়।” তিনি আরও বলেন, “আমাদের সংস্কার বিরোধী বলে চিহ্নিত করার চেষ্টা করেন, পোস্টার নিয়ে এসেছেন, পার্লামেন্টে বলেছেন আমরা সংস্কার চাই না। অথচ সংস্কারের জনক তো আমরাই।”