নওগাঁয় একই পরিবারের চার সদস্য হত্যা মামলায় আসামির আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি
নওগাঁয় চার খুন মামলায় আসামির আদালতে স্বীকারোক্তি

নওগাঁয় একই পরিবারের চার সদস্য হত্যা মামলায় আসামির আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি

নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলায় একই পরিবারের চারজনকে গলা কেটে হত্যার মর্মান্তিক ঘটনায় অভিযুক্ত আসামি সবুজ রানা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। গতকাল বুধবার বিকেলে নওগাঁ আদালত চত্বরে এই জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার অন্য দুই আসামি শহিদুল মণ্ডল ও শাহিন মণ্ডলকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

আদালতে জবানবন্দি রেকর্ড ও রিমান্ড আবেদন

নওগাঁর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে গতকাল বুধবার বিকেলে আসামি সবুজ রানার জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। বিচারক মোনাবিল হক এই প্রক্রিয়া তদারকি করেন। জবানবন্দি রেকর্ড শেষে সবুজ রানাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অপর দুই আসামি শহিদুল মণ্ডল ও তাঁর ছেলে শাহিন মণ্ডলের পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার এই রিমান্ড আবেদনের শুনানি অনুষ্ঠিত হবে বলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা চাঁদ আলী নিশ্চিত করেছেন।

সম্পত্তি বিরোধের জেরে হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা

জবানবন্দিতে সবুজ রানা উল্লেখ করেন যে, সম্পত্তির ভাগ-বাঁটোয়ারা নিয়ে তিনি ও অন্যান্য আসামিরা ক্ষুব্ধ ছিলেন। নানা নমির উদ্দিনের কাছ থেকে বেশি জমি লিখে নেওয়ায় এই বিরোধের সৃষ্টি হয়। এর আগেও সবুজ রানা তাঁর মামা হাবিবুর রহমানকে হত্যার হুমকি দিয়েছিলেন। পরিকল্পনা করে মামা-মামি ও তাঁদের দুই ছেলে-মেয়েকে হত্যা করা হয়।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ঘটনার দিন সোমবার দুপুরে সবুজ তাঁর মামা হাবিবুরের সঙ্গে গরু কিনতে উপজেলার ছাতড়া হাটে যান। গরু না কিনেই তাঁরা সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরে আসেন। বাজার থেকে ফিরে এসে তাঁর খালু শহিদুল ও খালাতো ভাই শাহিনের সঙ্গে মিলে এই হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা করেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত বর্ণনা

সোমবার রাতে মামার বাড়িতে সবুজ ভাত খান। এ সময় শাহিন অন্যদের অগোচরে বাড়িতে ঢুকে একটি ঘরে লুকিয়ে থাকেন। সবুজ ভাত খেয়ে চলে যান। রাতের খাবার খেয়ে বাড়ির সবাই ঘুমিয়ে গেলে শাহিন বাড়ির মূল দরজা খুলে দেন। এ সময় শহিদুল, সবুজসহ ছয়জন বাড়িতে প্রবেশ করেন। প্রথমেই সবুজ তাঁর নানা নমির উদ্দিনের ঘরের দরজা বাইরে থেকে শিকল দিয়ে আটকে দেন। পরে তাঁরা হাবিবুরের কক্ষে ঢোকেন। সবুজ ও শহিদুল হাবিবুরকে চেপে ধরেন এবং শাহিন ছুরি দিয়ে গলা কেটে হত্যা করেন।

মামি পপি সুলতানা দুই সন্তানকে নিয়ে অন্য ঘরে শুয়েছিলেন। শব্দ পেয়ে পপি ঘর থেকে বের হলে শহিদুল পেছন থেকে হাঁসুয়া দিয়ে মাথায় আঘাত করেন। পরে তাঁকে গলা কেটে হত্যা করেন সবুজ। ঘরের ভেতর ঘুমিয়ে থাকা শিশু পারভেজ ও তার বোন সাদিয়াকে গলা কেটে হত্যা করেন শাহিন ও সবুজ।

ঘটনার পটভূমি ও গ্রেপ্তার

গত সোমবার রাতে নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রামের নমির উদ্দিনের ছেলে হাবিবুর রহমান, তাঁর স্ত্রী পপি সুলতানা এবং তাঁদের সন্তান পারভেজ রহমান ও সাদিয়া আক্তারকে গলা কেটে হত্যা করা হয়। চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের জড়িত অভিযোগে নিহত হাবিবুরের ভগ্নিপতি শহিদুল, ভাগনে শাহিন এবং সবুজ রানাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গতকাল তাঁদের আদালতে নেওয়া হয়।

তদন্ত কর্মকর্তা চাঁদ আলী বলেন, গতকাল বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে গ্রেপ্তার তিন আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। আসামি সবুজ রানা দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিতে রাজি হলে বিচারক মোনাবিল হক তাঁর জবানবন্দি রেকর্ড করেন। এই মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে এবং আইনগত প্রক্রিয়া অব্যাহত আছে।