নরসিংদীতে চকলেটের লোভ দেখিয়ে ৭ বছরের শিশু ধর্ষণ, অভিযুক্ত আটক
নরসিংদীর মাধবদীতে চকলেটের লোভ দেখিয়ে ৭ বছরের এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে আবুল হোসেন (৫৫) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে স্থানীয় জনতা। রোববার (১৯ এপ্রিল) দুপুরে মাধবদী থানার মহিষাশুরা ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী শিশুটি স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে অভিযুক্তের প্রলোভনে পড়ে এবং তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয়।
ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ
ভুক্তভোগী শিশুটি দুপুরে স্কুল থেকে বাড়ি ফিরছিল। পথিমধ্যে অভিযুক্ত আবুল হোসেন তাকে চকলেটের প্রলোভন দেখিয়ে ডেকে নিজ বাসায় নিয়ে যায়। সেখানে শিশুটিকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন তিনি। ঘটনার পর রক্তাক্ত অবস্থায় শিশুটিকে তার বাড়ির পাশে রেখে পালিয়ে যান অভিযুক্ত। পরে মেয়েটি তার বাবা-মাকে বিষয়টি জানালে তারা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে নরসিংদী সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন।
স্থানীয়দের তীব্র ক্ষোভ ও বিক্ষোভ
ধর্ষণের খবরটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। বিক্ষুব্ধ জনতা তাৎক্ষণিকভাবে অভিযুক্ত আবুল হোসেনের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করেন। এ সময় শত শত মানুষ একত্রিত হয়ে ধর্ষকের ফাঁসির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেন। একপর্যায়ে জনতা অভিযুক্তকে ধরে গণপিটুনি দেন।
ভুক্তভোগী পরিবারের বক্তব্য
ভুক্তভোগী শিশুর বাবা বলেন, "আমার মেয়ে স্কুল থেকে আসার সময় আবুল নামে কুখ্যাত সন্ত্রাসী আমার মেয়েকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। তারপর আমার মেয়ে শরীরে ক্ষত অবস্থায় বাড়িতে এসে আমার স্ত্রীকে ও আমাকে বলে। পরে এলাকার মানুষ খবর পেয়ে আবুলকে আটক করেছেন। আমার মেয়েকে হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করা হয়েছে। এখন আমি তার মৃত্যুদণ্ড চাই- যাতে করে আর কোনো মেয়ে ধর্ষণ না হয়।"
অভিযুক্তের অতীত ও রাজনৈতিক প্রভাব
স্থানীয়দের অভিযোগ, আবুল হোসেনের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য আগে থেকেই প্রশ্নবিদ্ধ। তিনি এর আগেও একাধিকবার এ ধরনের জঘন্য ঘটনা ঘটিয়েছেন। তবে স্থানীয়দের দাবি, বিগত সরকারের দোসর হওয়ায় এবং রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে প্রতিবারই তিনি বিচার এড়িয়ে পার পেয়ে যেতেন।
পুলিশের তৎপরতা ও আইনি ব্যবস্থা
খবর পেয়ে মাধবদী থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অভিযুক্ত আবুল হোসেনকে জনতার হাত থেকে উদ্ধার করে থানা হেফাজতে নেয়। মাধবদী থানার ওসি মো. কামাল হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ পাঠিয়ে অভিযুক্তকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুর পিতা বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেছেন। অপরাধীকে আইনের আওতায় এনে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।



