ফেনীতে শিশু ছাত্রীকে যৌন হয়রানির ঘটনায় অটোরিকশাচালক গ্রেফতার
ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলায় একটি মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে, যেখানে দ্বিতীয় শ্রেণির এক শিশু ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে নুরুজ্জামান বাবুল (৫০) নামে এক অটোরিকশাচালককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সোমবার (২০ এপ্রিল ২০২৬) তাকে ফেনীর আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে, যা এই ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি পদক্ষেপের একটি উদাহরণ।
ঘটনার বিবরণ ও গ্রেফতার
ঘটনাটি রোববার (১৯ এপ্রিল) বিকালে সংঘটিত হয়, যখন ওই ছাত্রী এক প্রতিবেশীর সঙ্গে পূর্ব বাঁশপাড়া এলাকায় যায়। সন্ধ্যায় বাড়ি ফেরার পথে সে ব্যাটারিচালিত একটি অটোরিকশায় ওঠে, যার চালক ছিলেন বাবুল। বটতলী কালভার্ট পর্যন্ত গিয়ে তিনি অটোরিকশা থামান এবং একা পেয়ে ছাত্রীকে সামনে বসতে বলেন। ছাত্রী রাজি না হলে তিনি তার গায়ে হাত দেন, যা একটি স্পষ্ট যৌন হয়রানির ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
ছাত্রীর মা মামলায় উল্লেখ করেছেন যে, বাবুল তার মেয়েকে অশ্লীল কথা বলে যৌন হয়রানি করেন। ভয় ও লজ্জায় কান্নাকাটি শুরু করলে, তিনি তাকে অটো থেকে ধাক্কা দিয়ে সড়কে ফেলে দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় ছাত্রীর চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন ধাওয়া দিয়ে বাবুলকে আটক করেন এবং তাকে গণধোলাই দিয়ে পুলিশের হাতে সোপর্দ করেন।
আহত ছাত্রীর চিকিৎসা ও আইনি প্রক্রিয়া
ধাক্কা দেওয়ায় ছাত্রীর বাম হাত রক্তাক্ত হয়, এবং তাকে উদ্ধার করে ছাগলনাইয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তার মা জানান, এই ঘটনায় শিশুটির শারীরিক ও মানসিক আঘাত গুরুতর। একই দিন রাতে, ছাত্রীর মা বাদী হয়ে ছাগলনাইয়া থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন, যা দ্রুত তদন্তের দিকে নিয়ে যায়।
গ্রেফতারকৃত আসামি বাবুলের বাড়ি ছাগলনাইয়ার মটুয়া গ্রামে, এবং তিনি মমিন হাজি বাড়ির মৃত জামশেদ আলির ছেলে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এস আই মাসুদ আলম পাটোয়ারী বলেন, "গ্রেফতার আসামিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে, এবং সে ওই ছাত্রীকে যৌন হয়রানি করেছে বলে স্বীকার করেছে।" এই স্বীকারোক্তি অপরাধের গুরুত্বকে আরও জোরদার করে তুলেছে।
সম্প্রদায়ের প্রতিক্রিয়া ও নিরাপত্তা উদ্বেগ
এই ঘটনা স্থানীয় সম্প্রদায়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে, যেখানে শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। লোকজন দ্রুত হস্তক্ষেপ করে অপরাধীকে আটক করার মাধ্যমে সামাজিক সচেতনতার একটি ইতিবাচক দিক প্রদর্শন করেছেন। তবে, শিশু যৌন নির্যাতনের মতো ঘটনাগুলো প্রতিরোধে আরও কঠোর নজরদারি ও শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়েছে।
ফেনী পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপ এই মামলাটিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ মামলায় পরিণত করেছে, যা অন্যান্য অনুরূপ ঘটনাগুলোর জন্য একটি সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করতে পারে। শিশু অধিকার কর্মীরা এই ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি ও সমাজে সচেতনতা বৃদ্ধির উপর জোর দিচ্ছেন।



