সংসদে তেল সংকট নেই দাবি, বাইরে মানুষের হাহাকার: বিরোধীদলীয় নেতার তীব্র অভিযোগ
সংসদে তেল সংকট নেই দাবি, বাইরে মানুষের হাহাকার

সংসদে তেল সংকট নেই দাবি, বাইরে মানুষের হাহাকার: বিরোধীদলীয় নেতার তীব্র অভিযোগ

জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান সরকারের জ্বালানি নীতির উপর তীব্র অভিযোগ তুলেছেন। তিনি দাবি করেছেন, সংসদের ভেতরে সরকারি দল তেলের কোনো সংকট নেই বলে দাবি করলেও সংসদের বাইরে সাধারণ মানুষ তেলের জন্য হাহাকার করছে। সোমবার (২০ এপ্রিল) সংসদ অধিবেশনে জ্বালানি সংকট নিয়ে একটি মূলতবি প্রস্তাব উত্থাপনের সময় তিনি এসব কথা বলেন।

সংসদে আলোচনা না হওয়ায় দুর্ভাগ্যজনক

ডা. শফিকুর রহমান তার বক্তব্যের শুরুতে বলেন, "দেশের মানুষ আশা করছিল সংসদে জ্বালানি সংকট নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে, কারণ এটি এখন দেশের সবচেয়ে বড় সমস্যাগুলোর একটি। কিন্তু এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়েই আলোচনা সম্ভব হচ্ছে না—এটিকে আমি দুর্ভাগ্যজনক বলে মনে করি।" তিনি আরও উল্লেখ করেন যে শুধু পত্রিকা বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নয়, নিজে মাঠপর্যায়ে পরিস্থিতি দেখে তিনি সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ লক্ষ্য করেছেন।

জনগণের করের টাকায় পরিচালিত সংসদ

তিনি জোর দিয়ে বলেন, "সংসদের প্রতিটি মুহূর্তই জনগণের করের টাকায় পরিচালিত হয়। এই প্রতিষ্ঠান জনগণের সম্পদ দিয়ে গড়ে উঠেছে এবং জনপ্রতিনিধিরা এখানে নিজেদের জন্য নয়, বরং জনগণের কথা বলার জন্য আসেন।" তাই এমন চরম দুর্ভোগের সময়েও যদি জনগণের কণ্ঠ সংসদে প্রতিফলিত না হয়, তবে এই প্রতিষ্ঠানে থাকার সার্থকতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বাস্তবতা ও সরকারি বক্তব্যের মধ্যে পার্থক্য

দেশের বর্তমান জ্বালানি ও গ্যাস সংকটকে তিনি ‘সবচেয়ে জরুরি ইস্যু’ হিসেবে উল্লেখ করে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তার দাবি, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে যে বক্তব্য দেওয়া হয়েছে, বাস্তবে তার প্রতিফলন নেই। তিনি বলেন, "একদিকে সংসদে বলা হচ্ছে তেলের কোনো সংকট নেই, অন্যদিকে বাস্তবে মানুষ তেলের জন্য দিশেহারা। সংকটের কারণেই উচ্চ আদালতের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানেও ভার্চুয়াল কার্যক্রম চালু করতে হয়েছে— যা সংকট না থাকলে প্রয়োজন হতো না।"

সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান

ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতি ও যুদ্ধের প্রভাব তিনি অস্বীকার করছেন না। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই সংকট মোকাবিলায় সম্মিলিতভাবে কাজ করার সুযোগ থাকা উচিত। "বিরোধী দল হিসেবেও আমরা সমাধানে ভূমিকা রাখতে চাই, মতামত দিতে চাই। কিন্তু সব দায়িত্ব যদি শুধু সরকারি দলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে, তাহলে অন্য জনপ্রতিনিধিরা তাদের দায়িত্ব কীভাবে পালন করবেন—সেটি নিয়েও আমি প্রশ্ন তুলছি।"

অর্থনীতির উপর সরাসরি প্রভাব

শেষে স্পিকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, জ্বালানি সংকট দেশের অর্থনীতির সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত, কারণ পুরো অর্থনীতির চাকা শক্তি ও জ্বালানির উপর নির্ভরশীল। তাই বিষয়টি দায়সারাভাবে নিষ্পত্তি না করে, সংসদ নেতার উপস্থিতিতে বিস্তারিত আলোচনার জন্য পর্যাপ্ত সময় বরাদ্দ করার আহ্বান জানান। ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই অধিবেশনে তার এই বক্তব্য উল্লেখযোগ্য আলোড়ন সৃষ্টি করে।

ডা. শফিকুর রহমানের এই অভিযোগের মাধ্যমে সংসদে সরকারি ও বিরোধীদলীয় বক্তব্যের মধ্যে যে ব্যবধান রয়েছে, তা স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। জ্বালানি সংকট নিয়ে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ ও সরকারি নীতির মধ্যে সমন্বয়হীনতা নিয়ে তার এই ভাষ্য রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার সূত্রপাত করেছে।