প্রধানমন্ত্রীর তথ্য বিষয়ক উপদেষ্টা ড. জাহেদ উর রহমান বলেছেন, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে, তার মধ্যে দুর্নীতি ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগও রয়েছে; এসব অভিযোগের কিছু ক্ষেত্রে ব্যক্তিগতভাবে উসকানির বিষয় রয়েছে। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, যেকোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের ক্ষেত্রে তার প্রকৃত অপরাধের বিচারই হওয়া উচিত।
প্রেস ব্রিফিংয়ে বক্তব্য
মঙ্গলবার (১৯ মে) সচিবালয়ে সরকারের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা আরও বলেন, রাষ্ট্র ও সরকার নিশ্চিত করতে চায় যে, কেউ যদি প্রকৃতপক্ষে অপরাধী হন, তবে তার সঠিক বিচার হবে। একইভাবে কোনো সাংবাদিকের বিরুদ্ধে যদি অন্যায়ভাবে বা হয়রানিমূলকভাবে মামলা হয়ে থাকে, তাহলে সেটি নিয়েও সরকার কথা বলছে।
ন্যায়বিচার নিশ্চিতের প্রতিশ্রুতি
ড. জাহেদ উর রহমান বলেন, সরকারের অবস্থান হলো ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এবং কেউ যাতে অন্যায়ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সেটি নিশ্চিত করা। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বিষয়টি সংশ্লিষ্টরা সঠিকভাবে বুঝতে পারবেন।
তথ্যমন্ত্রীর বক্তব্য
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেন, সম্পাদকদের একটি অংশ সেদিনের (প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মতবিনিময়) আলোচনায় উল্লেখ করেছেন, যারা মিথ্যা মামলার অভিযোগ তুলেছেন, তাদের মধ্যেই অনেকে আবার অপসাংবাদিকতার বিষয়টিও স্বীকার করেছেন। তাদের মতে, এ ধরনের অপসাংবাদিকতার কারণে দেশে বিভিন্ন সময় অরাজকতা তৈরি হয়েছে।
আইনি কাঠামোর অভাব
সমস্যা হলো, বর্তমানে অপসাংবাদিকতাকে সরাসরি অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করার মতো সুস্পষ্ট আইনগত কাঠামো নেই। ফলে যেসব ঘটনায় মানুষ ক্ষুব্ধ হচ্ছে, অনেক সময় তারা ভিন্ন আইন ব্যবহার করে প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছে। এতে প্রকৃত অপরাধকে যথাযথ আইনি কাঠামোর মধ্যে আনা সম্ভব হচ্ছে না। মন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমি বিনীতভাবে বলতে চাই, একদিকে যেমন মিথ্যা মামলা থেকে সাংবাদিকদের রক্ষা করার বিষয় আছে, তেমনি অপসাংবাদিকতার কারণে যে নৈরাজ্য তৈরি হয়েছে এবং সাংবাদিকতা বহির্ভূত অপরাধে যারা জড়িত, তাদের বিষয়েও আলোচনায় এসেছে। কিন্তু এসব বিষয়কে সুনির্দিষ্ট আইনি কাঠামোতে আনার ঘাটতি রয়েছে।’



