টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলায় প্রেমিকের হাত ধরে শ্বশুরবাড়ি থেকে পালিয়ে যাওয়ার মাত্র চার দিন পর সূচনা (১৭) নামের এক নববধূর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে তার মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
ঘটনার বিবরণ
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাত্র এক মাস আগে মধুপুর উপজেলার মাইজবাড়ি গ্রামের আলমের সঙ্গে সূচনার বিয়ে হয়েছিল। তবে বিয়ের কিছুদিন পরই, গত ১৪ মে রাতে ঘাটাইল উপজেলার সত্তুর বাড়ি গ্রামের সরোয়ারের ছেলে ও তার প্রেমিক শাওয়ালের (১৮) হাত ধরে শ্বশুরবাড়ি থেকে পালিয়ে যায় সূচনা।
সমঝোতা ও ঘটনা
পরবর্তীতে দুই পরিবারের মধ্যে সমঝোতা হয় এবং তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে শনিবার রাতে কলেজপাড়ার স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান গিয়াসউদ্দিন বাবুর ভাড়া বাসায় নিয়ে আসা হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ঘটনার সময় ইউপি চেয়ারম্যান ও তার স্ত্রী বাসায় উপস্থিত ছিলেন না। ফলে অভিযুক্ত তরুণ শাওয়াল এবং তার বাবা-মায়ের হেফাজতেই রাখা হয়েছিল সূচনাকে।
আত্মহত্যার চেষ্টা
রোববার সন্ধ্যা ৬টার দিকে সূচনা ও শাওয়ালের মা একই কক্ষে অবস্থান করছিলেন। এ সময় সূচনা কৌশলে পানি পান করার ইচ্ছা প্রকাশ করলে শাওয়ালের মা পাশের কক্ষে পানি আনতে যান। এই সুযোগে সূচনা ভেতরের দিক থেকে কক্ষের ছিটকিনি আটকে দেন এবং সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন।
উদ্ধার ও মৃত্যু
পরবর্তীতে প্রতিবেশীদের সহায়তায় কক্ষের দরজা ভেঙে ঝুলন্ত অবস্থা থেকে সূচনাকে উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় লোকজন দ্রুত তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
পুলিশের বক্তব্য
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ঘাটাইল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) প্রভাষ কুমার বসু জানান, হাসপাতাল থেকে নববধূর লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। এই মৃত্যুর ঘটনায় এখন পর্যন্ত পুলিশ কাউকে আটক করেনি।



