জাককানইবিতে নারী শিক্ষার্থীদের গোপন ভিডিও ধারণ, আটক ৬
জাককানইবিতে গোপন ভিডিও ধারণ, আটক ৬ কিশোর

ময়মনসিংহের ত্রিশালে অবস্থিত জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাককানইবি) নারী শিক্ষার্থীদের আপত্তিকর ভিডিও ধারণের অভিযোগে ছয় বহিরাগত কিশোরকে আটক করেছেন শিক্ষার্থীরা। পরে তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে সোপর্দ করা হয়। শনিবার (১১ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন কলা অনুষদের সামনের পুকুরপাড়ে এ ঘটনা ঘটে।

আটক কিশোরদের পরিচয় ও ঘটনার বিবরণ

আটকরা হলেন- ত্রিশাল উপজেলার স্থানীয় বাসিন্দা তাজুল, মোস্তাকিম, আরিফিন, ফয়সাল, জাহিদ হাসান জনি ও লিওন। তারা সবাই দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী বলে জানা গেছে। ঘটনার সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থী আসন্ন নাট্যোৎসব উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রমে ব্যস্ত ছিলেন। এ সময় বহিরাগতদের একজন নারী শিক্ষার্থীদের জুম করে ভিডিও ধারণ করছেন বলে অভিযোগ উঠে। বিষয়টি টের পেয়ে আশপাশে থাকা শিক্ষার্থীরা অভিযুক্তদের আটক করেন।

প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য ও ভিডিও উদ্ধার

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থী ফয়সাল বলেন, “আমরা বিষয়টি বুঝতে পেরে তাদের আটক করি। পরে তারা ভিডিওটি মুছে ফেলার চেষ্টা করলেও মোবাইলের রিসাইকেল ফোল্ডারে সেই ভিডিও পাওয়া যায়।” অভিযুক্তদের একজন দাবি করেন, তারা শুধু ঘুরতে বিশ্ববিদ্যালয়ে এসেছিলেন। তার ভাষ্য, “তাদের অজান্তেই একজন সঙ্গী তার মোবাইল ফোন নিয়ে ভিডিও ধারণ করেন।” আরেকজনের দাবি, ইচ্ছাকৃতভাবে ভিডিও করা হয়নি, ভুলবশত মোবাইলের বাটনে চাপ লেগে ভিডিও রেকর্ড হয়ে যায়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

প্রক্টরের বক্তব্য ও পুলিশি ব্যবস্থা

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মাহাবুবুর রহমান জনি বলেন, “অভিযুক্তদের মোবাইল ফোনে সংশ্লিষ্ট ভিডিওসহ নারী শিক্ষার্থীদের আপত্তিকর ফুটেজ পাওয়া গেছে। পরে তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে।” বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আটক কিশোরদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ইতোমধ্যে যোগাযোগ করা হয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে।

পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জের মন্তব্য

বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ ও পুলিশ পরিদর্শক জুলফিকার আলি ভুট্টু বলেন, “আটকরা সবাই অল্পবয়সি। তারা যে কাজটি করেছে, তা কিশোর অপরাধের আওতায় পড়ে। তারা ভবিষ্যতে এমন কাজ আর করবে না বলে অঙ্গীকার করেছে।”