ট্রাম্পের কটাক্ষ: ইরানকে ‘এক সপ্তাহের ছুটি’
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির রাষ্ট্রীয় শোক ও দাফন অনুষ্ঠানের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক তীক্ষ্ণ মন্তব্যে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ‘ইরানকে এক সপ্তাহের ছুটি দিয়েছে’। গতকাল শুক্রবার সাউথ ডাকোটার মাউন্ট রাশমোরে স্বাধীনতা দিবসের এক সমাবেশে দেওয়া এই বক্তব্যকে ইরানের প্রতি বড় ধরনের কটাক্ষ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মাউন্ট রাশমোরে ট্রাম্পের ভাষণ
যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনের অংশ হিসেবে সাউথ ডাকোটার বিখ্যাত গ্রানাইট পাথরের পাহাড় মাউন্ট রাশমোরে বক্তব্য রাখছিলেন ট্রাম্প। সেখানে তিনি ইরানের সঙ্গে সাম্প্রতিক সংঘাতের প্রসঙ্গ টানেন এবং ইসলামি প্রজাতন্ত্রটির বিরুদ্ধে তাঁর প্রশাসনের নেওয়া সামরিক পদক্ষেপের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা ইরানের বারোটা বাজিয়ে দিয়েছি। ওরা এখন একটি সমঝোতায় আসার জন্য ভীষণ মরিয়া হয়ে উঠেছে। আমরা জানাজার জন্য ওদের এক সপ্তাহের ছুটি দিয়েছি।’ তিনি ‘এক সপ্তাহের ছুটি’ দেওয়ার বিষয়ে বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা দেননি।
ইরানের প্রতিক্রিয়া ও প্রতিশোধের ডাক
ট্রাম্পের এই মন্তব্য ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলেছে। ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, ‘জাতির এ প্রতিশোধের ডাক যেন পুরো বিশ্বের কান পর্যন্ত পৌঁছায়।’ ইরানের সেনাপ্রধান আমির হাতামি বলেন, ‘আমাদের শহীদ নেতা এবং জাতির সব শহীদের রক্তের মূল্য ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রকে অবশ্যই চড়া দামে দিতে হবে।’
খামেনির শোক ও দাফন অনুষ্ঠান
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় নিহত হন খামেনি। ওই হামলায় তাঁর পরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্যও প্রাণ হারান, যার মধ্যে তাঁর কন্যা, জামাতা, ১৪ মাস বয়সী নাতনি এবং পুত্রবধূ ছিলেন। ইসলামী রীতি অনুযায়ী সাধারণত মৃত্যুর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দাফন করার নিয়ম থাকলেও, যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং উচ্চ নিরাপত্তার উদ্বেগের কারণে ইরানি কর্তৃপক্ষ জানাজা পিছিয়ে দেয়। গত মাসে একটি অন্তর্বর্তী যুদ্ধবিরতি চুক্তির পর এ বিদায় অনুষ্ঠানের সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়। তেহরানে লাখো মানুষের অংশগ্রহণে এই শোক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্য ও নিরাপত্তা
রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি প্রাথমিক চুক্তি হলেও মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এখনো উত্তপ্ত। উভয় দেশের কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, পরিস্থিতি খারাপ হলে যেকোনো সময় আবার যুদ্ধ শুরু হয়ে যেতে পারে। জনাকীর্ণ এই রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানগুলোতে বড় ধরনের কোনো দুর্ঘটনা বা বিশৃঙ্খলা এড়াতে এবং জনসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছে ইরানের প্রশাসন।



