প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রবিবার (২১ জুন) মালয়েশিয়া সফরে যাচ্ছেন। সরকার গঠনের পর এটিই তার প্রথম বিদেশ সফর।
ব্রিফিংয়ে যা জানানো হয়
শনিবার (২০ জুন) সকালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আল সিয়াম এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, সফরে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠকে শ্রমবাজার সম্প্রসারণ, আসিয়ানের সদস্যপদ প্রাপ্তি এবং মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) ইস্যু প্রাধান্য পাবে। এ সময় কয়েকটি চুক্তি সইয়ের সম্ভাবনাও রয়েছে।
চীন সফরের পরিকল্পনা
পররাষ্ট্র সচিব জানান, মালয়েশিয়া সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী চীন সফরে যাবেন। সফরসঙ্গী হিসেবে মালয়েশিয়ায় ২৭ জন এবং চীনে ২৮ জন প্রতিনিধিদল থাকছে। প্রধানমন্ত্রী ২১ ও ২২ জুন মালয়েশিয়ায় অবস্থান করবেন।
২২ জুন বিকালে মালয়েশিয়া সফর শেষে তিনি সরাসরি চীনের উপকূলীয় বন্দরনগরী দালিয়ানের উদ্দেশে রওনা দেবেন। সেখানে তিনি ২৩ জুন ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের ‘অ্যানুয়াল মিটিং অব দ্য নিউ চ্যাম্পিয়ন্স’-এ অংশ নেবেন এবং ২৪ জুন ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের ১৭তম বার্ষিক সভায় যোগ দেবেন।
সভার আলোচ্য বিষয়
সভায় বৈশ্বিক অর্থনীতি, বিনিয়োগ প্রবাহ, সবুজ অর্থনীতি এবং জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যু প্রাধান্য পাবে। একই দিনে চায়না রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন করপোরেশন, চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ করপোরেশন এবং চায়না মেশিনারি ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশনের সঙ্গে রেল, সেতু, বিদ্যুৎ ও শিল্পায়ন প্রকল্পে বিনিয়োগ বিষয়ে বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
বেইজিং যাত্রা
পররাষ্ট্র সচিব জানান, ২৪ জুন দুপুরে দালিয়ান থেকে প্রধানমন্ত্রী বেইজিংয়ের উদ্দেশে রওনা হবেন। তিনি প্রতিনিধিদলসহ হাই স্পিড ট্রেনে দালিয়ান থেকে বেইজিং যাবেন। সাধারণত ট্রেনে এ যাত্রায় সাড়ে ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা সময় লাগে, যেখানে ফ্লাইটে সময় লাগে প্রায় দেড় ঘণ্টা।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, দালিয়ান থেকে ফ্লাইটের সুবিধা থাকলেও বিশেষ ব্যবস্থায় ট্রেন যাত্রা করবেন প্রধানমন্ত্রী।
সমঝোতা স্মারক ও চুক্তি
ব্রিফিংয়ে আরও জানানো হয়, ঢাকা–বেইজিংয়ের মধ্যে ১৩টি সমঝোতা স্মারক, দুইটি চুক্তি, একটি অ্যাকশন প্ল্যান এবং একটি প্রটোকল সই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। দুই দেশের মধ্যে সামরিক সহযোগিতা আরও জোরদার হবে বলেও জানানো হয়।



