ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মীরের জেলবন্দী সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার রশিদ পদত্যাগ করতে চাইছেন। বছরের পর বছর বন্দী থাকার কারণে তিনি সংসদ সদস্যের দায়িত্ব পালনে অপারগ। তিনি তাঁর দল আওয়ামি ইত্তেহাদ পার্টির (এআইপি) কাছে এই ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।
পদত্যাগের কারণ
ইঞ্জিনিয়ার রশিদ বলেছেন, বন্দী থাকার কারণে তিনি সংসদ সদস্যের দায়িত্ব পালন করতে পারছেন না। এলাকার জনতার আশা-আকাঙ্ক্ষা মেটাতে পারছেন না। তাঁদের অভাব-অভিযোগের কথা সংসদে বলতে পারছেন না। প্রতিকার করতে ব্যর্থ হচ্ছেন। কাজেই তিনি সংসদ সদস্য পদ ত্যাগ করতে চান।
রশিদের দল এআইপি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, রশিদের অনুরোধ তারা বিবেচনা করবে। এ জন্য দলের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক ডাকা হয়েছে। দুই দিন ধরে সেই বৈঠক চলবে। তার পর দল সিদ্ধান্ত নেবে। রশিদ এআইপির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা।
ইঞ্জিনিয়ার রশিদের পটভূমি
৫৮ বছর বয়সী ইঞ্জিনিয়ার রশিদের আসল নাম শেখ আবদুল রশিদ। কিন্তু কাশ্মীর উপত্যকায় তিনি ইঞ্জিনিয়ার রশিদ নামেই পরিচিত। বিএসসি পাস করার পর তিনি সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ডিপ্লোমা পান এবং জম্মু-কাশ্মীর প্রোজেক্টস কনস্ট্রাকশন কর্পোরেশনে এক দশক ধরে কাজ করেন। সেই কারণেই তিনি পরিচিত হন ইঞ্জিনিয়ার রশিদ নামে। কিশোর বয়সে তিনি যোগ দিয়েছিলেন আবদুল গণি লোনের দল পিপলস কনফারেন্সে। বিচ্ছিন্নতাবাদী হওয়ার অভিযোগে তাঁকে প্রথম গ্রেপ্তার করা হয়েছিল ২০০৫ সালে। সাড়ে তিন মাস জেল খাটার পর মুক্তি পান।
রশিদ ২০০৮ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত জম্মু-কাশ্মীর বিধানসভার সদস্য ছিলেন। ২০১৯ সালের আগস্ট মাসে ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের পর তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। ইউএপিএ আইনে তিনি বন্দী। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি বিচ্ছিন্নতাবাদীদের অর্থ সাহায্য করেছিলেন। সেই থেকে সাত বছর তিনি বন্দী।
লোকসভা নির্বাচন ও পরবর্তী ঘটনা
বন্দী থাকা অবস্থাতেই রশিদ এআইপি প্রতিষ্ঠা করেন। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে বারামুল্লা কেন্দ্র থেকে তিনি দলের প্রার্থী হন। লক্ষাধিক ভোটে হারিয়ে দেন ন্যাশনাল কনফারেন্স নেতা ওমর আবদুল্লাহকে। ওই নির্বাচনে বিজেপি চেয়েছিল জম্মু-কাশ্মীরের ক্ষমতা দখল করতে। সে জন্য প্রথমে জম্মু-কাশ্মীরকে দ্বিখণ্ডিত করা হয়। রাজ্যের মর্যাদা কেড়ে নিয়ে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে পরিণত করা হয়। বিধানসভা ও লোকসভা কেন্দ্রগুলোর সীমানা পুনর্নির্ধারণ বা ডিলিমিটেশন করা হয়, যাতে মুসলমানপ্রধান কাশ্মীর উপত্যকার সঙ্গে হিন্দুপ্রধান জম্মুর আসনের তারতম্য কমে যায়। ওই ভোটে জিততে বিজেপি উপত্যকার ন্যাশনাল কনফারেন্স ও পিডিপির দলত্যাগী নেতাদের নিয়ে ‘জম্মু-কাশ্মীর আপনি পার্টি’ নামে নতুন এক রাজনৈতিক দল গড়তেও সাহায্য করে। ভোটে তাঁদের মদদও দেয়। ইঞ্জিনিয়ার রশিদের দলকেও কেন্দ্রীয় সরকার নানাভাবে মদদ দিয়েছিল। ভোটে প্রচারের জন্য কেন্দ্রীয় সরকার রশিদের জামিনের বিরোধিতা করেনি। যদিও বিজেপির লক্ষ্য পূরণ হয়নি। উপত্যকা দখলে রেখে কংগ্রেস ও বামপন্থীদের সহায়তায় ন্যাশনাল কনফারেন্স সরকার গড়ে। মুখ্যমন্ত্রী হন ওমর আবদুল্লাহ। ইঞ্জিনিয়ার রশিদকেও আবার ফেরত পাঠানো হয় দিল্লির তিহার জেলে।
দলের সিদ্ধান্ত ও উপনির্বাচনের সম্ভাবনা
রশিদের ইচ্ছাকে গুরুত্ব দিতে বারামুল্লা সংসদীয় ক্ষেত্রের অন্তর্গত ১৮টি বিধানসভা কেন্দ্রের দলীয় নেতাদের সঙ্গে এআইপি বৈঠক করেছে। এবার দলের শীর্ষস্থানীয় কমিটি দুই দিন ধরে প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করবে। রশিদ ইস্তফা দিলে বারামুল্লা কেন্দ্রে উপনির্বাচন হবে। তাতে এআইপির জয়ের সম্ভাবনা কতটা, সেটাই হবে মুখ্য বিচার্য।



