ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে জাতিসংঘের পরিদর্শন কার্যক্রম কেবলমাত্র যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি ‘চূড়ান্ত’ চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার পরই বিবেচনা করা হবে বলে জানিয়েছে দেশটি। ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি বলেছেন, সাম্প্রতিক হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত পারমাণবিক স্থাপনা ও সংশ্লিষ্ট উপকরণে জাতিসংঘের পরিদর্শকদের প্রবেশাধিকার দেওয়ার বিষয়টি শুধুমাত্র ওয়াশিংটনের সঙ্গে একটি চূড়ান্ত সমঝোতার কাঠামোর মধ্যেই নির্ধারণ ও সমাধান করা হবে।
নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের শর্ত
গারিবাবাদি আরও বলেন, জাতিসংঘের পরিদর্শন কার্যক্রম নির্ভর করবে অপর পক্ষের বাস্তব পদক্ষেপের ওপর, বিশেষ করে ইরানের বিরুদ্ধে আরোপিত সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ক্ষেত্রে। তার মতে, নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ ছাড়া পরিদর্শন সংক্রান্ত অগ্রগতি সম্ভব নয়।
গ্রোসির সাক্ষাৎ এড়ালেন ইরানি কর্মকর্তারা
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে গারিবাবাদি জানান, সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত সাম্প্রতিক আলোচনার সময় আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসি সাক্ষাতের অনুরোধ জানালেও কোনো ইরানি কর্মকর্তা তার সঙ্গে বৈঠক করেননি। গ্রোসি এর আগে বলেছেন যে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে পরিদর্শন কার্যক্রম শেষ পর্যন্ত অবশ্যই হবে। তিনি মন্তব্য করেন, এটি আজ, আগামীকাল, এক সপ্তাহ পরে বা দশ দিন পরে হোক—সময়ের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হলেও মূল বিষয় নয়। পরিদর্শন অবশ্যই হবে।
কূটনৈতিক আলোচনায় নতুন মাত্রা
ইরানের এই অবস্থান দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে চলমান আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক আলোচনাকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিদর্শন ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের প্রশ্ন এখন তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ চুক্তির অন্যতম প্রধান ইস্যু হয়ে উঠেছে। সূত্র: আল-জাজিরা।



