ভারতীয় হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদীর সাথে সাংবাদিকদের আড্ডা: সম্পর্কের নতুন দিগন্ত
ভারতীয় হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদীর সাথে সাংবাদিকদের আড্ডা

গতকাল বাংলাদেশের জঙ্গিবাদের ভয়াবহ রূপের দশম বছর পূর্ণ হয়েছে। ২০১৬ সালের হলি আর্টিজেন বেকারি হামলায় নিহতদের স্মরণে ঢাকায় নিযুক্ত ইতালির রাষ্ট্রদূত তার বাসভবনে একটি আয়োজন করেন। সেখানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অ্যাম্বাসেডর, ভারতীয় হাই কমিশনার, জাপানের রাষ্ট্রদূত, ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত, যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের কনসুলার জেনারেলসহ বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরা উপস্থিত ছিলেন।

নবনিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনারের সাথে সাক্ষাৎ

অনুষ্ঠানে নবনিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদীর সাথে সাংবাদিকদের চমৎকার ও অর্থবহ আলোচনা হয়। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে আলাপচারিতায় উঠে আসে তার নতুন দায়িত্বের অভিজ্ঞতা, বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, দুই দেশের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ, প্রতিবন্ধকতা এবং সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া। দিনেশ ত্রিবেদী মানুষের সাথে মানুষের সম্পর্কের উপর গুরুত্ব দেন। তিনি ভারতের রাজনীতিতে সুপরিচিত; সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে কর্মজীবন শুরু করে কেন্দ্রীয় সরকারের মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করে এখন তিনি বাংলাদেশে মিশন শুরু করেছেন। কূটনীতিতে এটি তার প্রথম নিয়োগ।

মানুষের সাথে সম্পর্ক উন্নয়নের মনোভাব

ত্রিবেদী বলেন, বাংলাদেশ ও ভারত দুটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র। তিনি ভৌগোলিক অবস্থান ও ইতিহাসের বাঁকে বাঁকে দুই দেশের মানুষের সম্মিলিত সংগ্রামের কথা তুলে ধরেন। ব্রিটিশ উপনিবেশ থেকে মুক্তি থেকে শুরু করে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধ বা পরবর্তী সময়ে উভয় দেশের মধ্যকার উষ্ণ সম্পর্কের চমৎকার সময় বর্ণনা করেন। তার কথাবার্তায় রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ ও তার জনগণের প্রতি সম্মান ফুটে ওঠে। তিনি বন্ধুর মতো করে কথা বলেন এবং সম্পর্ক উন্নয়নে পরামর্শ চান। তার আন্তরিকতার কোনো ঘাটতি ছিল না।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

প্রটোকলের বেড়াজাল এড়িয়ে চলার ইচ্ছা

দিনেশ ত্রিবেদী দৃঢ়ভাবে জানান, তিনি কথিত প্রটোকলের বেড়াজাল সবসময় মানবেন না এবং মানুষের সাথে মিশতে কূটনৈতিক ভাষা ব্যবহার করবেন না। তার ভাষায়, 'দেখো, আমি ওসব নিয়মকানুন মেনে চলতে চাই না। ওরা আমাকে বিভিন্নভাবে আটকে রাখতে চায়। আমি সেটা করতে দিচ্ছি না। আমি রাজনীতি করে এসেছি। মানুষের সঙ্গে থাকার একটা অভ্যাস রয়ে গেছে। সুতরাং ওরা চাইলেই আমাকে আটকে রাখতে পারবে না। আমি তোমাদের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে সম্পর্ক বজায় রাখবো।'

ভিসা কার্যক্রম পুনরায় চালু

সাবেক হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা ভিসা শিথিল করতে ব্যর্থ হলেও দিনেশ ত্রিবেদী দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিনেই সাংবাদিকদের জানান, ২৮ জুন থেকে সব প্রকার ভারতীয় ভিসা কার্যক্রম পুনরায় চালু হচ্ছে। তিনি বলেন, 'আমি এখানে এসে যেটা প্রথমে করতে চেয়েছি সেটা হলো মানুষের সমস্যার বিষয়গুলো দূর করা। অনেকেই চিকিৎসা বা কেনাকাটার উদ্দেশ্যে ভারত যায়। তাদেরকে আটকে রাখার কোনো মানে হয় না। যত দ্রুত সম্ভব সেই সমস্যা সমাধানের চিন্তা ছিল আমার। তাই প্রথম যে কাজটি আমি করেছি, তা হলো ভিসা কার্যক্রম চালু করে মানুষের ভোগান্তি কমানো।'

দালাল চক্রের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস

সাংবাদিকরা তাকে জানান, একটি দালাল চক্র দূতাবাসের অসাধু অংশের সাথে মিলে ভিসার শিডিউল বাণিজ্য করছে। সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল ভিডিওতে দেখা গেছে, এক থেকে দেড় লাখ টাকা দিয়েও কেউ কেউ শিডিউল নিচ্ছেন। ত্রিবেদী সঙ্গে সঙ্গেই তার সহকর্মীকে বিষয়টি নোট করতে বলেন এবং দ্রুত পদক্ষেপের আশ্বাস দেন।

পদ্মা সেতুর রেল যোগাযোগ প্রসঙ্গ

পদ্মা সেতুর উপর দিয়ে রেল যোগাযোগ চালু নিয়ে প্রশ্নে ত্রিবেদী বলেন, 'বাংলাদেশ সরকার একপা এগোলে আমি নয় পা এগোবো।' এটি রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি নয়, বরং বাংলাদেশের সাথে চমৎকার সম্পর্ক গড়ার আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন।

সাংবাদিকদের প্রতি বিশেষ মনোযোগ

মধ্যাহ্ন ভোজে অন্যান্য কূটনীতিকদের চেয়ে ভারতীয় হাইকমিশনার সাংবাদিকদের প্রতি বেশি মনোযোগী ছিলেন। ইতালির রাষ্ট্রদূত মজা করে বলেন, 'দেখো, বাংলাদেশের সব সাংবাদিকরা তোমাকে নিয়ে ব্যস্ত।' ত্রিবেদী মৃদু হাসি দিয়ে ইতালীয় সহকর্মীকেও আড্ডায় যুক্ত করেন। দ্রুত সময়ের মধ্যে আরও দীর্ঘ সময়ের জন্য সাংবাদিকদের সাথে বসার প্রত্যাশা ব্যক্ত করে তিনি বিদায় নেন।

সম্পর্কের ভবিষ্যৎ

লেখকের মতে, বিগত ১৭ বছর একটি দলের প্রতি ভারতের সমর্থন ভুল সিদ্ধান্ত ছিল। নতুন রাষ্ট্রদূতকে সরকার, বিরোধী দল, নাগরিক সমাজ, ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ, ব্যবসায়ী ও খেটে খাওয়া মানুষের সাথে সম্পর্ক বজায় রাখার প্রত্যাশা রাখা হয়। ত্রিবেদীর অভিজ্ঞতা ও আন্তরিকতা দেখে লেখক স্বপ্ন দেখেন, সম্পর্ক উন্নয়নের মাধ্যমে ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্ক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছবে। সেই সম্পর্কের শুভ সূচনা হতে পারে শেখ হাসিনাসহ ভারতে আশ্রিত আদালতের মাধ্যমে প্রমাণিত খুনিদের বাংলাদেশের হাতে তুলে দেওয়ার মাধ্যমে।