কানাডা ভারতের ছয়জন কূটনীতিককে বহিষ্কার করার পর দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক চরম সংকটে পড়েছে। এই পদক্ষেপকে ভারত তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এবং পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে কানাডার কূটনীতিকদের বহিষ্কারের ঘোষণা দিয়েছে।
কানাডার পদক্ষেপ ও ভারতের প্রতিক্রিয়া
কানাডা সরকার ভারতীয় কূটনীতিকদের বিরুদ্ধে খালিস্তানপন্থী নেতা হরদীপ সিং নিজ্জর হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ এনেছে। কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো বলেন, 'ভারতীয় এজেন্টরা কানাডার ভূখণ্ডে একজন কানাডিয়ান নাগরিককে হত্যা করেছে, যা আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।'
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এসব অভিযোগ 'ভিত্তিহীন' ও 'অগ্রহণযোগ্য' বলে উড়িয়ে দিয়েছে। এক বিবৃতিতে ভারত জানিয়েছে, 'কানাডা মিথ্যা অভিযোগ এনে কূটনৈতিক সম্পর্কের মৌলিক নীতিমালা লঙ্ঘন করেছে।'
পাল্টা ব্যবস্থা ও সম্পর্কের ভবিষ্যৎ
ভারত কানাডার চারজন কূটনীতিককে বহিষ্কার করার পাশাপাশি কানাডায় নিযুক্ত নিজেদের কূটনীতিকদের সংখ্যা কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বলেন, 'আমরা কানাডার এই অযৌক্তিক পদক্ষেপের জবাব দিতে বাধ্য হয়েছি।'
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই সংকট দুই দেশের বাণিজ্য ও কূটনৈতিক সম্পর্কে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে। কানাডায় বসবাসরত ভারতীয় প্রবাসীর সংখ্যা প্রায় ১৬ লাখ, যা দুই দেশের সম্পর্কের অন্যতম ভিত্তি।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেন এই সংকট সমাধানে উভয় পক্ষকে সংযম দেখানোর আহ্বান জানিয়েছে। জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, 'কূটনৈতিক চ্যানেল খোলা রাখা এবং সংলাপের মাধ্যমে সমস্যা সমাধান জরুরি।'
অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডও কানাডার পাশে দাঁড়িয়েছে এবং ভারতের বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি জানিয়েছে। অন্যদিকে, চীন ও পাকিস্তান এই ইস্যুতে কোনো মন্তব্য করেনি।



