পানিসম্পদ মন্ত্রী শাহীদুদ্দিন চৌধুরী এনী সংসদে জানিয়েছেন, সীমান্তবর্তী নদীর পানি বণ্টনে বাংলাদেশের ন্যায্য ও ন্যায়সঙ্গত অংশ আদায়ে সরকার বদ্ধপরিকর। রবিবার (২১ জুন, ২০২৬) জাতীয় সংসদে এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
শুষ্ক মৌসুমে পানি প্রবাহ কমেছে
মন্ত্রী বলেন, উজানের দেশগুলোতে সীমান্তবর্তী নদীর ওপর বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণের কারণে শুষ্ক মৌসুমে বাংলাদেশে পানি প্রবাহ কমেছে। সরকারি দলের সদস্য মো. আবুল কালাম (কুমিল্লা-৯) এর লিখিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, উজানের দেশগুলোর অবকাঠামো উন্নয়নের কারণে শুষ্ক মৌসুমে বাংলাদেশে পানি প্রবাহ হ্রাস পাওয়ার বিষয়টি ‘অসত্য নয়’ এবং সরকার ন্যায্য পানি বণ্টন নিশ্চিতে আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদার করছে।
প্রাকৃতিক কারণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব
পানিসম্পদ মন্ত্রী আরও বলেন, উজানের হস্তক্ষেপ ছাড়াও প্রাকৃতিক কারণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে পানি প্রাপ্যতা কমে যাওয়াও নদীর প্রবাহকে প্রভাবিত করছে। সরকার এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে।
মন্ত্রী সংসদে সরকারের উদ্যোগ তুলে ধরে বলেন, বর্তমান সরকার সীমান্তবর্তী নদীর পানি বণ্টনে বাংলাদেশের ন্যায্য অংশ নিশ্চিতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। ‘এই বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হয়েছে এবং সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে,’ তিনি যোগ করেন।
বিদ্যমান চুক্তি পর্যালোচনা ও নতুন চুক্তির উদ্যোগ
চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকার সীমান্তবর্তী নদীর পানি বণ্টন সংক্রান্ত বিদ্যমান চুক্তি ও সমঝোতা পর্যালোচনা করছে এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে নতুন চুক্তি সম্পাদনের জন্য কাজ করছে বলে মন্ত্রী সংসদকে জানান।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের যৌথ নদী কমিশন (জেআরসি) শক্তিশালী করার পাশাপাশি বাংলাদেশের সাথে নদী অববাহিকা ভাগাভাগি করা দেশগুলো—ভারত, নেপাল, ভুটান ও চীন—এর সাথে সমন্বিত অববাহিকাভিত্তিক ব্যবস্থাপনা প্রচেষ্টা জোরদার করা হচ্ছে।
আঞ্চলিক সহযোগিতার প্রত্যাশা
মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন যে, বর্ধিত আঞ্চলিক সহযোগিতা ও সমন্বিত নদী অববাহিকা ব্যবস্থাপনা টেকসই পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা ও বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় অবদান রাখবে।



