পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন, বাংলাদেশ-ভারত গঙ্গা জলবণ্টন চুক্তির নবায়ন ইতিবাচক দিকে এগোচ্ছে। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, 'আমি মনে করি এটি ইতিবাচক দিকে এগোচ্ছে। আশা করি ভারত এর গুরুত্ব বুঝবে এবং সে অনুযায়ী এগিয়ে আসবে।'
চুক্তির মেয়াদ ও বিশেষজ্ঞদের মতামত
১৯৯৬ সালের ১২ ডিসেম্বর স্বাক্ষরিত গঙ্গা জলবণ্টন চুক্তির ৩০ বছর মেয়াদ শেষ হচ্ছে চলতি বছরের ডিসেম্বরে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নতুন চুক্তি করার আগে অর্থনীতিবিদ, নগর পরিকল্পনাবিদ, সমাজবিজ্ঞানী এবং পরিবেশবিদদের সম্পৃক্ত করে ব্যাপক পর্যালোচনা ও সংস্কার প্রয়োজন। অন্যথায় বাংলাদেশের কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং জলবায়ু ঝুঁকি বাড়বে।
যৌথ নদী কমিশনের ভূমিকা
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ৫৪টি নদী ভাগাভাগি রয়েছে, যার মধ্যে গঙ্গা অন্যতম। দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় প্রক্রিয়া যৌথ নদী কমিশনের মাধ্যমে এই সহযোগিতার সব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
সম্পর্ক পুনর্বিন্যাসের পরীক্ষা
বিশেষজ্ঞদের মতে, সম্পর্ক পুনর্বিন্যাসের ইচ্ছা থাকায় 'ন্যায়সঙ্গত ও জলবায়ু-সহনশীল' পদ্ধতিতে গঙ্গার জল বণ্টনই হবে সেই পুনর্বিন্যাসের প্রথম পরীক্ষা। সাবেক বাংলাদেশ হাইকমিশনার তারিক এ করিম বলেন, '১৯৯৬ সালের চুক্তি প্রমাণ করে যে সংবেদনশীল বিষয়েও সহযোগিতা সম্ভব। কিন্তু ২০২৬ সালের ডিসেম্বরে চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায় নতুন জলবাহিত ও জলবায়ু বাস্তবতার সাথে খাপ খাইয়ে নেওয়ার সামর্থ্য পরীক্ষা হবে।'
আঞ্চলিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা
তিনি আরও বলেন, 'সমগ্র অঞ্চলে পানি, খাদ্য, জ্বালানি, স্বাস্থ্য, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং জলবায়ু সহনশীলতা আঞ্চলিক পাবলিক গুডস। কোনো দেশ একা এগুলো নিশ্চিত করতে পারে না।' তারিক এ করিমের মতে, পরিবেশগত অখণ্ডতার বাধ্যবাধকতা দক্ষিণ এশিয়ার জন্য পুনরায় সহযোগিতার সবচেয়ে শক্তিশালী যুক্তি হতে পারে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রস্তুতি
আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক শাহাব এনাম খান বলেন, 'পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অনেক হোমওয়ার্ক করতে হবে এবং তথ্য বিনিময়ই মূল চাবিকাঠি। মনে রাখতে হবে, ১৯৯৬ এবং ২০২৬ সালের পরিস্থিতি এক নয়। এটি শুধু প্রকৌশল বা কূটনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যাবে না; পরিকল্পনায় অর্থনীতিবিদ, নগর পরিকল্পনাবিদ এবং সমাজবিজ্ঞানীদের অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।'



