সিআইএ-র গুপ্তচর নিয়োগের অপ্রচলিত কৌশল
যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা (সিআইএ) বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গুপ্তচর নিয়োগে শুধু অর্থের প্রলোভনের ওপর নির্ভর করত না। বরং ব্যক্তির প্রয়োজন ও মানসিক অবস্থার ভিত্তিতে নানা ধরনের সহায়তা ও উপহার দিয়ে তাদের সহযোগিতায় রাজি করানোর কৌশল গ্রহণ করত বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি।
অর্থ নয়, ব্যক্তিগত প্রয়োজন ও মানসিক অবস্থা
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সিআইএর কর্মকর্তারা সম্ভাব্য তথ্যদাতাদের ভরণপোষণ (অ্যালিমনি) পরিশোধে সহায়তা, ফ্রিজ কেনা, মদ সরবরাহ কিংবা শিক্ষা ব্যয় বহনের প্রতিশ্রুতির মতো নানা সুবিধা দিতেন। সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অর্থ সহযোগিতার প্রধান কারণ ছিল না। তাদের মতে, ব্যক্তিগত ক্ষোভ, ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বের প্রতি হতাশা কিংবা নিজ দেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থার সঙ্গে মতবিরোধ—এসব কারণেই অনেক মানুষ গুপ্তচরবৃত্তিতে জড়াতে আগ্রহী হতেন।
ভায়াগ্রা দিয়ে গুপ্তচর নিয়োগের ঘটনা
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সিআইএর নিয়োগ কৌশলের মূল ভিত্তি ছিল সম্ভাব্য ব্যক্তির প্রয়োজন ও মানসিক অবস্থা গভীরভাবে বিশ্লেষণ করা। এ প্রসঙ্গে ২০০৮ সালের একটি ঘটনার উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়, প্রায় ৬০ বছর বয়সি এক আফগান ফিল্ড কমান্ডারকে অর্থ দিয়ে নয়, মাত্র চারটি ভায়াগ্রা ট্যাবলেট দিয়ে নিজের পক্ষে আনতে সক্ষম হন এক মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তা।
প্রচলিত পদ্ধতি ব্যর্থ কেন?
সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের দাবি, বড় অঙ্কের অর্থ বা অস্ত্র দিয়ে কাউকে নিয়োগের প্রচলিত পদ্ধতি অনেক সময় কার্যকর হতো না। অস্ত্র প্রায়ই অন্যের হাতে চলে যেত এবং নগদ অর্থ, দামি গয়না বা বিলাসবহুল গাড়ির মতো উপহার অপ্রয়োজনীয়ভাবে নজর কাড়ত।
সাবেক সোভিয়েত গোয়েন্দাদের সহযোগিতা
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সাবেক সোভিয়েত গোয়েন্দা কর্মকর্তা দিমিত্রি পলিয়াকভ ছেলের মৃত্যুর পর সিআইএর সঙ্গে সহযোগিতা শুরু করেন। তিনি বড় অঙ্কের অর্থ নিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বিদ্যুৎচালিত যন্ত্রপাতি, আগ্নেয়াস্ত্র ও মাছ ধরার সরঞ্জাম চেয়েছিলেন। অন্যদিকে সোভিয়েত প্রকৌশলী অ্যাডলফ টলকাচেভ, যিনি পরে সিআইএর হয়ে কাজ করেন, তিনি পশ্চিমা সংগীত সংগ্রহ করে দেওয়ার অনুরোধ করেছিলেন।
দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটানোর মাধ্যমে আস্থা অর্জন
সাবেক সিআইএ কর্মকর্তা ডগলাসের ভাষ্য অনুযায়ী, সংস্থাটি অনেক সময় মানুষের দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটানোর মাধ্যমে তাদের আস্থা অর্জন করত। এর মধ্যে ফ্রিজ কিনে দেওয়া, ব্যয়বহুল চিকিৎসার খরচ বহন কিংবা স্বাস্থ্যসেবার ব্যবস্থা করে দেওয়ার মতো সহায়তাও ছিল।



