বলিভিয়ার প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো পাজ শনিবার ভোররাতে টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে ৯০ দিনের জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন এবং সেনা ও বুলডোজার দিয়ে দেশজুড়ে সড়ক অবরোধ ভাঙার নির্দেশ দেন। গত ছয় সপ্তাহ ধরে বিভিন্ন ইউনিয়ন, আদিবাসী গোষ্ঠী এবং কোকা চাষিরা রক্ষণশীল সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করে আসছে। তারা শহরগুলোতে মিছিল করে এবং পাথর, গাছের গুঁড়ি ও অন্যান্য ধ্বংসাবশেষ দিয়ে সড়ক অবরোধ করে রেখেছে।
অর্থনীতি ও জনজীবনে বিপর্যয়
এই অবরোধের ফলে প্রধান শহরগুলোতে জ্বালানি, খাদ্য ও ওষুধের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। অর্থনীতির ক্ষতি হয়েছে বিলিয়ন ডলারের বেশি। এই বিক্ষোভ বলিভিয়ার দুই দশকের মধ্যে প্রথম অ-সমাজতান্ত্রিক সরকারকে উৎখাতের হুমকি দিয়েছে। প্রেসিডেন্ট পাজ তার ভাষণে সতর্ক করে বলেন, বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে 'আইনের পূর্ণ শক্তি' প্রয়োগ করা হবে। জরুরি অবস্থা ঘোষণার ফলে বিক্ষোভের অধিকার খর্ব করা হয়েছে এবং সেনাবাহিনীকে দেশের অভ্যন্তরে মোতায়েনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
এল আল্টো শহরে এএফপি সাংবাদিকরা দেখেছেন, সেনা ও সশস্ত্র পুলিশের একটি বহর বুলডোজার নিয়ে সড়ক অবরোধ অপসারণের জন্য অগ্রসর হচ্ছে। কিছু বাসিন্দা তাদের দেখে করতালি দিয়েছেন। একজন ব্যক্তি একটি পিকআপ ট্রাকের পেছনে থাকা পুলিশ অফিসারকে এক ব্যাগ রুটি দিয়েছেন।
জনগণের প্রতিক্রিয়া
৩৯ বছর বয়সী দোকানদার কার্লা বাট্রন এএফপিকে বলেন, 'আমি খুব খুশি। গত ৫০ দিন ধরে এল আল্টোতে সবকিছু খুব কঠিন ছিল— কাজ, চলাচল সবকিছু।' লা পাজের কাছে সড়কে ট্রাক চালক এরল্যান্ড রিচার্ড সেগোভিয়া (৪৯) সান্তা ক্রুজে যাওয়ার আশা করছিলেন। তিনি বলেন, 'তারা আমাদের রাস্তায় ফেলে রেখেছিল; আমাদের অপেক্ষা করতে হয়েছিল। এখন অন্তত দেখছি ট্রাফিক স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে।'
প্রেসিডেন্ট পাজ সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্টে বলেন, 'বলিভিয়ানরা অবরোধের কারণে জিম্মি হয়ে থাকতে পারে না যা তাদের কাজ, পড়াশোনা, চিকিৎসা, সরবরাহ এবং বাড়িতে খাবার আনা থেকে বিরত রাখে। এই জরুরি অবস্থার উদ্দেশ্য স্বাভাবিকতা কেড়ে নেওয়া নয়, বরং তা ফিরিয়ে আনা।'
প্রতিবাদকারীদের দাবি ও বিভক্তি
বিক্ষোভকারীরা প্রেসিডেন্ট পাজের উদার অর্থনৈতিক সংস্কার বাতিল এবং পদত্যাগ দাবি করছে। পাজ দরকষাকষির জন্য প্রস্তুত ছিলেন এবং এই সপ্তাহের শুরুর দিকে দেশের একটি প্রধান ইউনিয়নের সাথে চুক্তি করে সংকট নিরসনের চেষ্টা করেছিলেন। রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি বেসরকারিকরণ না করার এবং আরও আলোচনার প্রতিশ্রুতির বিনিময়ে বলিভিয়ান ওয়ার্কার্স সেন্ট্রাল ইউনিয়ন তাদের বিক্ষোভ শেষ করতে রাজি হয়। তবে কিছু আদিবাসী গোষ্ঠী লড়াই চালিয়ে যাওয়ার শপথ করেছে এবং এখনও ৪০টির বেশি প্রধান সড়ক অবরোধ রয়েছে।
৪২ বছর বয়সী আইমারা নেত্রী লিডিয়া ক্যালিসায়া সম্প্রতি এএফপিকে বলেন, 'আমরা তাকে সরাতে চাই। আমরা চাই না সে শাসন করুক।'
পাজের অভিযোগ ও ইভো মোরালেসের ভূমিকা
প্রেসিডেন্ট পাজ সড়ক অবরোধের পেছনে 'নার্কোটেররিস্ট' এবং বিশেষ করে সাবেক প্রেসিডেন্ট ইভো মোরালেসকে দায়ী করেছেন। মোরালেস, একজন বামপন্থী আদিবাসী নেতা ও সাবেক কোকা চাষি, ২০০৬ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট ছিলেন। তিনি বর্তমানে আত্মগোপনে রয়েছেন এবং নাবালিকা পাচারের অভিযোগের মুখোমুখি হয়েছেন, যা তিনি অস্বীকার করেছেন। তার শক্ত ঘাঁটি কেন্দ্রীয় বলিভিয়ার চাপারে অঞ্চল, যা এখন সম্ভাব্য সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দু। হাজার হাজার আদিবাসী সমর্থক তাকে পুলিশের গ্রেপ্তার থেকে রক্ষা করছে।
শনিবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো আন্তোনিও ওভিদো সাবেক নেতাকে গ্রেপ্তারের অভিযান চালানোর সম্ভাবনা উড়িয়ে দেননি। তিনি বলেন, নিরাপত্তা বাহিনী 'প্রয়োজনীয় সময়ে প্রয়োজনীয় সব অভিযান চালাবে' এবং মোরালেসকে আইনের মুখোমুখি হতে হবে। মোরালেস সম্প্রতি আত্মগোপনে থেকে এএফপিকে বলেন, বলিভিয়ানরা একটি রক্ষণশীল সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করছে যা 'যুক্তরাষ্ট্রের কাছে সম্পূর্ণ বশ্যতাপূর্ণ'।



