সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ‘লুজার’ বলে মন্তব্য করেছেন। একই সঙ্গে তিনি ট্রাম্প প্রশাসনকে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত, অযোগ্য ও আত্মমুগ্ধ প্রশাসন বলে অভিযোগ করেন। গত শনিবার মেরিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যের হ্যানোভারে ডেমোক্রেটিক পার্টির এক গালা অনুষ্ঠানে দেওয়া ভাষণে এসব কথা বলেন তিনি।
ট্রাম্প প্রশাসনের সমালোচনা
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রায় ১০ মিনিটের বক্তব্যে ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেন বাইডেন। তিনি অভিযোগ করেন, হোয়াইট হাউসের ইস্ট উইং ভেঙে সেখানে একটি বলরুম নির্মাণের কাজ চলছে। একই সঙ্গে জন এফ কেনেডি সেন্টার ফর দ্য পারফর্মিং আর্টসের ভবনের সম্মুখভাগে নিজের নাম যুক্ত করার পর আদালতের নির্দেশে সেটি সরিয়ে নিতে হয়েছে।
বাইডেন আরও বলেন, ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি ক্যাপিটলে হামলায় দণ্ডিত হয়ে পরে প্রেসিডেন্টের ক্ষমা পাওয়া ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। এসব ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘উফ! কী ভয়ংকর! কী হারু মানসিকতার মানুষ।’
দুর্নীতি ও পররাষ্ট্রনীতি
লিংকন মেমোরিয়ালের প্রতিফলন পুকুর সংস্কার প্রকল্প নিয়েও প্রশ্ন তোলেন বাইডেন। তার দাবি, প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র ছাড়াই ট্রাম্পের এক দাতাকে ১৭ লাখ ডলারের পানি পরিশোধন ব্যবস্থার চুক্তি দেওয়া হয়েছে। তার ভাষায়, এটি ‘প্রকাশ্য ও নির্লজ্জ দুর্নীতির’ উদাহরণ।
পররাষ্ট্রনীতি নিয়েও ট্রাম্পের সমালোচনা করেন বাইডেন। তিনি অভিযোগ করেন, ট্রাম্প রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের প্রতি নমনীয় অবস্থান নিয়েছেন এবং ন্যাটোকে দুর্বল করার চেষ্টা করেছেন। তার দাবি, ট্রাম্প বিশ্বের চোখে যুক্তরাষ্ট্রের মর্যাদাকে যেকোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টের তুলনায় বেশি ক্ষতিগ্রস্ত করেছেন।
প্রেক্ষাপট ও বাইডেন পরিবার
এই বক্তব্য আসে এমন এক সময়ে, যখন ঠিক দুই বছর আগে ট্রাম্পের সঙ্গে টেলিভিশন বিতর্কে দুর্বল পারফরম্যান্সের পর ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের লড়াই থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলেন বাইডেন। পরে নির্বাচনে ট্রাম্প ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ও তৎকালীন ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসকে পরাজিত করে দ্বিতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউসে ফিরে আসেন।
এদিকে ক্ষমতা ছাড়ার পর বাইডেন পরিবারের রাজনৈতিক উপস্থিতিও আবার বাড়তে শুরু করেছে। সাবেক ফার্স্ট লেডি জিল বাইডেন সম্প্রতি তার স্মৃতিকথা প্রকাশ করেছেন। অন্যদিকে ছেলে হান্টার বাইডেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাজনীতি, মানসিক স্বাস্থ্য ও আসক্তি থেকে পুনরুদ্ধার নিয়ে নিয়মিত লিখছেন।
অনুষ্ঠানের আগে দেওয়া এক বিবৃতিতে বাইডেন বলেন, গণতন্ত্র কেবল দর্শক হয়ে দেখার বিষয় নয়; বরং মাঠপর্যায়ে মানুষের সঙ্গে কাজ করাই গণতন্ত্রকে টিকিয়ে রাখে।



