পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদের সঙ্গে চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের এক সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (৫ জুলাই) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। সাক্ষাতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, বাণিজ্য ও বিনিয়োগসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারের ওপর জোর
সাক্ষাতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার সম্পর্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি চীনের সাথে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ আরও জোরদার করার ওপর জোর দেন। এছাড়াও তিনি চীনের রাষ্ট্রদূতকে বাংলাদেশে আরও বেশি চীনা বিনিয়োগের আহ্বান জানান।
চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, চীন বাংলাদেশের সাথে সম্পর্ককে অগ্রাধিকার দেয়। তিনি বলেন, চীন বাংলাদেশের উন্নয়ন সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে। এছাড়াও তিনি কোভিড-১৯ পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে চীনের সহায়তার কথা উল্লেখ করেন।
বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা
সাক্ষাতে দুই দেশের মধ্যে বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা নিয়েও আলোচনা হয়। বিশেষ করে কৃষি, শিক্ষা, প্রযুক্তি ও জ্বালানি খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্ব পায়। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, বাংলাদেশ চীনের সাথে এসব খাতে সহযোগিতা আরও বাড়াতে আগ্রহী।
চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, চীন বাংলাদেশের সাথে এসব খাতে সহযোগিতা বাড়াতে প্রস্তুত। তিনি বলেন, চীন বাংলাদেশের জন্য বিভিন্ন প্রকল্পে অর্থায়ন ও কারিগরি সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে।
আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ইস্যু
সাক্ষাতে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ইস্যু নিয়েও আলোচনা হয়। বিশেষ করে রোহিঙ্গা সংকট ও মিয়ানমার পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, বাংলাদেশ রোহিঙ্গা সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধান চায়। তিনি এ বিষয়ে চীনের ভূমিকার প্রশংসা করেন।
চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, চীন রোহিঙ্গা সংকটের সমাধানে বাংলাদেশকে সহায়তা করে যাচ্ছে। তিনি বলেন, চীন এ বিষয়ে মিয়ানমারের সাথে আলোচনা অব্যাহত রাখবে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
সাক্ষাতে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়েও আলোচনা হয়। দুই দেশের মধ্যে উচ্চ পর্যায়ের সফর বিনিময়ের বিষয়টি গুরুত্ব পায়। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, বাংলাদেশ চীনের সাথে উচ্চ পর্যায়ের সফর বিনিময় আরও জোরদার করতে চায়।
চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, চীন বাংলাদেশের সাথে উচ্চ পর্যায়ের সফর বিনিময় অব্যাহত রাখবে। তিনি বলেন, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ পেয়েছেন এবং সফরটি শিগগিরই বাস্তবায়িত হবে বলে আশা করা যায়।



