চীন সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের যৌথ ইশতেহার ঘোষণা শুক্রবার
চীন সফরে প্রধানমন্ত্রীর যৌথ ইশতেহার ঘোষণা শুক্রবার

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফর উপলক্ষে ২৬ জুন যৌথ ইশতেহার ঘোষণা করতে যাচ্ছে দুই দেশ। ঢাকা-বেইজিং সম্পর্কের পাঁচ দশক পূর্তির পর এটি হবে তৃতীয়বারের মতো যৌথ ইশতেহার। কর্মকর্তারা জানান, সফরে ১২টির বেশি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হবে। আলোচনায় থাকবে বিভিন্ন খাতে চীনের অর্থায়ন ও সহযোগিতা। তবে যৌথ ইশতেহার থেকে স্পষ্ট যে রাজনৈতিক ও ভূকৌশলগত অংশীদারত্বের বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

সফরের সময়সূচি

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী সোমবার রাতে মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর থেকে পাঁচ দিনের সফরে চীনে পৌঁছাবেন। সফরসঙ্গীদের মধ্যে আছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান, তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন।

যৌথ ইশতেহারের ইতিহাস

১৯৭৫ সালে কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার পর নিউইয়র্কে এবং ২০০৫ সালে বেইজিংয়ে সম্পর্কের তিন দশক পূর্তিতে যৌথ ইশতেহার ঘোষণা হয়। এবার পাঁচ দশক পূর্তির পর নতুন ইশতেহার দুই দেশের সম্পর্কের রাজনৈতিক গুরুত্বকে সামনে আনছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

উচ্চপর্যায়ের বৈঠক

প্রধানমন্ত্রী বেইজিংয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং ও প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এছাড়া ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান ঝাউ লেজির সঙ্গেও সাক্ষাৎ হবে। বিশ্লেষকদের মতে, চীনের কমিউনিস্ট পার্টির তিন শীর্ষ নেতার সঙ্গে সাক্ষাৎ রাজনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের বার্তা দেয়।

বিএনপি-সিপিসি সমঝোতা

সফর সামনে রেখে বিএনপি ও চীনের কমিউনিস্ট পার্টির মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সই চূড়ান্ত হয়েছে। সিপিসির আন্তর্জাতিক বিভাগের প্রধান লিউ হাইসিং প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী সিপিসির জাদুঘর পরিদর্শন করবেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

জিডিআইতে যোগদান

সফরে চীনের প্রেসিডেন্টের বৈশ্বিক উন্নয়ন উদ্যোগে (জিডিআই) বাংলাদেশের যোগদানের ঘোষণা দেওয়ার কথা রয়েছে। ২০২১ সালে ঘোষিত জিডিআইতে যুক্ত হতে চীন দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশকে অনুরোধ জানিয়ে আসছে। এটি সই হলে প্রায় ১০ বছর পর চীনের কোনো গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক উদ্যোগে বাংলাদেশ যুক্ত হবে। এর আগে ২০১৬ সালে বাংলাদেশ বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভে (বিআরআই) যুক্ত হয়।

সামার ডাভোসে অংশগ্রহণ

প্রধানমন্ত্রী ২৩-২৪ জুন দালিয়ানে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের বার্ষিক সভায় (সামার ডাভোস) অংশ নেবেন। ২৩ জুন ফোরামের প্রেসিডেন্ট অ্যালোইস জুইনজির সঙ্গে সাক্ষাৎ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক আলোচনায় অংশ নেবেন। ২৪ জুন বেইজিংয়ের উদ্দেশে রওনা হবেন।

বেইজিংয়ের ব্যস্ত সূচি

২৫ জুন বাংলাদেশ বিনিয়োগ ফোরামে অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী চেরি গ্রুপ, হানদা গ্রুপ ও চায়নাট্যাক্স করপোরেশনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সাথে সাক্ষাৎ করবেন। বিকেলে গ্রেট হল অব পিপলে চীনের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শেষে চুক্তি সই হবে। পরদিন মনুমেন্ট অব দ্য পিপলস হিরোজে শ্রদ্ধা নিবেদন, ঝাউ লেজি ও প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং সিপিসি জাদুঘর পরিদর্শন করবেন। বিকেলে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হবেন।

চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক

সইয়ের জন্য প্রস্তুত তিনটি চুক্তি হলো: উন্নয়ন সহযোগিতা, মোংলা বন্দরের আধুনিকায়ন ও সংস্কারের রূপরেখা এবং চীনা ভাষায় শিক্ষা সহযোগিতা। সমঝোতা স্মারকের তালিকায় আছে জিডিআই বাস্তবায়ন, পরিবেশবান্ধব জ্বালানি উৎপাদন, ভূতাত্ত্বিক জরিপ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, কারিগরি শিক্ষা, এবং চায়না মিডিয়া গ্রুপের সঙ্গে বিটিভি, বাসস ও বাংলাদেশ বেতারের সহযোগিতা।

নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল (অব.) আ ন ম মুনীরুজ্জামান মনে করেন, সফর কৌশলগত সম্পর্কে নতুন মাত্রা যোগ করবে। বিশেষ করে জিডিআইতে যোগদান ও ব্রিকস, এসসিও, আরসেপে চীনের সমর্থন পেতে বাংলাদেশ চাইছে। দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা বিস্তৃত হবে এবং বড় বিনিয়োগের দ্বার উন্মোচিত হবে।