বাংলাদেশে ভারতের নতুন হাইকমিশনার হিসেবে দ্বীনেশ ত্রিবেদীকে নিয়োগের সিদ্ধান্ত
বাংলাদেশে ভারতের নতুন হাইকমিশনার দ্বীনেশ ত্রিবেদী

বাংলাদেশে ভারতের নতুন হাইকমিশনার হিসেবে দ্বীনেশ ত্রিবেদী

ভারত সরকার বাংলাদেশে তাদের নতুন হাইককমিশনার হিসেবে বিজেপি নেতা ও সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী দ্বীনেশ ত্রিবেদীকে নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এটি একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ, কারণ দীর্ঘদিন পর প্রথমবারের মতো কোনো রাজনীতিবিদ বাংলাদেশে ভারতের হাইকমিশনারের দায়িত্বে আসছেন।

দ্বীনেশ ত্রিবেদীর রাজনৈতিক পটভূমি

৭৫ বছর বয়সী দ্বীনেশ ত্রিবেদী ভারতের একজন বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ হিসেবে পরিচিত। তিনি পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন এবং তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিনিধি হিসেবে ভারতের সাবেক কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন সংযুক্ত প্রগতিশীল মোর্চা (ইউপিএ) সরকারে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। তার মধ্যে রয়েছে কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনাবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর পদ। ২০২১ সালে তিনি তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেন, যা তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে একটি বড় পরিবর্তন হিসেবে চিহ্নিত।

নিয়োগ প্রক্রিয়া ও পূর্ববর্তী হাইকমিশনার

বাংলাদেশে ভারতের হাইকমিশনার হিসেবে দ্বীনেশ ত্রিবেদীর নিয়োগের বিষয়টি বর্তমানে বাংলাদেশ সরকারের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে, তিনি বাংলাদেশে ভারতের হাইকমিশনার হিসেবে পেশাদার কূটনীতিক প্রণয় ভার্মার স্থলাভিষিক্ত হবেন। প্রণয় ভার্মাকে ইতিমধ্যে ব্রাসেলসে ইউরোপীয় ইউনিয়নে ভারতের রাষ্ট্রদূত পদে নিয়োগের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, যা এই পরিবর্তনের একটি অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের প্রেক্ষাপট

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বাংলাদেশে ক্ষমতায় আসা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ঢাকা ও দিল্লির মধ্যে সম্পর্কে কিছুটা অবনতি হয়েছিল। তবে, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশে নতুন সরকার গঠিত হওয়ার পর দুই দেশের সম্পর্ক আবার স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। এমন একটি সময়ে, নরেন্দ্র মোদি সরকার বাংলাদেশে হাইকমিশনার হিসেবে রাজনীতিক দ্বীনেশ ত্রিবেদীকে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ককে আরও জোরদার করার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

এই নিয়োগ বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হতে পারে, বিশেষ করে রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা সম্পন্ন ব্যক্তির মাধ্যমে কূটনৈতিক যোগাযোগ বাড়ানোর ক্ষেত্রে। দ্বীনেশ ত্রিবেদীর মতো অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদের উপস্থিতি দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, নিরাপত্তা ও সাংস্কৃতিক সহযোগিতা বাড়াতে সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে।