আধুনিক ফুটবল স্টেডিয়ামগুলো স্থাপত্য ও প্রকৌশলের দিক থেকে দারুণ বিস্ময়কর হতে পারে, তবে যদি কেবল চোখধাঁধানো রূপ আর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কথা বলা হয়, তবে মেক্সিকোর 'ফিল্ড অব দ্য গডস' বা 'দেবতাদের মাঠ' নামক মাটির ফুটবল মাঠটি সবাইকে টেক্কা দেবে।
অগ্নেয়গিরির ভেতরে ফুটবল মাঠ
চারদিকে সবুজে ঘেরা একটি মৃত আগ্নেয়গিরির ভেতরে গড়ে উঠেছে এই অনন্য খেলার মাঠ। মেক্সিকোর জোচিমিলকো জেলার সান্তা সেসিলিয়া তেপেতলাপা শহরের একটি অপেশাদার লিগের ম্যাচ ঘিরে প্রতি রবিবারে এই মাঠটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
তেওকা অ্যামেচার লিগ
'তেওকা অ্যামেচার লিগ' নামের এই প্রতিযোগিতায় মোট ১০টি দল অংশ নেয়, যার প্রতিটি দল সান্তা সেসিলিয়া তেপেতলাপা শহরের একেকটি একক পরিবারের প্রতিনিধিত্ব করে। এখানে খেলার জন্য কোনও বয়সের উচ্চসীমা নেই। ফলে কিশোরদের পাশাপাশি অবসরপ্রাপ্ত বয়স্ক পেনশনভোগীদেরও একসঙ্গে মাঠে ফুটবল খেলতে দেখা যাওয়াটা এখানে খুব সাধারণ ঘটনা। বর্তমানে নারীরা এই মাঠে না খেললেও, সাইডলাইন বা মাঠের বাইরে দাঁড়িয়ে নিজেদের পছন্দের খেলোয়াড় ও দলের উদ্দেশ্যে চিৎকার করে তারা ফুটবলের এই উৎসবে অংশ নেন।
প্রয়োজনের তাগিদে সৃষ্টি
তবে কোনও খামখেয়ালিপনা বা আধ্যাত্মিক চিন্তা থেকে নয়, বরং স্রেফ প্রয়োজনের তাগিদে এই 'ফিল্ড অব দ্য গডস' তৈরি হয়েছিল। সান্তা সেসিলিয়া তেপেতলাপা শহরটি মূলত খাড়া পাহাড়ি ঢাল দিয়ে ঘেরা। ফলে একটি সমতল ফুটবল মাঠ তৈরির জন্য কাছাকাছি থাকা এই মৃত আগ্নেয়গিরির ভেতরের অংশটিই ছিল সবচেয়ে সোজা ও উপযুক্ত জায়গা।
স্থানীয়দের গর্ব ও রক্ষণাবেক্ষণ
মজার ব্যাপার হলো, প্রথম দেখায় মাঠটিকে কিছুটা জরাজীর্ণ বা ক্ষয়প্রাপ্ত মনে হতে পারে, তবে এর রক্ষণাবেক্ষণ স্থানীয়দের জন্য অত্যন্ত গর্বের বিষয়। গ্রামের বাসিন্দারা পালাক্রমে মাঠের যত্ন নেন যাতে এটি খেলার জন্য সেরা অবস্থায় থাকে। তারা নিজেদের সব কাজ নিজেরাই করেন এবং সরকারি সহায়তা নিতে কঠোরভাবে অস্বীকৃতি জানান। এর পেছনে রয়েছে একটি সহজ কারণ।
স্থানীয় এক বাসিন্দা বার্তা সংস্থা এপি-কে বলেন, আমরা আমাদের সাধ্যমতো এর যত্ন নিই। এই লিগটি সম্পূর্ণ স্বায়ত্তশাসিত। আমরা পৌরসভার কোনও সমর্থন চাই না, কারণ স্থানীয় সরকার যদি এখানে বিনিয়োগ করে, তবে তারা এর মালিকানা দাবি করার চেষ্টা করবে।
বিশ্বের অন্যান্য অদ্ভুত ফুটবল মাঠ
বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে থাকা এমন সব অদ্ভুত ফুটবল মাঠের মধ্যে 'ফিল্ড অব দ্য গডস' অন্যতম। এর আগে চীনের একটি ফুটবল মাঠের খবর জানা গিয়েছিল যেটির ঠিক মাঝখানে একটি বড় গাছ দাঁড়িয়ে আছে। এ ছাড়া সবুজে ঘেরা এক গভীর জঙ্গলের মাঝে থাকা বিশ্বের সবচেয়ে সুন্দর 'ফাইভ-এ-সাইড' (পাঁচ জনের) ফুটবল মাঠের কথাও জানা গেছে।



