লেবানন-ইসরায়েল কূটনৈতিক আলোচনা শুরু, হিজবুল্লাহ সংকট সমাধানে মার্কিন মধ্যস্থতা
লেবানন-ইসরায়েল কূটনৈতিক আলোচনা শুরু, হিজবুল্লাহ সংকট সমাধানে মধ্যস্থতা

লেবানন-ইসরায়েল কূটনৈতিক আলোচনা শুরু, হিজবুল্লাহ সংকট সমাধানে মার্কিন মধ্যস্থতা

তিন দশকেরও বেশি সময় পর প্রথমবারের মতো লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে সরাসরি কূটনৈতিক আলোচনা শুরু হয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটন ডিসিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরে মঙ্গলবার এই ঐতিহাসিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনার মূল লক্ষ্য হলো লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর সঙ্গে ইসরায়েলের দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের অবসান ঘটানো এবং অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা।

আলোচনায় অংশগ্রহণকারী ও প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই বৈঠকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, লেবাননে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মিশেল ইসা, যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত লেবাননের রাষ্ট্রদূত নাদা হামাদে মোয়াওয়াদ এবং যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত ইয়েখিয়েল লাইটার অংশ নেন। বৈঠকের আগে চার কূটনীতিক একসঙ্গে ছবি তোলেন, যা অঞ্চলে নতুন এক যুগের সূচনার ইঙ্গিত বহন করে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, দুই পক্ষ সরাসরি আলোচনায় বসতে সম্মত হয়েছে, যদিও সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ বৈঠকের সময় ও স্থান এখনো নির্ধারণ করা হয়নি। ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর প্রভাব কমানোকে রুবিও ‘ঐতিহাসিক সুযোগ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যা এই আলোচনার মাধ্যমে বাস্তবায়নের চেষ্টা চলছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

দুই পক্ষের অবস্থান ও বর্তমান সংঘাত

ইসরায়েল তাদের অবস্থান স্পষ্ট করে বলেছে, তারা লেবাননে অবস্থানরত সকল অরাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে নিরস্ত্র করতে চায়, যা সরাসরি হিজবুল্লাহকে ইঙ্গিত করে। ইসরায়েলি বাহিনী দাবি করেছে, গত ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া লেবাননে তাদের সামরিক অভিযান হিজবুল্লাহকে দুর্বল করা এবং তাদের সামরিক অবকাঠামো ধ্বংস করার লক্ষ্যে পরিচালিত হচ্ছে। এ সময়ে লেবাননে দুই হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন, যা একটি ভয়াবহ মানবিক সংকট তৈরি করেছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অন্যদিকে, লেবানন যুদ্ধবিরতির জোরালো আহ্বান জানিয়েছে এবং দেশে চলমান গুরুতর মানবিক সংকট মোকাবিলায় দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার তাগিদ দিয়েছে। লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন এক বিবৃতিতে বলেন, তিনি আশা করেন এই আলোচনা দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের ভোগান্তি কমাতে ভূমিকা রাখবে। তবে তিনি এও উল্লেখ করেন যে সংঘাতের স্থায়ী সমাধান কেবল লেবাননের সশস্ত্র বাহিনীকে এলাকার একমাত্র দায়িত্বশীল শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই সম্ভব।

হিজবুল্লাহর প্রতিক্রিয়া ও চ্যালেঞ্জ

হিজবুল্লাহ এই আলোচনাকে প্রত্যাখ্যান করেছে এবং যুক্তরাষ্ট্রে হওয়া কোনো সমঝোতা মানতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। হিজবুল্লাহর রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য ওয়াফিক সাফা এপিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ‘তারা যে সমঝোতাতেই সম্মত হোক, আমরা তা মানতে বাধ্য নই।’ এটি লেবানন সরকারের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে, কারণ হিজবুল্লাহর ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ সীমিত এবং গোষ্ঠীটি ইরানের সমর্থন নিয়ে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট এক বিবৃতিতে জানান, আলোচনার পর ইসরায়েল ও লেবানন উভয়েই হিজবুল্লাহর প্রভাব কমানোর জন্য কাজ করতে সম্মত হয়েছে। তিনি আরও যোগ করেন, ইসরায়েলের আত্মরক্ষার অধিকারের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন রয়েছে, যা হিজবুল্লাহর হামলা থেকে নিজেদের রক্ষা করার ইসরায়েলি দাবিকে শক্তিশালী করে।

ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা ও মধ্যপ্রাচ্যের প্রেক্ষাপট

এই আলোচনা মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার একটি সম্ভাবনাময় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে, বিশেষ করে গাজায় চলমান যুদ্ধ এবং ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে। রুবিও সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় বলেন, ‘এটি একটি প্রক্রিয়া, এটার জন্য সময় লাগবে। তবে আমরা বিশ্বাস করি, এই প্রচেষ্টা মূল্যবান। এটি একটি ঐতিহাসিক বৈঠক, আমরা এটিকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারব বলে আশা করছি।’

লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে সর্বশেষ সরাসরি উচ্চপর্যায়ের আলোচনা ১৯৯৩ সালে হয়েছিল, যা এই নতুন উদ্যোগকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে। যদিও হিজবুল্লাহর বিরোধিতা এবং লেবাননে চলমান সহিংসতা বড় বাধা হিসেবে রয়ে গেছে, তবুও এই কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অঞ্চলে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।