ডেইলি টেলিগ্রাফের ভুল সংবাদ: পুরনো বক্তব্যকে ইসরায়েল আক্রমণের হুমকি হিসেবে উপস্থাপন
ডেইলি টেলিগ্রাফের ভুল সংবাদ: পুরনো বক্তব্যকে হুমকি হিসেবে উপস্থাপন

ডেইলি টেলিগ্রাফের বড় ভুল: পুরনো বক্তব্যকে নতুন সংঘাতের হুমকি বানানো

ব্রিটেনের খ্যাতনামা সংবাদপত্র দ্য ডেইলি টেলিগ্রাফ একটি গুরুতর ভুল সংবাদ প্রকাশের পর তা নিজেদের ওয়েবসাইট থেকে জরুরিভাবে সরিয়ে নিয়েছে। সংবাদপত্রটি তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান-এর দুই বছর পুরোনো একটি বক্তব্যকে সম্পূর্ণ ভুল প্রেক্ষাপটে উপস্থাপন করে দাবি করেছিল যে তিনি ইসরায়েল আক্রমণের হুমকি দিয়েছেন।

কী ছিল সংবাদটির বিষয়বস্তু?

রোববার প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে টেলিগ্রাফ দাবি করেছিল যে দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি হামলার প্রতিক্রিয়ায় এরদোয়ান ইসরায়েলকে 'রক্ত ও ঘৃণায় অন্ধ' বলে অভিযুক্ত করেছেন এবং সামরিক পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। সংবাদে আরও উদ্ধৃত করা হয়েছিল: 'আমরা যেভাবে লিবিয়া এবং কারাবাখে প্রবেশ করেছি, ইসরায়েলের ক্ষেত্রেও তেমনটা করার পথে কোনো বাধা নেই।'

এই মিথ্যা খবরটি প্রকাশের পরপরই ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম জেরুজালেম পোস্টমারিভ-সহ বিভিন্ন মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। তবে সোমবার তুরস্কের সরকারের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে এই দাবিকে 'সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন' বলে প্রত্যাখ্যান করা হয়।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

তুর্কি সরকারের জবাব ও টেলিগ্রাফের স্বীকারোক্তি

তুর্কি সরকারের যোগাযোগ অধিদপ্তর থেকে জানানো হয় যে এই ধরনের মিথ্যা বর্ণনা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নষ্ট করার উদ্দেশ্যে ছড়ানো হচ্ছে। বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়: 'তুরস্ক সবসময়ই রক্তপাত বন্ধ এবং বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষায় দীর্ঘস্থায়ী শান্তির পক্ষে কাজ করে আসছে।'

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ভুল ধরা পড়ার পর সোমবার সকালেই টেলিগ্রাফ তাদের অনলাইন সংস্করণ থেকে সংবাদটি মুছে ফেলে। পত্রিকাটির একজন ঊর্ধ্বতন সম্পাদক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে স্বীকার করেন যে সংবাদে ব্যবহৃত উদ্ধৃতিগুলো হয় অনেক পুরোনো অথবা পুরোপুরি বানোয়াট ছিল, তাই প্রতিবেদনটি সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

প্রকৃত বক্তব্যের বিষয়বস্তু কী ছিল?

এরদোয়ানের সেই ২০২৪ সালের বক্তব্যে তিনি মূলত ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলি নৃশংসতা ঠেকাতে তুরস্ককে শক্তিশালী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। সেখানে তিনি লিবিয়া ও কারাবাখের উদাহরণ টেনে সামরিক সক্ষমতার কথা উল্লেখ করেছিলেন, যা বর্তমানে নতুন করে ছড়ানো সংঘাতের সাথে সম্পর্কিত ছিল না।

বর্তমান কূটনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপট

গত এক সপ্তাহ ধরে তুরস্ক ও ইসরায়েলের মধ্যে কূটনৈতিক টানাপোড়েন চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এরদোয়ানের বিরুদ্ধে কুর্দি নাগরিকদের ওপর দমন-পীড়ন এবং ইরানকে সহযোগিতার অভিযোগ তুলেছেন।

এর জবাবে আঙ্কারার কর্মকর্তারা নেতানিয়াহুকে 'এই যুগের হিটলার' হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং গাজায় ইসরায়েলি হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মাঝেই টেলিগ্রাফের মতো একটি বড় সংবাদমাধ্যমের এই ধরনের ভুল সংবাদ প্রকাশ দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে আরও তিক্ততা সৃষ্টি করেছে।

বর্তমানে উভয় দেশের নেতারা একে অপরের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযোগ পাল্টা অভিযোগ করে চলেছেন। এই ঘটনাটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের দায়িত্বশীলতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে এবং ভুল তথ্য ছড়ানোর বিপদকে আরও স্পষ্ট করেছে।