ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহাসিক সরাসরি আলোচনা: পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইসলামাবাদে বৈঠক শুরু
ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহাসিক আলোচনা: ইসলামাবাদে বৈঠক শুরু

ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহাসিক সরাসরি আলোচনা: পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইসলামাবাদে বৈঠক শুরু

পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর প্রথম সরাসরি ও সর্বোচ্চ পর্যায়ের আলোচনা শুরু হয়েছে। গতকাল শনিবার একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে দুই পক্ষের প্রতিনিধিরা সামনাসামনি বসে লেবাননে চলমান ইসরায়েলি হামলা, হরমুজ প্রণালি পরিস্থিতি, ইরানের জব্দ করা সম্পদ ছাড় দেওয়ার প্রসঙ্গসহ নানা বিষয়ে আলোচনা করেন। প্রায় ছয় ঘণ্টা ধরে চলা প্রথম দফার আলোচনা শেষে দুই পক্ষ লিখিত নথি বিনিময় করেছেন।

আলোচনার পটভূমি ও সংশয়

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলার জবাবে ইরান পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনায় হামলা চালায় এবং হরমুজ প্রণালি প্রায় বন্ধ করে দেয়। এতে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি অস্থিরতা তৈরি হলে যুদ্ধবিরতির জন্য আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ে। পাকিস্তানসহ কয়েকটি দেশের মধ্যস্থতায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেন, যা ইরানও নিশ্চিত করে। এর ধারাবাহিকতায় ইসলামাবাদে এ আলোচনা শুরু হয়, যদিও শুরুতে সংশয় ছিল যে প্রতিনিধিরা আলাদা কক্ষে বসে পাকিস্তানি কর্মকর্তাদের মাধ্যমে বার্তা আদান-প্রদান করবেন।

প্রতিনিধিদল ও মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, যাঁর সঙ্গে রয়েছেন প্রেসিডেন্টের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা জ্যারেড কুশনার। ইরানের পক্ষে নেতৃত্ব দেন পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ, সঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ও জাতীয় প্রতিরক্ষা কাউন্সিলের প্রধান আলী আকবর আহমাদিয়ান। মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে বৈঠক করে দুই প্রতিনিধিদল গঠনমূলক আলোচনার প্রতিশ্রুতি দেন, এবং পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা প্রধান ফিল্ড মার্শাল সৈয়দ আসিম মুনিরও উপস্থিত ছিলেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আলোচনার বিষয়বস্তু ও অগ্রগতি

প্রথম দফার আলোচনায় হরমুজ প্রণালি নিয়ে ব্যাপক মতভেদ উঠে এসেছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র অতিরিক্ত দাবি চাপিয়ে দিতে চাইছে বলে ইরানের সংবাদ সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে। আল-জাজিরার সূত্র মতে, লেবানন পরিস্থিতিতে কিছু অগ্রগতি হয়েছে এবং ইরানের জব্দ সম্পদ ছাড়ের কথাও উঠেছে। তবে সেন্টার ফর মিডল ইস্ট স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের গবেষক আবাস আসলানি সতর্ক করে দিয়েছেন যে এটি একটি প্রক্রিয়ার শুরু, এবং পাকিস্তানের সাবেক রাষ্ট্রদূত মালিহা লোদি দ্রুত সিদ্ধান্তে না পৌঁছাতে পরামর্শ দিয়েছেন।

পরবর্তী পদক্ষেপ ও আঞ্চলিক প্রভাব

আলোচনা কত দিন চলবে তা অনিশ্চিত, যদিও প্রাথমিকভাবে দুই দিনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইরানের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার হুমকি দিয়েছেন, এবং লেবাননে গতকালও হামলা চালিয়ে ১১ জন নিহত হয়েছে। বিশ্লেষক শাহির শাহিদ সালেসের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ, এবং ইসরায়েলকে লেবাননে হামলা বন্ধ করতে বাধ্য করা না হলে যুদ্ধবিরতি টিকবে না। আগামী মঙ্গলবার ওয়াশিংটনে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে আলাদা বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।