ট্রাম্পের 'টাকো' পরিচয় ও ইরান যুদ্ধে মার্কিন পরাজয়ের গভীর বিশ্লেষণ
ট্রাম্পের 'টাকো' পরিচয় ও ইরান যুদ্ধে মার্কিন পরাজয়

ট্রাম্পের 'টাকো' পরিচয় ও ইরান যুদ্ধে মার্কিন পরাজয়ের গভীর বিশ্লেষণ

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের অপমানজনক নাম দিতে সিদ্ধহস্ত। মার্কো রুবিওকে 'লিটল মার্কো', জো বাইডেনকে 'স্লিপিং জো' এবং রোজি ও'ডনেলকে 'ফ্যাট পিগ' নামে ডেকে তিনি বিতর্ক সৃষ্টি করেছেন। কিন্তু এবার ট্রাম্প নিজেই 'টাকো' নামে আটকে গেছেন, যার অর্থ 'ট্রাম্প অলওয়েজ চিকেন্স আউট'। বাংলায় বলতে গেলে, ট্রাম্প বারবার ভয়ে পিছিয়ে আসেন বা মত বদলান।

যুদ্ধবিরতি ও ট্রাম্পের রাজনৈতিক চাপ

ইরানের বিরুদ্ধে ট্রাম্প হরমুজ প্রণালি খোলার হুমকি দিয়েছিলেন, কিন্তু যুদ্ধ শুরুর ঘোষণার মাত্র দেড় ঘণ্টা আগে তিনি ইরানের ১০ দফা প্রস্তাব মেনে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হন। এই সিদ্ধান্তে অনেকেই হাঁপ ছেড়ে বাঁচলেও, মার্কিন ভাষ্যকাররা মনে করেন এই ৩৮ দিনের যুদ্ধে ট্রাম্পেরই সবচেয়ে বড় হার হয়েছে। শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জন মেয়ার্শহাইমার যুদ্ধ শুরুর আগেই ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন যে ট্রাম্প ও আমেরিকা পরাজিত হবে।

কৌশলগত লক্ষ্যহীনতা ও আন্তর্জাতিক বিচ্ছিন্নতা

ট্রাম্পের পরাজয়ের ব্যাপকতা স্পষ্ট হয় যখন আমরা তাঁর ট্রুথ সোশ্যাল বার্তা স্মরণ করি, যেখানে তিনি নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ ছাড়া কোনো চুক্তি প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। কিন্তু বাস্তবে তিনি ইরানের শর্ত মেনে নেন। ইরানের শর্তগুলোর মধ্যে পারমাণবিক গবেষণা চালিয়ে যাওয়া, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা, মার্কিন সেনা প্রত্যাহার ও নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া অন্তর্ভুক্ত ছিল। সিআইএর সাবেক প্রধান লিওন পানেটা উল্লেখ করেন যে ট্রাম্পের কোনো কৌশলগত লক্ষ্যই অর্জিত হয়নি।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

কূটনৈতিকভাবে ট্রাম্প সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন, কারণ ন্যাটো মিত্ররা তাঁর যুদ্ধে সঙ্গ দেয়নি। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট মাখোঁ ও যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী স্টারমার সরাসরি এই যুদ্ধে অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানান। ট্রাম্পের হুমকিমূলক বক্তব্য, যেমন ইরানি সভ্যতা ধ্বংসের ঘোষণা, তাঁকে আন্তর্জাতিক সমাজে একঘরে করে ফেলে। সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও ন্যান্সি পেলোসি এটিকে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করেন।

নেতানিয়াহুর ভূমিকা ও আঞ্চলিক প্রভাব

এই যুদ্ধে ট্রাম্পের প্রধান মিত্র ছিলেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু, যিনি ইরানে সরকারবিরোধী বিদ্রোহের আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু বাস্তবে ইরানের সরকারের পতন তো হয়ইনি, বরং নতুন নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ইসরায়েলি দৈনিক হারেৎজ লিখেছে যে ইসরায়েলের কৌশলগত লক্ষ্যগুলো অর্জিত হয়নি।

যুদ্ধে ইরান শুধু টিকে থেকে জয়ী হয়েছে, কিন্তু শান্তি ফিরলে দেশটি অর্থনৈতিক সংকটে পড়তে পারে। উপসাগরীয় দেশগুলো, বিশেষ করে আরব আমিরাত, ইরানি হামলায় ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই দেশগুলো এখন আর 'সেইফ হ্যাভেন' হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে না, যা বিদেশি বিনিয়োগ কমিয়ে দিতে পারে।

পাকিস্তান ও অন্যান্য দেশের ভূমিকা

পাকিস্তান যুদ্ধবিরতি অর্জনে সফল দূতের ভূমিকা পালন করে প্রশংসা কুড়িয়েছে, ট্রাম্প ও ইরান উভয়েই তাদের ধন্যবাদ জানিয়েছে। চীন ও রাশিয়া এই যুদ্ধ থেকে লাভবান হয়েছে, কারণ তেলের দাম বৃদ্ধি ও ন্যাটোর দুর্বলতা তাদের সুবিধা এনে দিয়েছে।

অন্যদিকে, ভারত ও বাংলাদেশ এই যুদ্ধে পরোক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ইসরায়েল সফর সমালোচনার জন্ম দিয়েছে, আর বাংলাদেশ উপসাগরীয় দেশগুলোর অর্থনৈতিক সংকটে পড়লে সেখানকার শ্রমিকরা ক্ষতির মুখোমুখি হতে পারেন। বাংলাদেশের দায়সারা কূটনৈতিক বিবৃতি ইরানের রাষ্ট্রদূতকে হতাশ করেছে, যা দেশটির অনভিজ্ঞতারই প্রতিফলন।