লেবাননে ইসরায়েলি হামলার প্রতিক্রিয়ায় পাকিস্তানি প্রতিরক্ষামন্ত্রীর 'শয়তান' মন্তব্যে ইসরায়েলের তীব্র নিন্দা
লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর ভয়াবহ বিমান হামলার প্রতিক্রিয়ায় পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মুহাম্মদ আসিফের কঠোর মন্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দপ্তর। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) তুর্কি সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। খাজা আসিফ ইসরায়েলকে ‘শয়তান’ এবং ‘মানবতার অভিশাপ’ বলে অভিহিত করার পর দুই দেশের মধ্যে চরম কূটনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
পাকিস্তানি প্রতিরক্ষামন্ত্রীর বিস্ফোরক বক্তব্য
গত বুধবার লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় ২৫৬ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে খাজা আসিফ এই প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে অভিযোগ করেছেন, যখন ইসলামাবাদে যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা চলছে, তখনো ইসরায়েল লেবাননে বেসামরিক নাগরিকদের হত্যা করে চলেছে। তিনি তার পোস্টে লিখেছেন, ‘ইসরায়েল একটি শয়তানি শক্তি এবং মানবতার জন্য অভিশাপ।’
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ইসরায়েল প্রথমে গাজা, তারপর ইরান এবং এখন লেবাননে নির্বিচারে রক্তপাত ঘটিয়ে গণহত্যা চালাচ্ছে। খাজা আসিফ অত্যন্ত কঠোর ভাষায় বলেন যে, যারা ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েল রাষ্ট্র সৃষ্টি করেছে তারা যেন ‘নরকের আগুনে পোড়ে’। তার এই বিস্ফোরক মন্তব্য মুহূর্তেই আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসে।
ইসরায়েলের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া ও কূটনৈতিক উত্তেজনা
খাজা আসিফের এই বার্তার জবাবে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর কার্যালয় থেকে একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি জারি করা হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে যে, পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর এই বক্তব্য মূলত ইসরায়েল রাষ্ট্রকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার একটি নির্লজ্জ আহ্বান, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ইসরায়েলি পক্ষ দাবি করেছে যে, কোনো দায়িত্বশীল সরকারের কাছ থেকে এমন মন্তব্য প্রত্যাশা করা যায় না, বিশেষ করে যারা নিজেদের শান্তির মধ্যস্থতাকারী হিসেবে দাবি করে।
নেতানিয়াহুর দপ্তর মনে করে, পাকিস্তানের এই অবস্থান তাদের নিরপেক্ষতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে এবং এটি শান্তি প্রক্রিয়ার জন্য একটি বড় অন্তরায়। ইসলামাবাদে যখন একটি শান্তি আলোচনার প্রস্তুতি চলছে, তখন পাকিস্তানের একজন শীর্ষ মন্ত্রীর এমন আক্রমণাত্মক অবস্থানকে ইসরায়েল তাদের রাষ্ট্র ধ্বংসের উসকানি হিসেবে বর্ণনা করেছে।
লেবাননে ক্রমবর্ধমান সহিংসতা ও শান্তি আলোচনার অনিশ্চয়তা
বর্তমানে পাকিস্তান ও ইরানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ঘোষিত দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি নিয়ে ব্যাপক কূটনৈতিক তৎপরতা চললেও মাঠপর্যায়ে সহিংসতা কমছে না। যদিও মধ্যস্থতাকারীরা দাবি করছেন যে এই যুদ্ধবিরতি লেবাননের জন্যও প্রযোজ্য, তবে ওয়াশিংটন ও তেল আবিব তা বারবার অস্বীকার করছে।
লেবাননের সিভিল ডিফেন্সের তথ্য অনুযায়ী, গত বুধবার থেকে ইসরায়েলি হামলায় দেশটিতে নিহতের সংখ্যা ৩০৩ ছাড়িয়েছে এবং আহতের সংখ্যা ১ হাজার ১৫০ ছাড়িয়েছে। গত ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি অভিযানে লেবাননে এ পর্যন্ত ১ হাজার ৮৮৮ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এই ক্রমবর্ধমান প্রাণহানি ও খাজা আসিফের কড়া মন্তব্য ইসলামাবাদে চলমান শান্তি আলোচনাকে এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দিয়েছে।
এই ঘটনা আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে, যেখানে পাকিস্তান ও ইসরায়েলের মধ্যে সম্পর্ক আরও জটিল হয়ে উঠছে। লেবাননে চলমান সংঘাত এবং শান্তি প্রক্রিয়ার ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।



