ভারতের কাছে প্রত্যর্পণ চাইল বাংলাদেশ: শেখ হাসিনা-কামাল ও ভিসা সহজীকরণ আলোচনায়
ভারতের কাছে শেখ হাসিনা-কামালের প্রত্যর্পণ চাইল বাংলাদেশ

ভারতের কাছে সরাসরি প্রত্যর্পণ অনুরোধ বাংলাদেশের

বাংলাদেশ সরকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের প্রত্যর্পণের জন্য ভারতের কাছে সরাসরি অনুরোধ জানিয়েছে। গত বুধবার (৮ এপ্রিল) দিল্লির হায়দ্রাবাদ হাউজে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এবং বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে এই প্রত্যর্পণ চাওয়া হয়।

প্রত্যর্পণ চুক্তি ও অতিরিক্ত বিষয়াবলি

বৈঠকে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামাল ছাড়াও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদি হত্যা মামলার বিষয়টি উত্থাপন করা হয়। ভারতীয় পক্ষ জানিয়েছে যে, দু’দেশের মধ্যে বিদ্যমান প্রত্যর্পণ চুক্তির অধীনে এই মামলার আসামিদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হবে। এটি একটি উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন, কারণ পূর্বে বাংলাদেশ চিঠি ও ভারতীয় হাইকমিশনারের মাধ্যমে পরোক্ষভাবে প্রত্যর্পণ চেয়েছিল।

ভিসা নীতিতে পরিবর্তনের ইঙ্গিত

২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বাংলাদেশে নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসে, এবং তারপর থেকে ভারত বাংলাদেশিদের জন্য ভিসা নীতি সীমিত করেছিল। এবারের বৈঠকে ভিসা সহজীকরণ একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় ছিল। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্কর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে বাংলাদেশিদের জন্য মেডিকেল ও বিজনেস ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করা হবে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

জ্বালানি সরবরাহ বৃদ্ধির অনুরোধ

পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান বৈঠক শেষে ভারতের তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রী হরদীপ পুরীর সাথেও সাক্ষাৎ করেন। এসময় তিনি ভারতের পক্ষ থেকে বাংলাদেশে ডিজেল সরবরাহের জন্য ধন্যবাদ জানান এবং ডিজেল ও সার সরবরাহের পরিমাণ বাড়ানোর অনুরোধ করেন। হরদীপ পুরী ইঙ্গিত দেন যে, ভারত সরকার এই অনুরোধটি দ্রুত ও অনুকূলভাবে বিবেচনা করবে।

উচ্চপর্যায়ের উপস্থিতি ও পূর্ববর্তী আলোচনা

দুই বৈঠকেই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং ভারতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহ উপস্থিত ছিলেন। এর আগে, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দিল্লিতে পৌঁছানোর পর বাংলাদেশি প্রতিনিধিদল ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের সাথেও বৈঠক করে। সেসব আলোচনায় উভয় পক্ষ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার করা এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ইস্যু নিয়ে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব আরোপ করে।

এই বৈঠকগুলো বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি নতুন মাত্রা যোগ করেছে, যেখানে আইনি, অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সহযোগিতা একসাথে আলোচিত হচ্ছে।