ভিসা ও জ্বালানি চুক্তি: ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে প্রধান চ্যালেঞ্জ
ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে ভিসা ও জ্বালানি চুক্তি প্রধান চ্যালেঞ্জ

ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে ভিসা ও জ্বালানি চুক্তি প্রধান চ্যালেঞ্জ

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর বাংলাদেশে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়েছিল। সেই সময় থেকে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের উল্লেখযোগ্য অবনতি ঘটে। উভয় দেশই একে অপরের বিরুদ্ধে বেশ কিছু কঠোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছিল। তবে চলতি বছর ফেব্রুয়ারি মাসে নির্বাচনের পর বাংলাদেশে নতুন সরকার গঠনের পর দুই পক্ষ থেকেই সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য সক্রিয় প্রচেষ্টা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

ভিসা ইস্যু: সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রধান বাধা

কূটনৈতিক বিশ্লেষক ও সাবেক রাষ্ট্রদূত হুমায়ুন কবীর সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ক্ষেত্রে ভিসাকে একটি বড় বাধা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা ভারতীয়দের ক্ষেত্রে ভিসা খুলে দিয়েছি। তারাও বলছে, তারা খুলে দেবে, তবে এখনও চালু করেনি। এটা চালু হলে একটা পথ উন্মুক্ত হলো। ইতোমধ্যে বাস চলাচল শুরু হয়েছে। এখন ট্রেন চলাচলের একটা অনুরোধ থাকতে পারে।’

তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘আরেকটা বিষয় খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বৈশ্বিক এই পরিস্থিতিতে ভারত থেকে ডিজেল আসছে, এটা আরও বাড়ানোর অনুরোধ থাকবে। সড়কপথে ব্যবসা এবং ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা যেটা বাতিল করেছে, সেটা আবার চালু করা। এই মুহূর্তে গঙ্গা চুক্তি নবায়নের বিষয় খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা শুনতে পাচ্ছি, দুই পক্ষই আলোচনায় বসবে। এখন এই আলোচনা শুরু হলেও ডিসেম্বরের আগে এটাকে শেষ করে আনতে হবে।’

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

জ্বালানি নিরাপত্তা ও পারস্পরিক বোঝাপড়া

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক অধ্যাপক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, ‘ভারত কিন্তু এতদিন অপেক্ষা করেছে নির্বাচিত সরকারের জন্য। সেটা তারা বলেছেও। এখন নির্বাচিত সরকার এসেছে, ফলে আলোচনাটা শুরু হচ্ছে। বিশ্বজুড়ে যে জ্বালানি সংকট চলছে, এখানে বাংলাদেশে পাশে ভারতের দাঁড়ানোর সুযোগ আছে। যেহেতু ২০২৩ সালে একটা পাইপলাইন করা হয়েছে, সেখানে পর্যাপ্ত ডিজেল প্রাপ্তির একটা চেষ্টা তো এই সফলে থাকবে।’

তিনি ভিসা ইস্যুর গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, ‘পাশাপাশি ভিসা ইস্যু তো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই সফরে ভিসা ইস্যু গুরুত্ব পাবে। একই সঙ্গে দিল্লি চাইবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী যেন প্রথম সফরে দিল্লি যান। সে ব্যাপারেও আলোচনা হতে পারে। আগে একটি দলের সঙ্গে দিল্লির সম্পর্ক ছিল, এখন তারা কীভাবে বিষয়টি পরিবর্তন করে সেটাও দেখার বিষয়। তবে আমাদের দিক থেকে জ্বালানি নিরাপত্তাই এখন প্রধান আলোচনার বিষয়।’

দুই দেশের পারস্পরিক নির্ভরশীলতা

সাবেক রাষ্ট্রদূত নাসিম ফেরদৌস বলেন, ‘এখানে দুই দেশেরই একে অপরের প্রতি নির্ভরশীলতা আছে। ফলে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে দুই দেশকেই এগিয়ে আসতে হবে। আমি মনে করি, ইতোমধ্যে এই প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বিজয়ী হওয়ার পর ভারত কিন্তু উষ্ণ অভ্যর্থনা জানিয়েছে। আগের অন্তর্বর্তী সরকারের সময় যে শীতল সম্পর্ক ছিল, সেখান থেকে আমরা বেরিয়ে এসেছি। এখন এই সম্পর্ককে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।’

বিশ্লেষকরা মনে করেন, ২০২৪ সালের পর বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে মর্যাদার ভিত্তিতে সম্পর্ক গড়ে তোলার একটি মনোভাব তৈরি হয়েছে। এই বিষয়টি ভারত কীভাবে দেখে তা নিয়েও আলোচনা হতে পারে। হুমায়ুন কবীরের মতে, ‘পারস্পরিক জানাশোনার মধ্যেই এই সফর থাকবে।’

সামগ্রিকভাবে, ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক স্বাভাবিক করার জন্য ভিসা ইস্যুর সমাধান, গঙ্গা চুক্তি নবায়ন, জ্বালানি সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং সড়কপথে ব্যবসা-বাণিজ্যের সুবিধা পুনর্বহাল করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিশেষজ্ঞরা মত দিয়েছেন। দুই দেশের মধ্যে চলমান আলোচনা এবং পারস্পরিক বোঝাপড়াই এই সম্পর্ককে এগিয়ে নিতে পারে।