ইরান যুদ্ধবিরতিতে চীনের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ, ট্রাম্পের ইঙ্গিত
ইরান যুদ্ধবিরতিতে চীনের ভূমিকা, ট্রাম্পের ইঙ্গিত

ইরান যুদ্ধবিরতিতে চীনের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ, ট্রাম্পের ইঙ্গিত

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, ইরানকে যুদ্ধবিরতিতে রাজি করাতে চীনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকতে পারে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, শেষ মুহূর্তে বেইজিংয়ের কূটনৈতিক উদ্যোগেই তেহরান আলোচনার টেবিলে আসে। মার্কিন সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা যায়, তেহরানের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার হিসেবে চীন এই যুদ্ধবিরতির পেছনে প্রভাবশালী ভূমিকা পালন করেছে।

ট্রাম্পের মন্তব্য ও চীনের সম্পৃক্ততা

এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প বলেন, “আমি যা শুনেছি তা হলো, হ্যাঁ” অর্থাৎ চীনের সম্পৃক্ততার বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেননি। সূত্র বলছে, বেইজিং সরাসরি নয়, বরং বিভিন্ন মধ্যস্থতাকারী দেশের মাধ্যমে কাজ করেছে। এর মধ্যে ছিল পাকিস্তান, তুরস্ক এবং মিশর। এসব দেশের সঙ্গে সমন্বয় করে ইরানকে শান্তিপূর্ণ সমাধানের দিকে এগিয়ে নিতে চেষ্টা চালায় চীন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, আলোচনার প্রতিটি ধাপে চীনা কর্মকর্তারা ইরানি পক্ষের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ বজায় রেখেছিলেন।

কূটনৈতিক বৈঠক ও চীনের কৌশল

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই যুদ্ধবিরতির পেছনে আরেকটি বড় কারণ হলো আসন্ন কূটনৈতিক বৈঠক। আগামী মে মাসে শি জিনপিংয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চীন সফরের পরিকল্পনা রয়েছে ট্রাম্পের। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে এই সফর পিছিয়ে যাচ্ছিল, যা বেইজিংয়ের জন্য অস্বস্তিকর হয়ে উঠছিল। যদিও চীন প্রকাশ্যে তাদের ভূমিকা নিয়ে কিছু বলেনি, তবে ওয়াশিংটনে অবস্থিত চীনা দূতাবাস আগে জানিয়েছিল সংঘাত শুরুর পর থেকেই তারা “শান্তির জন্য নিরলসভাবে” কাজ করছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

চীনের অবস্থান ও বৈশ্বিক প্রভাব

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং বলেন, সব পক্ষকে আন্তরিকতা দেখিয়ে দ্রুত যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটাতে হবে। তিনি আরও সতর্ক করেন, এই সংঘাত বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এদিকে, জাতিসংঘে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবে চীনের পাশাপাশি রাশিয়াও ভেটো দিয়েছে। প্রস্তাবটিতে হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক উদ্যোগের আহ্বান জানানো হয়েছিল। জাতিসংঘে চীনের প্রতিনিধি ফু কং বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে এই প্রস্তাব অনুমোদন “ভুল বার্তা” দিতে পারে।

বিশ্লেষণ ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা

বিশ্লেষকদের মতে, এই পুরো প্রক্রিয়ায় চীনের সক্রিয়তা বিশ্ব রাজনীতিতে আরও প্রভাবশালী ভূমিকা নেওয়ার কৌশলের অংশ। যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু স্বীকার করা হয়নি, তবুও পর্দার আড়ালের এই কূটনীতি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন সমীকরণ তৈরি করছে। চীনের এই পদক্ষেপগুলি ইঙ্গিত দেয় যে, তারা বৈশ্বিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে আগ্রহী।