ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির শারীরিক অবস্থা নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস
ব্রিটিশ গণমাধ্যম দ্য টাইমস একটি কূটনৈতিক নোটের ভিত্তিতে প্রকাশ করেছে যে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় কোমায় রয়েছেন এবং দেশটির পবিত্র শহর কোমে চিকিৎসাধীন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি বর্তমানে দেশ পরিচালনার মতো অবস্থায় নেই, যা ইরানের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে।
গোয়েন্দা তথ্য ও নথির বিবরণ
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল ২০২৬) প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত একটি কূটনৈতিক নোট উপসাগরীয় মিত্রদের সঙ্গে শেয়ার করা হয়েছে। নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, সম্প্রতি নিহত দীর্ঘদিনের নেতা আলি খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনি অচেতন অবস্থায় আছেন এবং একটি গুরুতর শারীরিক সমস্যার চিকিৎসা নিচ্ছেন।
দ্য টাইমস-এর হাতে আসা নথিতে প্রথমবারের মতো তার অবস্থান হিসেবে কোম শহর এর উল্লেখ করা হয়েছে, যা তেহরান থেকে প্রায় ৮৭ মাইল দক্ষিণে অবস্থিত এবং শিয়া মুসলমানদের কাছে অত্যন্ত পবিত্র হিসেবে বিবেচিত। নথিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, মোজতবা খামেনি কোমে গুরুতর অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং শাসনব্যবস্থার কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণে তিনি অংশ নিতে পারছেন না।
পারিবারিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
একই নথিতে আলি খামেনির মরদেহ কোমে দাফনের প্রস্তুতির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে একটি বড় সমাধিসৌধ নির্মাণের প্রস্তুতি চলছে। এ থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে যে খামেনি পরিবারের অন্য সদস্যদের পাশাপাশি মোজতবা খামেনিকেও সেখানে দাফন করা হতে পারে। ইরান সরকার স্বীকার করেছে, যে বিমান হামলায় আলি খামেনি নিহত হন, সেই একই হামলায় মোজতবা খামেনিও আহত হন এবং তার মা, স্ত্রী জাহরা হাদ্দাদ-আদেল ও এক সন্তান নিহত হন।
যুদ্ধ শুরুর পর থেকে মোজতবা খামেনিকে আর জনসমক্ষে দেখা যায়নি। মার্চের শুরুতে তাকে সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে মনোনীত করা হলেও এরপর তার নামে কেবল দুটি লিখিত বিবৃতি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচার করা হয়েছে। সোমবার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে তার একটি এআই-নির্মিত ভিডিও প্রকাশ করা হয়, যেখানে তাকে একটি যুদ্ধকক্ষে ইসরাইলের ডিমোনা পারমাণবিক স্থাপনার মানচিত্র বিশ্লেষণ করতে দেখা যায়, কিন্তু তার কণ্ঠ না থাকায় শারীরিক অবস্থা নিয়ে জল্পনা আরও জোরদার হয়েছে।
ক্ষমতার ভারসাম্য ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
ইরানি কর্মকর্তারা দাবি করছেন যে মোজতবা খামেনি এখনো দেশের নিয়ন্ত্রণে আছেন, কিন্তু বিরোধী গোষ্ঠীগুলো বলছে তিনি কোমায় চিকিৎসাধীন। আবার কেউ কেউ দাবি করেছেন, তিনি পা ভেঙে যাওয়াসহ মুখে আঘাত পেয়েছেন। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এ অবস্থায় ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) হাতে প্রকৃত ক্ষমতা চলে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে এবং খামেনি কেবল প্রতীকী নেতা হয়ে থাকতে পারেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি ইরানের অন্যান্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করছেন, তবে সরাসরি সর্বোচ্চ নেতার সঙ্গে নয়। অন্যদিকে, আলি খামেনির দাফন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, আগে তাকে মাশহাদের একটি শিয়া মাজারে দাফনের কথা বলা হলেও এখনো কোনো তারিখ ঘোষণা করা হয়নি। সরকারি সূত্র জানিয়েছে, অভূতপূর্ব জনসমাগমের আশঙ্কায় তার রাষ্ট্রীয় জানাজা স্থগিত করা হয়েছে।
এসব ঘটনায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতার কার্যকারিতা নিয়ে ব্যাপক প্রশ্ন উঠেছে, যা আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, মোজতবা খামেনির অবস্থান সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো আগে থেকেই অবগত ছিল, তবে তা এতদিন প্রকাশ করা হয়নি, যা আন্তর্জাতিক সম্পর্কের জটিলতা নির্দেশ করে।



