যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বৈষম্যমূলক বাণিজ্যচুক্তি বাতিলের দাবি গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের
গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পাদিত রেসিপ্রোক্যাল ট্রেড অ্যাগ্রিমেন্ট বাতিলের দাবি জানিয়েছে। তারা এই চুক্তিকে বৈষম্যমূলক ও জাতীয় স্বার্থবিরোধী হিসেবে উল্লেখ করে এর সঙ্গে জড়িতদের বিচার দাবি করেছে।
চুক্তির বৈষম্যমূলক প্রকৃতি
বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ বলেন, ২০২৬ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি সই করা এই চুক্তি সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রকৃতির। তিনি উল্লেখ করেন, চুক্তির আওতায় বাংলাদেশকে যুক্তরাষ্ট্রের ৬ হাজার ৭১০টি পণ্যে শুল্ক ছাড় দিতে হবে, কিন্তু বাংলাদেশ শুল্কসুবিধা পাবে মাত্র ১ হাজার ৬৩৮টি পণ্যে।
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) এর মতে, এর ফলে বাংলাদেশ বছরে ১ হাজার ৩২৭ কোটি টাকার আমদানি-শুল্ক রাজস্ব হারাবে। বিনিময়ে বাংলাদেশকে যে ‘সুবিধা’ দেওয়া হয়েছে, তা নেহাতই নামমাত্র, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের পণ্যের ওপর পাল্টা শুল্ক ৩৭ শতাংশ থেকে কমিয়ে মাত্র ১৯ শতাংশ করা হয়েছে।
অর্থনৈতিক প্রভাব ও বোঝা
বজলুর রশীদ ফিরোজ আরও বলেন, এই চুক্তি বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে সস্তায় পণ্য কেনার স্বাধীনতা হরণ করবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের পণ্য বেশি দামে কিনতে বাধ্য করবে। গম, তুলা, রাসায়নিক ও শিল্প পণ্য, এলএনজি, প্রতিরক্ষাসামগ্রীসহ বিভিন্ন পণ্যসামগ্রী যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে অতিরিক্ত মূল্য দিয়ে কিনতে হবে।
তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বোয়িং কোম্পানির কাছ থেকে ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তির কথাও উল্লেখ করেন, যার প্রাথমিক মূল্য ৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩৫ হাজার থেকে ৪৫ হাজার কোটি টাকা)। এই চুক্তির অর্থ বাংলাদেশকে ১০ থেকে ২০ বছর ধরে প্রতিবছর ১ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার কোটি টাকা কিস্তি দিতে হবে, যা জনগণের ওপর অন্যায় আর্থিক বোঝা চাপিয়ে দেবে।
রাজনৈতিক দাবি ও সমাবেশ
জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সোমবার এক সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিলে গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের নেতারা এই দাবি জানান। তারা খলিলুর রহমানকে এই চুক্তির ‘মূল হোতা’ উল্লেখ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী পদ থেকে তাঁকে অবিলম্বে অপসারণের দাবি করেন।
সমাবেশে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সভাপতি সাজ্জাদ জহির, বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল কবীর জাহিদ, বাসদ (মাহবুব) সাধারণ সম্পাদক হারুনার রশীদ ভূঁইয়া, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু, বাসদ (মার্ক্সবাদী) সমন্বয়ক মাসুদ রানা, সিপিবির সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ ক্কাফী, বাসদের সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য নিখিল দাস, বাংলাদেশ জাসদের কেন্দ্রীয় নেতা রুকনুজ্জামান রোকন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পাদিত এই চুক্তিকে দেশবিরোধী উল্লেখ করে এ বিষয়ে বর্তমান সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করার দাবি জানান।



