যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবে ইরানের অবস্থান: শর্তসহ দাবি জানাল তেহরান
সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এক সংবাদ সম্মেলনে ঘোষণা করেছেন যে, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে পাওয়া সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবের বিপরীতে দেশটি তাদের দাবি ও অবস্থান চূড়ান্ত করেছে। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, কোনো ধরনের আলটিমেটাম বা যুদ্ধাপরাধের হুমকির মুখে সমঝোতা আলোচনা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়।
ইরানের শর্ত ও জাতীয় স্বার্থ
মুখপাত্র বাঘাই জানান, তেহরান তাদের জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে নির্দিষ্ট কিছু শর্ত ও প্রয়োজনীয়তার একটি তালিকা তৈরি করেছে, যা ইতোমধ্যে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও যোগ করেন, এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে দেওয়া ১৫ দফার পরিকল্পনাটি ‘অতিরিক্ত ও অযৌক্তিক’ হওয়ার কারণে ইরান তা প্রত্যাখ্যান করেছে।
ন্যায়সঙ্গত দাবি ও আস্থার প্রতিফলন
সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে বাঘাই বলেন, ইরান তার ন্যায়সঙ্গত দাবিগুলো স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে দ্বিধা করে না। তবে তিনি সতর্ক করে দেন যে, একে দুর্বলতা বা আপস হিসেবে দেখার সুযোগ নেই, বরং এটি ইরানের নিজেদের অবস্থানের ওপর আস্থার প্রতিফলন। তেহরান বর্তমানে তাদের নিজস্ব প্রতিক্রিয়া ও প্রস্তাবনাগুলো গুছিয়ে এনেছে এবং যথাযথ সময়ে এর বিস্তারিত বিবরণ প্রকাশ করা হবে বলেও তিনি জানান।
প্রেক্ষাপট ও বিশ্বব্যাপী কৌতূহল
তেহরানের শহীদ বেহেস্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা ভবনে সাম্প্রতিক হামলার ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার চেষ্টার মধ্যেই ইরানের পক্ষ থেকে এই কূটনৈতিক অবস্থানের কথা জানানো হলো। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সাথে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে এই যুদ্ধবিরতি প্রচেষ্টা এখন কোন দিকে মোড় নেয়, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে কৌতূহল বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইরানের এই পদক্ষেপ আঞ্চলিক শান্তি প্রক্রিয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
সূত্র: রয়টার্স।



