সরকার ভারতের সাথে সম্পর্ক পুনর্বিন্যাসের লক্ষ্য নিয়েছে, যা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমলে অনুসৃত ধারা থেকে ভিন্ন হবে বলে সোমবার জানিয়েছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। তিনি সচিবালয়ে ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় বর্মার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে শুভেচ্ছা সাক্ষাতের পর সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে এ মন্তব্য করেন।
নতুন অধ্যায়ের সূচনা
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করেন, "শেখ হাসিনার আমলে যে ধরনের সম্পর্ক বিদ্যমান ছিল, তা আর অব্যাহত থাকবে না। সেই অধ্যায় শেষ হয়েছে।" তিনি ব্যাখ্যা করেন যে, সরকার এখন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের একটি নতুন দিগন্তের সন্ধান করছে, যা পূর্ববর্তী সরকারের নীতির থেকে পৃথক হবে।
শক্তি খাতে সহযোগিতার ওপর জোর
আলোচনায় দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা শক্তিশালীকরণ, বিশেষ করে শক্তি খাতে সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানান হুমায়ুন কবির। তিনি বলেন, পাইপলাইনের মাধ্যমে ভারত থেকে ডিজেল আমদানি একটি অগ্রাধিকারমূলক বিষয় হিসেবে আলোচিত হয়েছে। এই পদক্ষেপটি উভয় দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক ও কৌশলগত সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
সমস্যা সমাধানে ইতিবাচক সম্পর্কের ভূমিকা
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা আরও যোগ করেন, "যদি ইতিবাচক সম্পর্ক বজায় রাখা যায়, তাহলে অনেক চ্যালেঞ্জ সমাধান করা সম্ভব। আমরা পাইপলাইনের মাধ্যমে শক্তি আমদানি এগিয়ে নেওয়া নিয়ে আশাবাদী।" তার মতে, এই সহযোগিতা কেবল অর্থনৈতিক সুবিধাই নয়, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাও নিশ্চিত করবে।
ভারত সফর ও সম্মেলনে অংশগ্রহণ
হুমায়ুন কবির জানান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল মঙ্গলবার ভারত সফরে যাচ্ছে আসন্ন ভারত মহাসাগর সম্মেলনে অংশ নিতে। এই সফরে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠকের পরিকল্পনা রয়েছে, যেখানে সীমান্ত হত্যাকাণ্ড ও অন্যান্য অমীমাংসিত বিষয়সহ গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক ইস্যুগুলো নিয়ে আলোচনা হবে।
আলোচনার সম্ভাব্য ফলাফল
এই বৈঠকগুলো থেকে যে ফলাফল আসতে পারে, তা সম্পর্কে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, "এই আলোচনাগুলো উভয় দেশের মধ্যে আস্থা ও সমঝোতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে। আমরা আশা করি, শক্তি ও নিরাপত্তা সহযোগিতার মাধ্যমে সম্পর্কের নতুন মাত্রা যোগ হবে।" এই প্রক্রিয়াটি বাংলাদেশের বৈদেশিক নীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সর্বোপরি, হুমায়ুন কবিরের বক্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, সরকার ভারতের সাথে সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি সক্রিয় ও গতিশীল নীতি গ্রহণ করতে চায়, যা আগের সরকারের সময়ের থেকে ভিন্ন হবে এবং নতুন সহযোগিতার সুযোগ সৃষ্টি করবে।



