পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের চীন সফর: দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা হবে
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান চলতি মাসের শেষ দিকে চীন সফরে যাচ্ছেন, যেখানে তিনি চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই-এর সঙ্গে বৈঠক করবেন। এই সফরের উদ্দেশ্য হলো বাংলাদেশ-চীন দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা এবং সহযোগিতা জোরদার করা।
সফরের প্রস্তুতি ও সৌজন্য সাক্ষাৎ
আজ রোববার ঢাকায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের একটি সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আসন্ন চীন সফরের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এটি দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর অভিনন্দন ও সহযোগিতার অঙ্গীকার
গত ১৭ ফেব্রুয়ারি খলিলুর রহমান বাংলাদেশের নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির পলিটব্যুরোর সদস্য ওয়াং ই তাঁকে অভিনন্দন জানিয়েছিলেন। অভিনন্দনবার্তায় ওয়াং ই উল্লেখ করেন যে, তিনি দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়নে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে কাজ করতে চান।
তিনি আরও বলেন, চীন-বাংলাদেশ ‘বিস্তৃত কৌশলগত অংশীদারত্বের’ সম্পর্ককে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন। ঢাকার সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে বেইজিংয়ের গুরুত্বের উল্লেখ করে ওয়াং ই বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা আরও গভীর করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
স্থগিত পররাষ্ট্রসচিবদের বৈঠক
এদিকে, চলতি মাসে বাংলাদেশ ও চীনের পররাষ্ট্রসচিবদের মধ্যে ঢাকায় একটি বৈঠক হওয়ার কথা থাকলেও একেবারে শেষ মুহূর্তে তা স্থগিত হয়ে যায়। ৩ এপ্রিল ঢাকায় দুই দেশের পররাষ্ট্রসচিবদের ১৪তম বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল, যেখানে চীনের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী সুন ওয়েইডংয়ের নেতৃত্ব দেওয়ার কথা ছিল।
কিন্তু তাঁকে পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রী করার ফলে চীনের পক্ষ থেকে বৈঠকটি স্থগিত করার অনুরোধ জানানো হয়। কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের বেইজিং সফরের আগে ঢাকায় দুই দেশের পররাষ্ট্রসচিবদের ওই বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা কম।
সফরের গুরুত্ব ও প্রত্যাশা
পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের এই সফর বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এটি দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির একটি সুযোগ তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে, নিম্নলিখিত বিষয়গুলো আলোচনায় আসতে পারে:
- দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি
- প্রযুক্তি ও অবকাঠামো খাতে সহযোগিতা
- আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিষয়ে সমন্বয়
এই সফরের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক আরও মজবুত হবে বলে আশা করা হচ্ছে, যা বাংলাদেশের উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।



