হরমুজ প্রণালি সচল করতে যুক্তরাজ্যের নেতৃত্বে ৪০ দেশের ঐক্য
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালি পুনরায় সচল করার লক্ষ্যে যুক্তরাজ্যের নেতৃত্বে একজোট হয়েছে ৪০টি দেশ। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) এই দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের নিয়ে আয়োজিত একটি ভার্চুয়াল সম্মেলনে প্রণালিটি খুলে দেওয়ার বিকল্প উপায়গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী দেশগুলো একটি যৌথ বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছে, যা হরমুজ প্রণালির অবরোধ দ্রুত তুলে নেওয়ার জন্য ইরানের প্রতি জোরালো দাবি জানায়।
ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর সমালোচনা ও গোপন বৈঠক
বৈঠকে অংশ নিয়ে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেট কুপার ইরানের কঠোর সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, 'হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ করে রাখা ইরানের একটি বেপরোয়া আচরণ, যা সরাসরি বৈশ্বিক অর্থনৈতিক নিরাপত্তাকে বাধাগ্রস্ত করছে।' ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই প্রারম্ভিক বক্তব্যের পর, বৈঠকের পরবর্তী অংশটি অত্যন্ত গোপনীয়তার সাথে রুদ্ধদ্বার কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়েছে, যা এই বিষয়ের গুরুত্ব ও সংবেদনশীলতা তুলে ধরে।
বৈশ্বিক বাণিজ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার
যৌথ বিবৃতিতে, এই ৪০টি দেশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে। বর্তমানে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি তেলসহ গুরুত্বপূর্ণ পণ্য পরিবহন বিঘ্নিত হওয়ায় বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা সংকটের মুখে পড়েছে। এই সংকট নিরসনে দেশগুলো কূটনৈতিক ও কৌশলগত চাপ তৈরির চেষ্টা করছে, যা বিশ্ব অর্থনীতির স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
যুক্তরাষ্ট্রের অনুপস্থিতি ও আন্তর্জাতিক প্রভাব
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বৈঠকে অন্যতম পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্রের কোনো উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়নি। এটি আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে একটি বড় প্রশ্ন তৈরি করেছে। হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে বিশ্বের প্রায় ২০% জ্বালানি তেল পরিবহন হয়, তাই এর অবরোধ বৈশ্বিক অর্থনীতিতে ব্যাপক প্রভাব ফেলতে পারে। এই ৪০ দেশের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা বিশ্বব্যাপী সমুদ্রপথের নিরাপত্তা ও বাণিজ্য প্রবাহ রক্ষায় একটি নতুন মাত্রা যোগ করেছে।



