ট্রাম্পের দাবি: ইসরায়েল যুদ্ধ থামাবে তার আদেশে, ইরানের শক্তি স্বীকার
ট্রাম্প: ইসরায়েল যুদ্ধ থামাবে তার আদেশে, ইরানের শক্তি স্বীকার

ট্রাম্পের দাবি: ইসরায়েল যুদ্ধ থামাবে তার আদেশে, ইরানের শক্তি স্বীকার

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি নতুন দাবি তুলে ধরেছেন যে ইসরায়েল যুদ্ধ বন্ধের বিষয়ে সম্পূর্ণভাবে তার আদেশ অনুসরণ করবে। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) টাইম ম্যাগাজিনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, ইসরায়েল একটি ভালো ‘টিম প্লেয়ার’ হিসেবে ভূমিকা রাখছে এবং তিনি থামলেই তারাও থেমে যাবে। তার মতে, যদি তারা উস্কানির শিকার না হয়, তবে তার সিদ্ধান্তের বাইরে যাওয়ার কোনো সুযোগ ইসরায়েলের নেই।

পূর্ববর্তী বক্তব্যের বিপরীত অবস্থান

ট্রাম্পের এই মন্তব্য গত মাসে দেওয়া তারই অন্য একটি বক্তব্যের সম্পূর্ণ বিপরীত, যেখানে তিনি বলেছিলেন যে যুদ্ধ শেষের সিদ্ধান্তটি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে ‘যৌথভাবে’ নেওয়া হবে। টাইম ম্যাগাজিনের প্রতিবেদনে জনৈক নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইসরায়েলি কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে যে, ট্রাম্পের সমর্থন ছাড়া এই মুহূর্তে নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক বা সামরিকভাবে কৌশলী হওয়ার খুব একটা জায়গা নেই

যুদ্ধ শুরুর গোপন পরিকল্পনা

প্রতিবেদনে আরও উন্মোচিত হয়েছে, গত ২৭ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধের শুরুর দিন ট্রাম্প প্রশাসনের তথাকথিত কিছু তথ্য ফাঁসের ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে অভিযান বাতিলের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ কর্মকর্তাদের নিয়ে সেই রাতেই হামলার চূড়ান্ত পরিকল্পনা সাজান তিনি। এই দীর্ঘ প্রতিবেদনে মূলত ট্রাম্প কীভাবে যুদ্ধে জড়ালেন এবং এখন যুক্তরাষ্ট্রে যুদ্ধের জনপ্রিয়তা কমে যাওয়ায় কীভাবে এর থেকে বেরিয়ে আসার পথ খুঁজছেন, তার একটি বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরা হয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

নেতানিয়াহুর প্ররোচনা ও ট্রাম্পের নিয়ন্ত্রণ

প্রতিবেদনে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর পক্ষ থেকে ট্রাম্পকে দীর্ঘস্থায়ী আক্রমণের জন্য ক্রমাগত প্ররোচিত করার বিষয়টিও উঠে এসেছে। ওয়াশিংটনে ট্রাম্পের সঙ্গে কয়েক ঘণ্টার এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে নেতানিয়াহু বলেছিলেন, ‘আমরা অনেক দূর এগিয়ে এসেছি ডোনাল্ড, আমাদের শুরু করা কাজটি শেষ করতে হবে।’ নেতানিয়াহু যুক্তি দিয়েছিলেন, তেহরান মূলত সময়ক্ষেপণ করছে এবং গোপনে পারমাণবিক বোমা তৈরির দৌড়ে লিপ্ট রয়েছে। তবে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যে ইসরায়েলের ওপর তার একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণের বিষয়টিই স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে, যা আন্তর্জাতিক মহলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

ইরানের শক্তি স্বীকার ও কূটনৈতিক সমাধানের ইঙ্গিত

ইরানের প্রতিরোধ ক্ষমতার বিষয়ে বিস্ময় প্রকাশ করে ট্রাম্প টাইম ম্যাগাজিনকে বলেন, ইরান অত্যন্ত ‘শক্তিশালী’ হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করেছে এবং প্রচণ্ড চাপের মুখেও তারা মাথা নত করেনি। তিনি স্বীকার করেন যে, চীনারা বা অন্য যে কেউ হোক না কেন, ইরানীরা চরম কষ্ট সহ্য করার ক্ষমতা রাখে এবং এই গুণের জন্য তিনি তাদের সম্মান করেন। ট্রাম্পের মতে, ইরানীরা যোদ্ধা হিসেবে যতটা দক্ষ, তার চেয়েও বড় দক্ষ তারা আলোচনার টেবিলে বা ‘নেগোশিয়েটর’ হিসেবে। যুদ্ধের এই পর্যায়ে ট্রাম্পের এমন মন্তব্য ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, তিনি হয়তো সামরিক শক্তির চেয়ে এখন রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সমাধানের দিকেই বেশি মনোযোগী হতে চাইছেন।