জ্বালানি সংকটে প্রতিবেশীদের পাশে ভারতের দৃঢ় অবস্থান
পশ্চিম এশিয়ার চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে সৃষ্ট জ্বালানি সংকটে প্রতিবেশী দেশগুলোর প্রতি ভারতের সহযোগিতামূলক হাত প্রসারিত রয়েছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল বৃহস্পতিবার এক সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোকপাত করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, ভারত শুধুমাত্র নিজেদের জ্বালানি চাহিদা পূরণেই নয়, বরং প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর প্রয়োজনে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিচ্ছে, যা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার সাথে দীর্ঘমেয়াদী সহযোগিতা
ব্রিফিংয়ে জ্বালানি সংকটে প্রতিবেশীদের সহায়তা সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে জয়সোয়াল স্পষ্টভাবে জানান, বাংলাদেশকে ভারত জ্বালানি সরবরাহ করছে ২০০৭ সাল থেকেই, এবং দুই দেশের মধ্যে এই বিষয়ে একটি শক্তিশালী বাণিজ্যিক বোঝাপড়া বিদ্যমান। এই সহযোগিতা বর্তমান সময়েও অব্যাহত রয়েছে, যা উভয় দেশের সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করছে। একইভাবে, শ্রীলঙ্কার জ্বালানি চাহিদা মেটাতে ভারত সম্প্রতি ৩৮ হাজার মেট্রিক টন পেট্রোপণ্য সরবরাহ করেছে, যা শ্রীলঙ্কা সরকারের অনুরোধে প্রদান করা হয়েছে। এছাড়াও, নেপাল ও ভুটানের সাথেও ভারতের জ্বালানি সহযোগিতা চালু রয়েছে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।
মালদ্বীপ, মরিশাস ও সেশেলশের সাথে যোগাযোগ
জয়সোয়াল আরও উল্লেখ করেন যে, মালদ্বীপ সরকার ভারতের কাছ থেকে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদে পেট্রোপণ্য সরবরাহের জন্য একটি আনুষ্ঠানিক অনুরোধ করেছে। ভারতীয় কর্তৃপক্ষ নিজেদের জ্বালানি মজুত ও চাহিদা বিবেচনা করে মালদ্বীপের এই অনুরোধটি সক্রিয়ভাবে পর্যালোচনা করছে। পাশাপাশি, জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে মরিশাস ও সেশেলশের সাথেও ভারত নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রেখেছে, যদিও এই দুই দেশ এখন পর্যন্ত জ্বালানি সরবরাহের জন্য কোনো নির্দিষ্ট অনুরোধ জানায়নি।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ভারত সফর ও অন্যান্য বিষয়
ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের আসন্ন ভারত সফর নিয়ে প্রশ্ন করা হলে জয়সোয়াল বলেন, সফরের বিস্তারিত তথ্য চূড়ান্ত হলে যথাসময়ে প্রকাশ করা হবে। এছাড়াও, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পাঠানো চিঠি সম্পর্কে ভারতের অবস্থান জানতে চাওয়া হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান, যা এই বিষয়ে ভারতের সতর্কতা নির্দেশ করে।
সামগ্রিকভাবে, ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই ঘোষণা আঞ্চলিক সহযোগিতা ও জ্বালানি নিরাপত্তার ক্ষেত্রে ভারতের অগ্রণী ভূমিকার প্রতিফলন ঘটায়, বিশেষ করে বর্তমান বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জের প্রেক্ষাপটে।



