সংযুক্ত আরব আমিরাতের নেতৃত্বের কাছে প্রধানমন্ত্রীর পত্র হস্তান্তর করলেন হুমায়ুন কবির
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ আবদুল্লাহ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষাৎ করেছেন। বুধবার (১ এপ্রিল) সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে তিনি দেশটির প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের কাছে পাঠানো প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের একটি ব্যক্তিগত পত্র হস্তান্তর করেন।
প্রধানমন্ত্রীর পত্রে সংহতি ও উদ্বেগ প্রকাশ
পত্রে প্রধানমন্ত্রী চলমান সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে সংযুক্ত আরব আমিরাতের নেতৃত্ব, সরকার ও ভ্রাতৃপ্রতিম জনগণের প্রতি বাংলাদেশের দৃঢ় সংহতি প্রকাশ করেন। তিনি দেশটিতে সাম্প্রতিক হামলা, প্রাণহানি, আহতের ঘটনা এবং সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ জানান। একইসঙ্গে, সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থানরত বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি প্রবাসীর নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে গৃহীত পদক্ষেপের জন্য দেশটির সরকারের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।
এছাড়াও, প্রধানমন্ত্রী সুবিধাজনক সময়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্টকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান, যা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও গতিশীল করতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রতিক্রিয়া
বৈঠককালে সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ আবদুল্লাহ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান ইরানের হামলায় দুইজন বাংলাদেশি নিহত হওয়ার ঘটনায় গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, তাদের সরকার দেশে অবস্থানরত সব মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। একইসঙ্গে, চলমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের সমর্থনের জন্য তিনি কৃতজ্ঞতা জানান, যা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারের অঙ্গীকার
এ সময় পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির সংযুক্ত আরব আমিরাতের নেতৃত্বের প্রশংসা করেন এবং বিরোধ নিষ্পত্তিতে সংলাপ ও কূটনৈতিক পন্থার গুরুত্ব তুলে ধরেন। আলোচনায় বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে বিদ্যমান চমৎকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিষয়টি গুরুত্ব পায় এবং উভয় পক্ষ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও জোরদার করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে।
প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত হিসেবে পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা বর্তমানে উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি দেশ সফর করছেন। এ সফরের মূল উদ্দেশ্য সংশ্লিষ্ট দেশের নেতৃত্বের কাছে প্রধানমন্ত্রীর বার্তা পৌঁছে দেওয়া এবং অঞ্চলের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পৃক্ততা আরও সুদৃঢ় করা, যা ভবিষ্যতে অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সুবিধা বয়ে আনতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।



