ইরান যুদ্ধে সহায়তা না পেয়ে ট্রাম্পের ন্যাটো জোটকে 'কাগুজে বাঘ' অভিহিত
ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযানে ইউরোপীয় মিত্রদের সক্রিয় সমর্থন না পেয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ন্যাটো জোটের কঠোর সমালোচনা করেছেন। গতকাল বুধবার এক ব্যক্তিগত মধ্যাহ্নভোজে তিনি ন্যাটো জোটকে 'কাগুজে বাঘ' হিসেবে অভিহিত করেন, যা আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
মাখোঁর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে ট্রাম্পের বিদ্রূপাত্মক মন্তব্য
মধ্যাহ্নভোজের এক পর্যায়ে ট্রাম্প রসিকতাচ্ছলে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ ও তার স্ত্রী ব্রিজিতের সম্পর্ক নিয়ে কথা বলেন। ট্রাম্প ইঙ্গিত করেন যে, মাখোঁ তার স্ত্রীর হাতে 'শারীরিক লাঞ্ছনার' শিকার হয়েছেন। ২০২৫ সালের মে মাসে ভিয়েতনাম সফরের সময় একটি ভাইরাল ভিডিওর সূত্র ধরে ট্রাম্প বলেন, 'আমি মাখোঁকে ডেকেছিলাম, যার স্ত্রী তার সাথে দুর্ব্যবহার করে।' তিনি আরও দাবি করেন, মাখোঁর চোয়ালে তার স্ত্রীর আঘাতের চিহ্ন এখনো রয়ে গেছে। যদিও ফরাসি প্রেসিডেন্ট এর আগে বিষয়টিকে 'ভুল বোঝাবুঝি' বলে এড়িয়ে গিয়েছিলেন।
হরমুজ প্রণালী সুরক্ষায় ফ্রান্স-যুক্তরাজ্যের অস্বীকৃতি
হরমুজ প্রণালী সুরক্ষিত করতে ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের কাছে সামরিক সহায়তা চেয়েও ব্যর্থ হয়েছেন ট্রাম্প। তিনি মাখোঁর কণ্ঠ অনুকরণ করে বিদ্রূপ করে বলেন, ফরাসি প্রেসিডেন্ট যুদ্ধে জয়ের আগে জাহাজ পাঠাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। এর জবাবে ট্রাম্প বলেন, 'যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর আর তোমাদের সহায়তার প্রয়োজন পড়বে না, ইমানুয়েল।' ট্রাম্পের এই বক্তব্য স্পষ্ট করে দেয় যে, ওয়াশিংটন ও প্যারিসের মধ্যকার কূটনৈতিক দূরত্ব এখন চরমে পৌঁছেছে।
ন্যাটোর ভবিষ্যৎ নিয়ে মার্কিন হুঁশিয়ারি
ট্রাম্প ন্যাটোর সমালোচনা করে বলেন, বড় ধরনের বিপর্যয়েও এই জোট যুক্তরাষ্ট্রের পাশে দাঁড়াবে না। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ইতোমধ্যেই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, ইরান যুদ্ধের পর ন্যাটোর সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্বিবেচনা করবে যুক্তরাষ্ট্র। ট্রাম্প প্রশাসনের এই অবস্থান আটলান্টিক পাড়ের দীর্ঘদিনের সামরিক জোটের অস্তিত্বকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।
উল্লেখ্য, হোয়াইট হাউসের ইউটিউব চ্যানেলে এই মধ্যাহ্নভোজের ভিডিওটি আপলোড করা হলেও কিছুক্ষণের মধ্যেই তা সরিয়ে নেওয়া হয়, যা ঘটনাটির গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। এই ঘটনা আন্তর্জাতিক সম্পর্কে নতুন করে উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে এবং ভবিষ্যতে ন্যাটো জোটের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক তীব্রতর হতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।



