যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি বাতিলের দাবিতে সিপিবির তীব্র প্রতিবাদ
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পাদিত বাণিজ্য চুক্তি অবিলম্বে বাতিলের দাবি জানিয়েছে। দলটি স্পষ্ট ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, চুক্তিটি বাতিল না করলে তারা তীব্র গণআন্দোলন গড়ে তুলবে। এই অবস্থানটি প্রকাশিত হয়েছে ঢাকা মহানগর উত্তরের উদ্যোগে দক্ষিণ বাড্ডায় আয়োজিত একটি পথসভায়, যেখানে দলের নেতৃবৃন্দ চুক্তিটির বিরুদ্ধে জোরালো কণ্ঠ তুলেছেন।
পথসভায় নেতাদের বক্তব্য ও কর্মসূচির ঘোষণা
বুধবার (১ এপ্রিল) দক্ষিণ বাড্ডায় অনুষ্ঠিত পথসভায় সভাপতিত্ব করেন সিপিবির ঢাকা মহানগর উত্তরের সদস্য ও বাড্ডা শাখার সম্পাদক শান্তনু কুমার দাস। বাড্ডা শাখার সদস্য করিম শিকদারের সঞ্চালনায় এই সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি হাসান হাফিজুর রহমান সোহেল, সাধারণ সম্পাদক লুনা নূর, সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য লাকী আক্তার, মোতালেব হোসেন, শ্যামল বিশ্বাস এবং কল্লোল বণিক।
সিপিবি ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি কমরেড হাসান হাফিজুর রহমান সোহেল তার বক্তব্যে বলেন, "এই চুক্তি যদি বাতিল না করা হয়, সিপিবি তীব্র গণআন্দোলন গড়ে তুলবে।" তিনি উল্লেখ করেন যে ইতোমধ্যেই সারা দেশে এই চুক্তির বিরুদ্ধে তীব্র বিরোধিতা দেখা যাচ্ছে। দলের উদ্যোগে ঢাকা মহানগর উত্তরে মাসব্যাপী কর্মসূচি চলবে বলে জানানো হয়, যার অংশ হিসেবে ২ এপ্রিল হাতিরঝিল মধুবাগ মাঠে আরেকটি পথসভার আয়োজন করা হবে।
চুক্তির বিরুদ্ধে নেতাদের অভিযোগ ও উদ্বেগ
সিপিবি ঢাকা মহানগর উত্তরের সাধারণ সম্পাদক লুনা নূর তার বক্তব্যে চুক্তিটি সম্পাদনের প্রক্রিয়ার তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, "অনির্বাচিত সরকারের কোনও অধিকার ছিল না এমন চুক্তি করার। তাদের মেটিকুলাস প্লানের শেষ পেরেক ছিল আমেরিকার সাথে অতিশয় গোপন বাণিজ্য চুক্তি।" তিনি আরও যোগ করেন যে তথাকথিত বাংলাদেশপন্থীরা সংসদে বাণিজ্য চুক্তি বাতিলের দাবিতে কোনও কথা বলছেন না, যা একটি উদ্বেগজনক বিষয়।
সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য লাকী আক্তার চুক্তিটিকে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের জন্য মারাত্মক হুমকি হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, "এই চুক্তি বাংলাদেশকে আমেরিকার কলোনিতে পরিণত করবে। বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব আর থাকবে না।" তার মতে, চুক্তির ফলে বাংলাদেশের শিল্প ও কৃষি খাত ভয়াবহ বিপর্যয়ের মধ্যে পড়বে এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও রাজনৈতিক অবস্থানে বাংলাদেশকে আমেরিকাকে সমর্থন করতে বাধ্য করা হবে।
অন্যদিকে, সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য মোতালেব হোসেন চুক্তিটিকে বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থবিরোধী হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি দেশপ্রেমিক জনগণকে এই চুক্তির বিরুদ্ধে রাজপথে নামার আহ্বান জানান। সমাবেশে বক্তারা বাণিজ্য চুক্তি বাতিলের দাবিতে মাসব্যাপী সিপিবির কর্মসূচি সফল করার জন্য সকলের সমর্থন কামনা করেন।
চুক্তি বাতিলের দাবিতে চলমান আন্দোলনের সম্ভাবনা
সিপিবির এই পথসভা ও ঘোষণা ইঙ্গিত দেয় যে দলটি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির বিরুদ্ধে একটি ব্যাপক আন্দোলন গড়ে তুলতে প্রস্তুত। নেতাদের বক্তব্যে চুক্তিটিকে গোপনীয়, অনির্বাচিত সরকারের স্বেচ্ছাচারী সিদ্ধান্ত এবং বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক স্বাধীনতার জন্য হুমকি হিসেবে চিত্রিত করা হয়েছে। মাসব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে আরও পথসভা ও সমাবেশের আয়োজন করা হবে, যা সম্ভাব্য গণআন্দোলনের সূচনা হতে পারে।
এই পরিস্থিতিতে সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি চুক্তিটি পুনর্বিবেচনা করার আহ্বান জানানো হচ্ছে, অন্যথায় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন উত্তেজনার সৃষ্টি হতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মত প্রকাশ করছেন। সিপিবির এই পদক্ষেপ বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিতর্কে একটি উল্লেখযোগ্য মাত্রা যোগ করেছে, যা আগামী দিনগুলিতে আরও তীব্র আকার ধারণ করতে পারে।



