ভারত সরকারের পক্ষ থেকে ১৯৭১ সালে ‘অপারেশন সার্চলাইট’ চলাকালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে সংঘটিত গণহত্যা ও নৃশংসতার বিষয়টি আবারও তুলে ধরা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) নিয়মিত সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এই মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, পাকিস্তান আজও সেই গণহত্যার দায় অস্বীকার করে চলেছে।
ভারতের কঠোর বক্তব্য
রণধীর জয়সওয়াল স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করেন, ‘১৯৭১ সালে অপারেশন সার্চলাইট চলাকালে পাকিস্তান কর্তৃক সংঘটিত ভয়াবহ নৃশংসতা সম্পর্কে আমরা সবাই অবগত। এই গণহত্যায় লক্ষ লক্ষ নিরীহ বাংলাদেশি মানুষকে পরিকল্পিতভাবে লক্ষ্য করে হত্যা করা হয়েছিল।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘নারীদের ওপর ব্যাপক আকারে যৌন অপরাধ সংঘটিত হয়েছিল, যা বিশ্ববাসীর বিবেককে নাড়া দিয়েছিল।’
শরণার্থী সংকটের প্রসঙ্গ
ভারতের মুখপাত্র আরও বলেন, পাকিস্তানি বাহিনীর সেই বর্বরতার ফলে লক্ষ লক্ষ মানুষ জীবন বাঁচাতে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছিল। এই ঘটনা শুধু বাংলাদেশের ইতিহাসেই নয়, বিশ্ব মানবতার জন্যও একটি কালো অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত।
পাকিস্তানের দায় অস্বীকার
রণধীর জয়সওয়ালের বক্তব্যে অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, পাকিস্তান আজও তাদের সেই অপরাধের কথা অস্বীকার করে চলেছে। এই অস্বীকার বাংলাদেশের মানুষের জন্য ন্যায়বিচারের পথে একটি বড় বাধা হিসেবে দেখা দিচ্ছে।
বাংলাদেশের প্রতি সমর্থন
ন্যায়বিচারের দাবিতে বাংলাদেশের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে ভারতের মুখপাত্র বলেন, ‘আমরা ন্যায়বিচারের জন্য বাংলাদেশের আকাঙ্ক্ষাকে সমর্থন করি।’ এই সমর্থন বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের দাবিকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও শক্তিশালী করতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
১৯৭১ সালের গণহত্যার ইতিহাস বারবার আলোচনায় আসলেও পাকিস্তানের অস্বীকারের মনোভাব এখনও অব্যাহত রয়েছে। ভারতের এই সমর্থন বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।



