দিল্লিতে বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস উদযাপন: সম্পর্ক জোরদারে জোরালো অঙ্গীকার
নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের উদ্যোগে বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবসের বিশেষ অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়েছে। ২৬শে মার্চ বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহর বাসভবনে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন এবং বাংলাদেশ-ভারতের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন।
ভারতের অবদানের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা
স্বাগত বক্তব্যে বাংলাদেশের হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহ মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতের অবদানের কথা গভীর কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য ভারতীয় সেনা ও সাধারণ মানুষের আত্মত্যাগ ইতিহাসে অম্লান হয়ে থাকবে। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মানুষের অবদান উল্লেখ করে তিনি জানান, এই আত্মত্যাগ দুই দেশের সম্পর্কের ভিত্তিকে আরও মজবুত করেছে।
ভারতের আগ্রহ ও ইতিবাচক সংকেত
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ভারতের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কীর্তি বর্ধন সিং জানান, বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে কাজ করে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও বিস্তৃত করতে আগ্রহী ভারত। হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহ সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জানাজায় ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের উপস্থিতি এবং প্রধানমন্ত্রীর শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা ও পররাষ্ট্রসচিব বিক্রম মিশ্রির উপস্থিতির উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এসব সফর দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ইতিবাচকতার ইঙ্গিত বহন করছে।
সাংস্কৃতিক বন্ধন ও ঐতিহাসিক অবদান
দুই দেশের সাংস্কৃতিক বন্ধনের প্রসঙ্গ তুলে ধরে হাইকমিশনার রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলামের পাশাপাশি আরও বেশ কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বের অবদানের কথা স্মরণ করেন।
- সত্যজিৎ রায় ও ঋত্বিক ঘটকের চলচ্চিত্র
- প্রফুল্লচন্দ্র রায় ও সত্যেন বোসের বৈজ্ঞানিক অবদান
- ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ ও পণ্ডিত রবিশঙ্করের সঙ্গীত
তিনি বিশেষভাবে ‘কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’-এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মুক্তিযুদ্ধের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণের বিষয়টিও তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানের উৎসবমুখর পরিবেশ
নয়াদিল্লিতে হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহর বাসভবনে স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠান ঘিরে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। আলোকসজ্জা, রেড কার্পেট সংবর্ধনা ও সংক্ষিপ্ত আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে অতিথিদের স্বাগত জানানো হয়। দুই দেশের জাতীয় সংগীত পরিবেশনের পর শুরু হয় মূল পর্ব। সান্ধ্য আয়োজনটি আরও প্রাণবন্ত করে তোলে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও আপ্যায়ন। অতিথিদের জন্য পরিবেশন করা হয় বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী কাচ্চি বিরায়ানি, যা ছিল অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ।
উপস্থিত বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ভারতের সাবেক কংগ্রেস নেতা মণিশঙ্কর আয়ার, বিজেপি সরকারের সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও সাংবাদিক এম জে আকবর, পররাষ্ট্রসচিব বিক্রম মিশ্রি ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল। এছাড়াও ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের তিন সাবেক হাইকমিশনার দেব মুখোপাধ্যায়, পিনাকরঞ্জন চক্রবর্তী ও রীভা গাঙ্গুলি দাশ সহ বিশিষ্ট ব্যক্তি এবং বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরা অংশগ্রহণ করেন।
বিশ্লেষকদের মতামত ও ভবিষ্যৎ কৌশল
বিশ্লেষকদের মতে, রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে এই ধরনের কূটনৈতিক আয়োজন দুই দেশের পারস্পরিক আস্থা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। নতুন বাস্তবতায় সম্পর্ককে এগিয়ে নিতে ধীর ও স্থিতিশীল কৌশলই সবচেয়ে কার্যকর হতে পারে বলেও মত প্রকাশ করেন তারা। হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহ ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতির উল্লেখ করে বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভারতসহ সব দেশের সঙ্গে পারস্পরিক সম্মান, বাস্তব পরিস্থিতি ও পারস্পরিক স্বার্থ–সম্পর্কিত অংশীদারত্ব বজায় রাখার ওপর জোর দিয়েছেন।



