ইরানের অভিযোগ: পারস্য উপসাগরীয় নাগরিকদের 'মানব ঢাল' বানাচ্ছে মার্কিন সেনারা
ইরানের অভিযোগ: মার্কিন সেনারা মানব ঢাল ব্যবহার করছে

ইরানের তীব্র অভিযোগ: পারস্য উপসাগরীয় নাগরিকদের 'মানব ঢাল' হিসেবে ব্যবহার করছে মার্কিন সেনারা

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি একটি গুরুতর অভিযোগ উত্থাপন করেছেন, যেখানে তিনি দাবি করেছেন যে চলমান ইরান-ইসরাইল ও মার্কিন যুদ্ধের মধ্যে পারস্য উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) দেশগুলোতে অবস্থানরত মার্কিন সামরিক কর্মীরা স্থানীয় নাগরিকদের 'মানব ঢাল' হিসেবে ব্যবহার করছেন। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই তীব্র সমালোচনা প্রকাশ করেন, যা আন্তর্জাতিক মহলে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

মার্কিন সেনাদের হোটেলে অবস্থান ও নিরাপত্তা ঝুঁকি

আরাগচি তার পোস্টে দাবি করেন, যুদ্ধের শুরু থেকেই মার্কিন সেনারা জিসিসিভুক্ত দেশগুলোর সামরিক ঘাঁটি ছেড়ে বিভিন্ন হোটেল ও বাণিজ্যিক দপ্তরে আশ্রয় নিয়েছেন। এই পদক্ষেপ ওই অঞ্চলের সাধারণ মানুষের জীবনকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি মার্কিন সেনাদের হোটেলে অবস্থানের বিভিন্ন সংবাদপত্রের কাটিং ও ছবি যুক্ত করে জানান, যুক্তরাষ্ট্রে অনেক হোটেল কর্তৃপক্ষ তাদের নিয়মিত গ্রাহকদের নিরাপত্তার স্বার্থে এমন সামরিক কর্মকর্তাদের বুকিং বাতিল করছে, যারা অন্যদের বিপদে ফেলতে পারে।

ইরানের শীর্ষ এই কূটনীতিক পরামর্শ দিয়ে বলেন, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের হোটেলগুলোরও উচিত নিজেদের নাগরিকদের সুরক্ষায় একই ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা। তার এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এবং বেশ কয়েকজন উর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তাকে হত্যার পর মধ্যপ্রাচ্যে এক নজিরবিহীন যুদ্ধ শুরু হয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

যুদ্ধের প্রেক্ষাপট ও ইরানের পাল্টা হামলা

ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের জবাবে ইরান ইতিমধ্যে অধিকৃত অঞ্চল এবং আঞ্চলিক মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে দফায় দফায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। ইরানের দাবি অনুযায়ী, মার্কিন সেনারা ইরানের সম্ভাব্য পাল্টা হামলা থেকে বাঁচতেই সাধারণ মানুষের জনাকীর্ণ স্থানে লুকিয়ে থাকছে। এই সংঘাতের ফলে ইরানের সামরিক ও বেসামরিক উভয় খাতের অবকাঠামোয় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং প্রাণ হারিয়েছেন অসংখ্য মানুষ, যা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলেছে।

আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতিতে প্রভাব

আরাগচির এই নতুন অভিযোগ আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতিতে এবং জিসিসিভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সম্পর্কে নতুন করে টানাপোড়েন সৃষ্টি করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই অভিযোগ পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা গতিশীলতাকে প্রভাবিত করতে পারে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মনোযোগ আকর্ষণ করবে। ইরানের এই অবস্থান যুদ্ধবিরতি ও কূটনৈতিক সমাধানের দিকে অগ্রসর হওয়ার আহ্বানকে জোরদার করতে পারে, তবে বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল ও উত্তেজনাপূর্ণ রয়ে গেছে।