বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক: কঠিন বিষয়ে খোলামেলা আলোচনার আহ্বান হাইকমিশনারের
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিদ্যমান সম্পর্কের কঠিন ও স্পর্শকাতর বিষয়গুলো আর এড়িয়ে না গিয়ে খোলামেলা এবং আন্তরিক আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের ওপর জোর দিয়েছেন ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহ। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনে বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে তিনি এসব গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন।
কূটনৈতিক সৌজন্যের বাইরে বাস্তবসম্মত সহযোগিতা
হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহ স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করেন যে, দুই দেশের সম্পর্ক কেবল কূটনৈতিক সৌজন্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বাণিজ্য, নিরাপত্তা ও প্রাকৃতিক সম্পদের ন্যায্য বণ্টনের মতো মৌলিক বিষয়গুলোতে বাস্তবসম্মত গুরুত্ব দেওয়া অত্যন্ত প্রয়োজন। তিনি বলেন, "আমাদের এমন একটি সম্পর্ক গড়ে তোলা প্রয়োজন, যেখানে কেউ এগিয়ে আর কেউ পিছিয়ে থাকবে না, বরং পারস্পরিক সম্মান, ভারসাম্য ও নির্ভরশীলতার ভিত্তিতে দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতা নিশ্চিত হবে।"
গণতন্ত্র ও উন্নয়নে অভিন্ন লক্ষ্য
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কের ভিত্তি হলো গণতন্ত্রে আস্থা, উন্নয়নের অভিন্ন লক্ষ্য এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার প্রয়োজন। তাই কঠিন বিষয়গুলো পাশ কাটিয়ে নয়, বরং সৎভাবে মোকাবিলা করেই এগোতে হবে। এই প্রসঙ্গে তিনি জোর দিয়ে বলেন, "কঠিন বিষয়গুলো পাশ কাটানো নয়, বরং সৎভাবে মোকাবিলা করেই এগোতে হবে।"
মুক্তিযুদ্ধে ভারতের ভূমিকার প্রতি কৃতজ্ঞতা
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতের জনগণের অবদানের কথাও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে উল্লেখ করেন রিয়াজ হামিদুল্লাহ। তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা ও উত্তর-পূর্ব ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের অকুণ্ঠ সহায়তা, আশ্রয় ও সমর্থন বাংলাদেশের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে আছে। এই ঐতিহাসিক বন্ধন দুই দেশের সম্পর্ককে আরও মজবুত করার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।
এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দুই দেশের কূটনৈতিক, সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা, যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবসের এই শুভ উপলক্ষে একত্রিত হয়েছিলেন। হাইকমিশনারের এই বক্তব্য দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান সম্পর্কের গভীরতা ও সম্ভাবনাকে নতুন করে আলোচনায় নিয়ে এসেছে।



